hadith book logo

ইসলামের ইতিহাস ১ম খণ্ড

লেখকঃ মাওলানা আকবর শাহ খান নজিববাদী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ২৭৩

উচ্চ ইরাক

উপরে উল্লিখিত হয়েছে যে, হযরত আবূ বকর সিদ্দীক (রা)-এর নির্দেশ অনুযায়ী ইয়ায ইব্‌ন গানাম (রা) উচ্চ ইরাকে হামলা করেছিলেন। হযরত খালিদ ইব্‌ন ওয়ালীদ (রা)-কে তো অতিশীঘ্রই আরব গোত্রসমূহ ও গোত্রপতিদের ছেড়ে ইরানী সরদার ও ইরানী বাহিনীর সাথে মুকাবিলা করতে হয়েছিল। যদিও আরব সরদার ও খ্রিস্টান গোত্রগুলোও যুদ্ধরত ছিল, কিন্তু তারা ইরানীদের থেকে বিচ্ছিন্ন ছিল না। হযরত ইয়ায ইব্‌ন গানাম (রা) যিনি উচ্চ ইরাক আক্রমণ করেছিলেন, তিনিও তখন পর্যন্ত স্বাধীন খ্রিস্টান সরদারদের মুকাবিলা থেকে মুক্ত হতে পারেননি। তিনি যে এলাকায় যুদ্ধরত ছিলেন, সে এলাকা ছিল ইরাক, জাযিরা, ইরান ও সিরিয়া সংযুক্ত। আর এ কারণেই তার যুদ্ধ চালনার প্রভাব যতটুকু ইরানী রাজ-দরবার পড়তো, ততটুকুই হিরাক্লিয়াসের দরবারেও পড়ছিল। হযরত খালিদ ইব্‌ন ওয়ালীদ (রা) যখন আয়নুত্-তামার জয় করেন, তখন হযরত ইয়ায ইব্‌ন গানাম (রা) আরবের মুশরিক ও খ্রিস্টান গোত্রগুলোকে দমনকল্পে দূমাতুল জান্দালের শাসকদের সাথে যুদ্ধরত ছিলেন। দুমাতুল জান্দালে দু’জন রঈস ছিলেন। একজন আকীদর ইব্‌ন আব্‌দিল মালিক (নবী-জীবনের ঘটনাবলী প্রসঙ্গে যার নাম উল্লিখিত হয়েছে), দ্বিতীয় জন জূদী ইব্‌ন রবীআ। এই দুই রঈসই একজোট হয়ে হযরত ইয়ায ইব্‌ন গানাম (রা)-এর সাথে যুদ্ধরত ছিলেন এবং তারা আশেপাশের সকল খ্রিস্টান গোত্রকে নিজেদের সাথে মুসলমানদের বিরুদ্ধে শরীক ও যুক্ত করে নিয়েছিলেন। হযরত ইয়ায ইব্‌ন গানাম (রা) আয়নুত-তামারে হযরত খালিদ ইব্‌ন ওয়ালীদ (রা)-এর নিকট একটি পত্র পাঠালেন। পত্রে তিনি লিখলেন : আমাকে সাহায্য করুন। শত্রুপক্ষের বিপুল সৈন্য ও শক্তির মুকাবিলা আমাদের স্বল্প সংখ্যক লোক দ্বারা সম্ভবপর নাও হতে পারে।