hadith book logo

ইসলামের ইতিহাস ১ম খণ্ড

লেখকঃ মাওলানা আকবর শাহ খান নজিববাদী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ২৪৪

উসামা (রা)-কে উপদেশ দান

তিনি উসামা (রা)-কে তাঁর সওয়ারীর সাথে সাথে হাঁটতে হাঁটতে দশটি উপদেশ দান করলেন। তিনি বললেন :

(১) খিয়ানত করবে না। (২) মিথ্যা কথা বলবে না। (৩) অঙ্গীকার ভঙ্গ করবে না। (৪) শিশু, বৃদ্ধ ও নারীদেরকে হত্যা করবে না। (৫) কোন ফলদার বৃক্ষ কাটবে না, জ্বালাবে না।

(৬) আহারের প্রয়োজনীয়তা ছাড়া উট, বকরী, গাভী প্রভৃতি যবেহ করবে না। (৭) কোন জাতির সাথে সাক্ষাৎ হলে তাদের নম্রভাবে ইসলামের দাওয়াত দিবে। (৮) কারো সাথে সাক্ষাৎ করলে তার মর্যাদা রক্ষার প্রতি দৃষ্টি রাখবে। (৯) তোমাদের সামনে কোন আহার্য এলে আল্লাহর নাম নিয়ে আহার শুরু করবে। (১০) ইয়াহূদী-খ্রিস্টানদের যেসব লোক পার্থিব সম্পর্ক ত্যাগ করে তাদের উপাসনালয়ে অধিবাস অবলম্বন করেছে, তাদের উত্যক্ত করবে না। হযরত নবী করীম (সাঃ) তোমাদেরকে যেসব কাজ করার আদেশ করেছেন, তাতে হ্রাস-বৃদ্ধি করবে না। আল্লাহর পথে কাফিরদের সাথে লড়াই করবে।

হযরত সিদ্দীকে আকবর (রা) উসামা (রা)-কে এই নসীহতগুলো করে জারাফ নামক স্থান থেকে প্রত্যাবর্তন করলেন। প্রত্যাবর্তনকালে তিনি হযরত উসামা (রা)-কে বললেন, “তুমি অনুমতি দিলে আমার সাহায্য ও পরামর্শের জন্য আমি উমরকে রেখে দিতে পারি।” হযরত উসামা (রা) তৎক্ষণাৎ হযরত উমর ফারুক (রা)-কে মদীনায় থাকার অনুমতি প্রদান করলেন। হযরত উমর (রা) ঐ বাহিনী থেকে আলাদা হয়ে হযরত আবূ বকর সিদ্দীক (রা)-এর সঙ্গে মদীনায় ফিরে এলেন।

এখানে লক্ষণীয় যে, খলীফা তাঁর আপন নির্দেশবলে হযরত উমর (রা)-কে রেখে দিতে পারতেন। কিন্তু তিনি হযরত উসামা (রা)-এর নিকট থেকে রীতিমত অনুমতি লাভ করা প্রয়োজন মনে করলেন। এটাও ঐ বাহিনীর জন্য একটি অতি প্রয়োজনীয় ও গুরুত্বপূর্ণ উপদেশ ছিল। খলীফা তার দৃষ্টান্তের মাধ্যমে এই উপদেশটি প্রদান করলেন।