১
ইসলামের ইতিহাস ১ম খণ্ড
লেখকঃ মাওলানা আকবর শাহ খান নজিববাদী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৯৯
আবু তালিব সকাশে কুরায়শ প্রতিনিধি দল
উতবার প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়ে গেলে উতবা, শায়বা, আবুল বুখতারী, আসওয়াদ, ওয়ালীদ, আবূ জাহেল প্রমুখের একটি প্রতিনিধি দল আবূ তালিব সকাশে উপস্থিত হয়ে অনুযোগ করলো, আপনার ভাতিজা আমাদের দেব-দেবীকে মন্দ বলা থেকে বিরত হতে অনিচ্ছুক। আপনি তাকে একটু বুঝিয়ে-সুঝিয়ে বলুন এবং এ কাজ থেকে তাকে বিরত করুন।
আবু তালিব এ প্রতিনিধি দলকে সঙ্গত জবাব দেন। তিনি তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বললেন যে, তোমরাও তো নির্যাতনের ক্ষেত্রে সীমালঙ্ঘন করে চলেছো। সেদিনের মতো তারা আবূ তালিবের কাছ থেকে উঠে চলে গেলো। পরদিন শলা-পরামর্শ করে তারা আবার এসে হাযির হলো। আবূ তালিব তাদের আসার পর হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)-কে তাদের সম্মুখেই ডেকে আনলেন। তার উপস্থিতিতেই কথোপকথন শুরু হলো। কুরায়শ সরদাররা উত্বার মাধ্যমে প্রেরিত তাদের প্রস্তাব পুনরায় পেশ করলো। পূর্বে এ প্রস্তাব উত্বা একা এসে পেশ করেছিলো।
তারা বললো : মুহাম্মদ (সাঃ)! আপনাকে কয়েকটি জরুরী কথা বলার জন্য ডাকা হয়েছে। আল্লাহর কসম, কোন ব্যক্তি তার নিজের কওমকে এতটুকু বিপদে ফেলেনি, যতটুকু বিপদে আপনি আপনার কওমকেই ফেলেছেন। যদি আপনি এ নতুন ধর্ম দিয়ে ধন-সম্পদ উপার্জনে আগ্রহী হন, তবে আমরা এত ধন-সম্পদ আপনার জন্য সংগ্রহ করে দেবো যে, আর কারো কাছে এতো সম্পদ থাকবে না। যদি মান-মর্যাদার খায়েশ হয়ে থাকে, তবে আমরা আপনাকে এখনই আমাদের সরদার স্বীকার করে নিচ্ছি। যদি রাজত্বই এর দ্বারা আপনার কাম্য হয়, তবে আমরা আপনাকে সমগ্র আরবের বাদশাহ মেনে নিতে প্রস্তুত। যদি কোন জিনভূতের আছরের জন্যে আপনি এরূপ করে থাকেন, তবে আমরা ওঝা-বদ্যি ডেকে চিকিৎসা করাবো।
তিনি তাদের এসব বক্তব্যের জবাবে কুরআন শরীফের কয়েকটি আয়াত তিলাওয়াত করলেন। তারপর বললেন : আল্লাহ্ তা‘আলা আমাকে তোমাদের নিকট রাসূলরূপে প্রেরণ করেছেন। আমি আল্লাহ তা‘আলার পয়গাম তোমাদের নিকট পৌঁছিয়ে দিয়েছি। যদি তোমরা আমার শিক্ষাগুলো গ্রহণ করে নাও, তবে তোমাদের দীন-দুনিয়ার কল্যাণ হবে, আর যদি তোমরা তা প্রত্যাখ্যানই করো, তবে আমি তোমাদের ব্যাপারে তার ফায়সালা কি হয় তা দেখার জন্যে অপেক্ষা করবো।
তাঁর এ কথা শুনে কাফিররা বলে উঠলো, আচ্ছা, যদি আপনি আল্লাহর রাসূলই হয়ে থাকেন তাহলে আপনি এ পাহাড়গুলোকে তাদের স্থান থেকে সরিয়ে দিন এবং মরুভূমিকে শস্য-শ্যামল করে তুলুন তো দেখি! আমাদের বাপ-দাদাদেরকে পুনর্জীবিত করে দেন। তাদের মধ্য থেকে কুসাই ইব্ন কিলাবকে অবশ্যই উঠাতে হবে। তিনি যদি পুনর্জীবিত হয়ে আপনাকে রাসূলরূপে সনাক্ত করেন, তাহলে আমরা আপনাকে রাসূলরূপ স্বীকার করে নেবো।
জবাবে রাসূলুল্লাহ (সাঃ) তাদেরকে বললেন : এসব কাজের জন্যে আমাকে রাসূলরূপে প্রেরণ করা হয়নি। আমার কাজ হলো, আমার প্রতি নাযিলকৃত আল্লাহ তা‘আলার বিধান আমি তোমাদেরকে শুনিয়ে দেবো এবং উত্তমরূপে তা বুঝিয়ে দেবো। নিজ এখতিয়ারে আমি কিছুই করতে সক্ষম নই।”
এরূপ কথোপকথনের পর কুরায়শ সরদার অত্যন্ত ক্রুদ্ধ ও উত্তেজিত হয়ে উঠে চলে গেলো। যাবার সময় তারা আবূ তালিবকেও মুকাবিলা ও বিরোধিতার জন্য চ্যালেঞ্জ দিয়ে গেলো।
কুরায়শ সরদারের প্রস্থানের পর আবূ তালিব হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)-কে লক্ষ্য করে বললেন : “ভাতিজা, আমি এখন বৃদ্ধ হয়ে গিয়েছি। কুরায়শদের মুকাবিলা করার মতো শক্তি এখন আর নিজের মধ্যে খুঁজে পাচ্ছি না। এমন শক্ত বোঝা তুমি কাঁধে চাপিয়ে দিও না, যা বহন করার শক্তি-সামর্থ্য তোমার এ দুর্বল চাচার নেই। তোমার দীনের প্রচার এবং দেবমূর্তিসমূহের প্রকাশ্য সমালোচনা তোমার ছেড়ে দেয়াটাই সমীচীন বলে আমি মনে করি। সব শুনে তিনি বললেন : “চাচাজান! এরা যদি আমার ডান হাতে সূর্য এবং বাম হাতে চন্দ্রও তুলে দেয় তবুও আমি আমার কাজ থেকে বিরত হবো না।” আবূ তালিবের কথায় তার সন্দেহ হলো, এবার চাচাও বুঝি আমাকে সাহায্য করা থেকে হাত গুটিয়ে নেবেন। আবূ তালিব মক্কার কুরায়শ সরদারদের মধ্যে সর্বাধিক সম্মানিত ব্যক্তিত্ব ছিলেন। বনূ হাশিম কবীলার সর্বজনশ্রদ্ধেয় নেতা বলে তিনি গণ্য হতেন। তার কারণে আক্রমণকারীরা তার উপর আক্রমণ করতে অনেকটা দ্বিধাবোধ করতো। তাদের আশঙ্কা ছিলো, বনূ হাশিম কবীলার সকলে মিলে যদি হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)-এর পক্ষে দাঁড়িয়ে যায়, তাহলে ব্যাপারটা বেশ সঙ্গীন ও নাযুক হয়ে দাঁড়াবে। তাই আবূ তালিবের সমর্থন তাঁর জন্যে বেশ সহায়কই ছিলো। এবার তার এ নৈরাশ্যব্যঞ্জক বক্তব্য শুনে তিনি অত্যন্ত মর্মাহত হলেন। অশ্রুসজল কণ্ঠে তিনি বললেন : চাচাজান! আমি আমার কাজ ত্যাগ করবো না যতক্ষণ না আল্লাহ্র কাজ পূর্ণ হয়, কিংবা এই কাজ করতে করতে আমি নিজেই কুরবান হয়ে যাই।—একথা বলেই তিনি আবূ তালিবের নিকট থেকে নিষ্ক্রান্ত হলেন।
দৃঢ়চেতা ইয়াতীম ভাতিজাটির কথায় আবূ তালিব অভিভূত হয়ে পড়লেন। তিনি তাঁকে ফিরিয়ে এনে বললেন : তুমি অবশ্যই তোমার কাজ চালিয়ে যাবে। আমি যতদিন বেঁচে থাকি ততদিন আমি তোমাকে সাহায্য করেই যাবো এবং কোনদিনই তোমাকে শত্রুদের হাতে তুলে দেবো না।
আবু তালিব এ প্রতিনিধি দলকে সঙ্গত জবাব দেন। তিনি তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বললেন যে, তোমরাও তো নির্যাতনের ক্ষেত্রে সীমালঙ্ঘন করে চলেছো। সেদিনের মতো তারা আবূ তালিবের কাছ থেকে উঠে চলে গেলো। পরদিন শলা-পরামর্শ করে তারা আবার এসে হাযির হলো। আবূ তালিব তাদের আসার পর হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)-কে তাদের সম্মুখেই ডেকে আনলেন। তার উপস্থিতিতেই কথোপকথন শুরু হলো। কুরায়শ সরদাররা উত্বার মাধ্যমে প্রেরিত তাদের প্রস্তাব পুনরায় পেশ করলো। পূর্বে এ প্রস্তাব উত্বা একা এসে পেশ করেছিলো।
তারা বললো : মুহাম্মদ (সাঃ)! আপনাকে কয়েকটি জরুরী কথা বলার জন্য ডাকা হয়েছে। আল্লাহর কসম, কোন ব্যক্তি তার নিজের কওমকে এতটুকু বিপদে ফেলেনি, যতটুকু বিপদে আপনি আপনার কওমকেই ফেলেছেন। যদি আপনি এ নতুন ধর্ম দিয়ে ধন-সম্পদ উপার্জনে আগ্রহী হন, তবে আমরা এত ধন-সম্পদ আপনার জন্য সংগ্রহ করে দেবো যে, আর কারো কাছে এতো সম্পদ থাকবে না। যদি মান-মর্যাদার খায়েশ হয়ে থাকে, তবে আমরা আপনাকে এখনই আমাদের সরদার স্বীকার করে নিচ্ছি। যদি রাজত্বই এর দ্বারা আপনার কাম্য হয়, তবে আমরা আপনাকে সমগ্র আরবের বাদশাহ মেনে নিতে প্রস্তুত। যদি কোন জিনভূতের আছরের জন্যে আপনি এরূপ করে থাকেন, তবে আমরা ওঝা-বদ্যি ডেকে চিকিৎসা করাবো।
তিনি তাদের এসব বক্তব্যের জবাবে কুরআন শরীফের কয়েকটি আয়াত তিলাওয়াত করলেন। তারপর বললেন : আল্লাহ্ তা‘আলা আমাকে তোমাদের নিকট রাসূলরূপে প্রেরণ করেছেন। আমি আল্লাহ তা‘আলার পয়গাম তোমাদের নিকট পৌঁছিয়ে দিয়েছি। যদি তোমরা আমার শিক্ষাগুলো গ্রহণ করে নাও, তবে তোমাদের দীন-দুনিয়ার কল্যাণ হবে, আর যদি তোমরা তা প্রত্যাখ্যানই করো, তবে আমি তোমাদের ব্যাপারে তার ফায়সালা কি হয় তা দেখার জন্যে অপেক্ষা করবো।
তাঁর এ কথা শুনে কাফিররা বলে উঠলো, আচ্ছা, যদি আপনি আল্লাহর রাসূলই হয়ে থাকেন তাহলে আপনি এ পাহাড়গুলোকে তাদের স্থান থেকে সরিয়ে দিন এবং মরুভূমিকে শস্য-শ্যামল করে তুলুন তো দেখি! আমাদের বাপ-দাদাদেরকে পুনর্জীবিত করে দেন। তাদের মধ্য থেকে কুসাই ইব্ন কিলাবকে অবশ্যই উঠাতে হবে। তিনি যদি পুনর্জীবিত হয়ে আপনাকে রাসূলরূপে সনাক্ত করেন, তাহলে আমরা আপনাকে রাসূলরূপ স্বীকার করে নেবো।
জবাবে রাসূলুল্লাহ (সাঃ) তাদেরকে বললেন : এসব কাজের জন্যে আমাকে রাসূলরূপে প্রেরণ করা হয়নি। আমার কাজ হলো, আমার প্রতি নাযিলকৃত আল্লাহ তা‘আলার বিধান আমি তোমাদেরকে শুনিয়ে দেবো এবং উত্তমরূপে তা বুঝিয়ে দেবো। নিজ এখতিয়ারে আমি কিছুই করতে সক্ষম নই।”
এরূপ কথোপকথনের পর কুরায়শ সরদার অত্যন্ত ক্রুদ্ধ ও উত্তেজিত হয়ে উঠে চলে গেলো। যাবার সময় তারা আবূ তালিবকেও মুকাবিলা ও বিরোধিতার জন্য চ্যালেঞ্জ দিয়ে গেলো।
কুরায়শ সরদারের প্রস্থানের পর আবূ তালিব হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)-কে লক্ষ্য করে বললেন : “ভাতিজা, আমি এখন বৃদ্ধ হয়ে গিয়েছি। কুরায়শদের মুকাবিলা করার মতো শক্তি এখন আর নিজের মধ্যে খুঁজে পাচ্ছি না। এমন শক্ত বোঝা তুমি কাঁধে চাপিয়ে দিও না, যা বহন করার শক্তি-সামর্থ্য তোমার এ দুর্বল চাচার নেই। তোমার দীনের প্রচার এবং দেবমূর্তিসমূহের প্রকাশ্য সমালোচনা তোমার ছেড়ে দেয়াটাই সমীচীন বলে আমি মনে করি। সব শুনে তিনি বললেন : “চাচাজান! এরা যদি আমার ডান হাতে সূর্য এবং বাম হাতে চন্দ্রও তুলে দেয় তবুও আমি আমার কাজ থেকে বিরত হবো না।” আবূ তালিবের কথায় তার সন্দেহ হলো, এবার চাচাও বুঝি আমাকে সাহায্য করা থেকে হাত গুটিয়ে নেবেন। আবূ তালিব মক্কার কুরায়শ সরদারদের মধ্যে সর্বাধিক সম্মানিত ব্যক্তিত্ব ছিলেন। বনূ হাশিম কবীলার সর্বজনশ্রদ্ধেয় নেতা বলে তিনি গণ্য হতেন। তার কারণে আক্রমণকারীরা তার উপর আক্রমণ করতে অনেকটা দ্বিধাবোধ করতো। তাদের আশঙ্কা ছিলো, বনূ হাশিম কবীলার সকলে মিলে যদি হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)-এর পক্ষে দাঁড়িয়ে যায়, তাহলে ব্যাপারটা বেশ সঙ্গীন ও নাযুক হয়ে দাঁড়াবে। তাই আবূ তালিবের সমর্থন তাঁর জন্যে বেশ সহায়কই ছিলো। এবার তার এ নৈরাশ্যব্যঞ্জক বক্তব্য শুনে তিনি অত্যন্ত মর্মাহত হলেন। অশ্রুসজল কণ্ঠে তিনি বললেন : চাচাজান! আমি আমার কাজ ত্যাগ করবো না যতক্ষণ না আল্লাহ্র কাজ পূর্ণ হয়, কিংবা এই কাজ করতে করতে আমি নিজেই কুরবান হয়ে যাই।—একথা বলেই তিনি আবূ তালিবের নিকট থেকে নিষ্ক্রান্ত হলেন।
দৃঢ়চেতা ইয়াতীম ভাতিজাটির কথায় আবূ তালিব অভিভূত হয়ে পড়লেন। তিনি তাঁকে ফিরিয়ে এনে বললেন : তুমি অবশ্যই তোমার কাজ চালিয়ে যাবে। আমি যতদিন বেঁচে থাকি ততদিন আমি তোমাকে সাহায্য করেই যাবো এবং কোনদিনই তোমাকে শত্রুদের হাতে তুলে দেবো না।