hadith book logo

ইসলামের ইতিহাস ১ম খণ্ড

লেখকঃ মাওলানা আকবর শাহ খান নজিববাদী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ২৭১

আম্বার বিজয় বা জঙ্গে যাতিল উয়ূন

ইরানীরা আম্বারে এক বিরাট সেনাদল সমাবেশ করে সাবাতের শাসক শেরযাদকে এই বাহিনীর সিপাহসালার বানিয়েছিল। হযরত খালিদ ইব্‌ন ওয়ালীদ (রা) হীরায় এই সেনা সমাবেশের সংবাদ পেয়ে হীরা থেকে আম্বার অভিমুখে রওনা করলেন। শেরযাদ আম্বার প্রাচীর বাইরে মাটির দমদমাও তৈরি করিয়েছিল এবং তারা আরব বাহিনীর মুকাবিলা করার জন্য সর্বতোভাবে প্রস্তুত ছিল। হযরত খালিদ (রা) যখন আম্বার অবরোধ করলেন, তখন অবরুদ্ধরা দমদমা থেকে একযোগে তীরের বৃষ্টিবর্ষণ শুরু করলো। ফলে ইসলামী বাহিনীর এক হাজার মুজাহিদের চোখ তীরের আঘাতে যখমী ও নষ্ট হয়ে গেলো। কিন্তু ইসলামের লশকর ও তার সিংহ হৃদয় সিপাহসালারকে তীরের বৃষ্টি দমাতে পারে নি। হযরত খালিদ ইব্‌ন ওয়ালীদ (রা) দুর্বল ও কৃশ উটগুলো যবেহ করিয়ে খন্দকে (পরিখায়) ফেলে দিলেন। আর এইভাবে যখন খন্দক পার হবার রাস্তা তৈরী হয়ে গেলো, তখন মুসলমানরা প্রথমে দমদমা দখল করলো।

তারপর শহর প্রাচীর পর্যন্ত পৌঁছে রক্তের নদী বইয়ে দিলো। ইরানীরা প্রতিরোধের ক্ষেত্রে বড় সাহস ও বীরত্বের প্রকাশ ঘটালো। কিন্তু মুসলমানদের বিপরীতে তা কোন কাজেই আসলো না। শেরযাদ যখন দেখলো যে, শহর মুসলমানদের দখলে চলে যাচ্ছে, তখন সে সঙ্গে সঙ্গে হযরত খালিদ (রা) সমীপে সন্ধির প্রস্তাব পাঠালো। হযরত খালিদ (রা) প্রত্যুত্তরে বলে পাঠালেন যে, শেরযাদ তার কয়েকজন বিশিষ্ট সহচরসহ শুধু তিন দিনের রসদ নিয়ে যদি শহর থেকে বের হতে চায়, তবে আমরা তাকে চলে যেতে দেবো। সুতরাং তাই হলো। শেরযাদ শহর ছেড়ে চলে গেলো। হযরত খালিদ (রা) বিজয়ী বেশে শহরে প্রবেশ করলেন। ইরানীরা ইসলামী লশকরের মুকাবিলা করার জন্য সর্বত্র সামরিক প্রস্তুতি সম্পূর্ণ করে রেখেছিল। আম্বারে জানা গেলো, আয়নুত্ তামার’ নামক স্থানে মাহরান ইব্‌ন বাহরাম চব্বিশ হাজার ইরানীর একটি বিরাট বাহিনী নিয়ে এবং উক্‌বাহ ইব্‌ন আবী উক্‌বাহ আরববাসীদের এক বিরাট দলসহ যুদ্ধের জন্য ডেরা ফেলেছে। আশেপাশের আরব গোত্র তাগলিব ও আবাদ প্রভৃতিও ইসলামী লশকরের মুকাবিলার জন্য দল বেঁধে এসেছিল। হযরত খালিদ ইব্‌ন ওয়ালীদ (র) যীবিরকান ইব্‌ন বদরকে আম্বার শহরের শাসক নিযুক্ত করে স্বয়ং ‘আত্-তামার অভিমুখে রওয়ানা করলেন।