১
ইসলামের ইতিহাস ১ম খণ্ড
লেখকঃ মাওলানা আকবর শাহ খান নজিববাদী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ২৪০
সিদ্দীকী খিলাফতের উল্লেখযোগ্য ঘটনাবলী সাকীফা বনূ সাইদা ও বায়‘আতে খিলাফত
পূর্বেই বর্ণিত হয়েছে যে, মসজিদে নববীতে সিদ্দীকে আকবর (রা) বক্তৃতা করে লোকদের বিস্ময় দূর করেছিলেন। সাকীফা বনূ সাইদায় আনসারদের সমবেত হওয়া এবং মুহাজিরদের পরামর্শ ছাড়া কোন আমীর বা খলীফা নির্বাচন সম্পর্কে আলোচনা করার খবর তার কাছে পৌঁছলো। হযরত নবী করীম (সাঃ)-এর ওফাতের পর এ ছিল ইসলামের সবচেয়ে বড় দুর্দিন। এই খবর শুনে যদি হযরত আবূ বকর সিদ্দীক (রা) নীরব থাকতেন এবং এদিকে ভ্রূক্ষেপ না করতেন, তবে মুহাজির ও আনসারদের সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্ব অচিরেই বিনষ্ট হয়ে ইসলামী ঐক্য চুরমার হয়ে যেতো। কিন্তু আল্লাহ্ তা‘আলা যেহেতু নিজেই তার দীনের সংরক্ষক ও সাহায্যকারী, তাই তিনি সিদ্দীকে আকবর (রা)-কে হিম্মত ও দৃঢ়তা দান করলেন। যাবতীয় আশংকা ও বিপত্তি তাঁর অন্তর্দৃষ্টি ও শক্তির সামনে বিজয় ও সংশোধনে রূপান্তরিত হলো। হযরত নবী করীম (সাঃ)-এর পবিত্র শক্তি সমস্ত মুসলমানকে একই জাতি ও একই পরিবার বানিয়ে দিয়েছিল এবং ঈমানের নূরের বিস্ময়কর প্রভাবে গোত্র, পরিবার ও দেশের পার্থক্য সম্পূর্ণ মিটে গিয়েছিল। গোত্র ও পরিবারের নাম দ্বারা মানুষের পরিচয় ও ঠিকানা দান সহজ হওয়া ছাড়া এগুলো আর কোন তাৎপর্যই বহন করতো না।
হযরত নবী করীম (সাঃ)-এর ওফাত এবং এই মহান আত্মার ঊর্ধ্বজগতে গমন করার পর মুহূর্তের জন্য এই জাতিগত বিভেদের বিপত্তির পার্শ্ব পরিবর্তন করা কোন আশ্চর্যের বিষয় নয়। লক্ষণীয় যে, সাহাবায়ে কিরামের পূত-পবিত্র জামাআত এই মুসীবতকে নিজদের জন্য আল্লাহর সান্নিধ্য লাভের কারণ বানিয়েছেন, ধ্বংসের উপকরণ নয়।
এই সার কথার ব্যাখ্যা এই যে, মদীনা মুনাওয়ারায় মুহাজিরদের সংখ্যা আনসারদের চেয়ে কম ছিল। কিন্তু আনসারও দুই ভাগে বিভক্ত ছিল। আওস ও খাযরাজ ইসলামের পূর্বে প্রাচীনকাল থেকেই একে অপরের বৈরী ও প্রতিদ্বন্দ্বী ছিল। এইভাবে মদীনা মুনাওয়ারার তৎকালীন মুসলমানদেরকে তিনটি বড় বড় ভাগে বিভক্ত মনে করা যেতো। আওস, খাযরাজ ও কুরায়শ বা মক্কার মুহাজিরগণ। খাযরাজ গোত্রের সরদার ছিলেন হযরত সা‘দ ইব্ন উবাদা। তার গৃহ-সংলগ্ন একটি প্রশস্ত বৈঠকখানা ছিল। যার আকৃতি ছিল এরূপ : একটি প্রশস্ত চত্বর। তার উপরে রোদ-বৃষ্টি থেকে বাঁচার জন্য সংযুক্ত ছিল। এটিকেই ‘সাকীফা বনূ সাঈদা’ বলা হতো।
হযরত নবী করীম (সাঃ)-এর ওফাত এবং এই মহান আত্মার ঊর্ধ্বজগতে গমন করার পর মুহূর্তের জন্য এই জাতিগত বিভেদের বিপত্তির পার্শ্ব পরিবর্তন করা কোন আশ্চর্যের বিষয় নয়। লক্ষণীয় যে, সাহাবায়ে কিরামের পূত-পবিত্র জামাআত এই মুসীবতকে নিজদের জন্য আল্লাহর সান্নিধ্য লাভের কারণ বানিয়েছেন, ধ্বংসের উপকরণ নয়।
এই সার কথার ব্যাখ্যা এই যে, মদীনা মুনাওয়ারায় মুহাজিরদের সংখ্যা আনসারদের চেয়ে কম ছিল। কিন্তু আনসারও দুই ভাগে বিভক্ত ছিল। আওস ও খাযরাজ ইসলামের পূর্বে প্রাচীনকাল থেকেই একে অপরের বৈরী ও প্রতিদ্বন্দ্বী ছিল। এইভাবে মদীনা মুনাওয়ারার তৎকালীন মুসলমানদেরকে তিনটি বড় বড় ভাগে বিভক্ত মনে করা যেতো। আওস, খাযরাজ ও কুরায়শ বা মক্কার মুহাজিরগণ। খাযরাজ গোত্রের সরদার ছিলেন হযরত সা‘দ ইব্ন উবাদা। তার গৃহ-সংলগ্ন একটি প্রশস্ত বৈঠকখানা ছিল। যার আকৃতি ছিল এরূপ : একটি প্রশস্ত চত্বর। তার উপরে রোদ-বৃষ্টি থেকে বাঁচার জন্য সংযুক্ত ছিল। এটিকেই ‘সাকীফা বনূ সাঈদা’ বলা হতো।