hadith book logo

ইসলামের ইতিহাস ১ম খণ্ড

লেখকঃ মাওলানা আকবর শাহ খান নজিববাদী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ২০৮

নবী করীম (সাঃ)-এর অসুস্থতা হিজরতের একাদশতম বছর

একাদশতম হিজরীর মুহাররম মাসে হযরত নবী করীম (সাঃ) জ্বরে আক্রান্ত হন এবং ক্রমে জ্বর বৃদ্ধি পেতে থাকে। তার অসুস্থতার খবর ছড়িয়ে পড়লে কোন কোন বিশৃংখলা সৃষ্টিকারী মাথাচাড়া দিয়ে উঠে। মুসায়লামা, তুলায়হা, খুওয়ায়লিদ, আসওয়াদ, সাজাহ বিন্‌ত হারিছ পৃথক পৃথকভাবে নবুওয়াতের দাবী করলো। তারা মনে করলো যে, যেভাবে হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) কামিয়াব হয়েছেন, তেমনিভাবে তারাও কামিয়াব হবে। কিন্তু আল্লাহ তা‘আলা হযরত নবী করীম (সাঃ)-এর সত্যতার উপর আরেকটি সীল মেরে দিলেন। এদের সবাই ব্যর্থ, অপদস্থ ও পরাভূত হয়। এদের মধ্যে মুসায়লামা কায্‌যাব ইয়ামামায় এবং আসওয়াদ ইব্‌ন কা‘ব আনাসী ইয়ামেনে খুব খ্যাতি লাভ করেছিল। হযরত নবী করীম (সাঃ) পীড়িতাবস্থায় একদিন বাইরে বের হলেন। মাথাব্যথার কারণে তার মাথায় একটি পট্টি বাঁধা ছিল। তিনি বললেন, আমি রাতে স্বপ্নে দেখেছি, আমার হাতের কবযীতে দু’টি সোনার কঙ্কন। আমি ঐ দু’টিকে অবাধ্য ভেবে ছুঁড়ে মেরেছি। এই স্বপ্নের আমি ব্যাখ্যা করেছি, এই কঙ্কন দুটিই ঐ দু’জন কাযযাব (মিথ্যাবাদী)। অর্থাৎ ইয়ামামাবাসী (মুসায়লামা কাযযাব) ও ইয়ামনবাসী (আসওয়াদ কাযযাব)।

আসওয়াদ কাযযাব নবী করীম (সাঃ)-এর জীবদ্দশায়ই ফিরোয নামক একজন সুপুরুষের হাতে নিহত হয়। আর মুসায়লামা কাযযাব হযরত আবূ বকর সিদ্দীক (রা)-এর খিলাফতকালে হযরত হামযা হন্তা ওয়াহ্শীর হাতে নিহত হয়। ওয়াহ্‌শী প্রায়ই বলতেন যে, আমি কাফির অবস্থায় একজন উৎকৃষ্ট মানুষকে এবং মুসলমান অবস্থায় একজন নিকৃষ্ট মানুষকে হত্যা করেছি।