hadith book logo

ইসলামের ইতিহাস ১ম খণ্ড

লেখকঃ মাওলানা আকবর শাহ খান নজিববাদী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৫৪

কাব্যচর্চা

আরব জাহিলিয়াতে এমন কোন লোক ছিলো না, যার মধ্যে কাব্যিকতা ছিল না। নারী-পুরুষ, আবাল-বৃদ্ধ বনিতা সকলেরই কিছু না কিছু কাব্যিকতার অধিকার ছিল যেন তারা মাতৃগর্ভ থেকেই কবি হয়ে আসতো। জন্মগতভাবেই তারা ছিল অলংকারসমৃদ্ধ ভাষার অধিকারী।

সাধারণত তাদের কবিতা হতো তাৎক্ষণিক ও স্বতঃস্ফূর্ত। কবিতা রচনার জন্যে চিন্তা-ভাবনা করা বা কষ্ট-কল্পনার আশ্রয় নেয়ার তাদের আদৌ প্রয়োজন হতো না। তাদের ভাষাসৌকর্য ও কাব্যিকতার এমনি গর্ব ছিল যে, গোটা বিশ্বের তাবৎ অনারব লোককে তারা বোবা জ্ঞান করতো। কিন্তু কুরআন শরীফ অবতীর্ণ হয়ে আরবদের সে দর্পকে চিরতরে চূর্ণ করে দেয়। শেষ পর্যন্ত সেই কাব্যিকতা ও ভাষা সৌকর্যের জন্যে দর্পকারী আরবরা আল্লাহর বাণীর অভূতপূর্ব ভাষাসৌকর্য ও লালিত্যের কাছে মাথা নত করতে বাধ্য হয়।

বার্ষিক মেলা উৎসব এবং হজ্জের সময় অনুষ্ঠিত মজলিসে মুশায়েরা বা কবিসভায় যার কবিতা সর্বোত্তম বলে সাব্যস্ত হতো রাতারাতি সে বিপুল মান-সম্মান ও যশের অধিকারী হয়ে পড়তো। একজন কবির সম্মান সে সমাজে একজন বীরপুরুষ বা রাজা-বাদশাহর সমান বা তার চাইতেও অধিক ছিল। আসলেও গোত্রে গোত্রে যুদ্ধ বাধিয়ে দেয়া, কোন গোত্রকে অসামান্য বীরত্ব প্রদর্শনে উদ্বুদ্ধ করা, যুদ্ধ অব্যাহত রাখা বা তার অবসান ঘটানো ছিল কবিদের বাম হাতের খেলা স্বরূপ। সর্বোত্তম কাসীদাগুলো খানা কা‘বায় লটকিয়ে দেয়া হতো। এমনি সাতটি কাসীদা ‘সাবয়ে মুআল্লাকা’ বা ঝুলন্ত কবিতা সপ্তক নামে বিখ্যাত। ইমরাউল কায়েস ইব্‌ন হাজার কিন্দী, যুবায়র ইব্‌ন আবূ সালমা মুযানী, লবীদ ইব্‌ন রবীআ, উমর ইব্‌ন কুলছুম, আন্‌তারা আবসী প্রমুখ কবির দ্বারা এগুলো রচিত হয়।