১
ইসলামের ইতিহাস ১ম খণ্ড
লেখকঃ মাওলানা আকবর শাহ খান নজিববাদী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ২৩৯
সুসামাজিকতা
‘আতা ইব্ন সাইব (র) বলেন, খিলাফতের বায়‘আত গ্রহণের পরদিন হযরত আবূ বকর সিদ্দীক (রা) দু’টি চাদর নিয়ে বাজারে রওয়ানা হন। হযরত উমর (রা) জিজ্ঞেস করলেন, আপনি কোথায় যাচ্ছেন? তিনি বললেন, বাজারে। হযরত উমর (রা) বললেন, এখন আপনি এই ধান্দা ছেড়ে দিন। আপনি মুসলমানদের আমীর হয়ে গেছেন। তিনি বললেন, তাহলে আমি ও আমার পরিবার-পরিজন কি খাবে? হযরত উমর (রা) বললেন, এ কাজটি হযরত আবূ উবায়দাকে সোপর্দ করুন। তারপর দু’জনই হযরত আবূ উবায়দা (রা)-এর নিকট গেলেন এবং তাকে হযরত আবূ বকর (রা) বললেন যে, আমার এবং আমার পরিবার-পরিজনের খরচপত্র মুহাজিরদের নিকট থেকে আদায় করে দাও। সব জিনিসই সাধারণ মানের হতে হবে। গ্রীষ্ম ও শীতের পোশাকেরও প্রয়োজন হবে। ছিঁড়ে গেলে আমি তা জমা দেবো এবং নতুন পোশাক নেবো। হযরত আবূ উবায়দা (রা) প্রতিদিন তার ঘরে অর্ধ বকরীর গোশত পাঠিয়ে দিতেন। হযরত আবূ বকর ইব্ন হাফস (রা) বলেন, হযরত আবূ বকর (রা) ইনতিকালের সময় হযরত আয়িশা (রা)-কে বলেন, মুসলমানদের কাজ করার পারিশ্রমিক হিসাবে আমি পাই পয়সার ফায়দাও গ্রহণ করিনি।– সাদামাঠা গোছের খাওয়া-পরা ব্যতীত। এ মুহূর্তে এই হাবশী গোলাম, উটনী ও পুরাতন চাদরটি ছাড়া মুসলমানদের আর কোন মালামাল আমার কাছে নেই। আমার মৃত্যুর পর এগুলোকে হযরত উমর (রা)-এর নিকট পাঠিয়ে দিও।
হযরত ইমাম হাসান ইব্ন আলী (রা) থেকে বর্ণিত আছে, হযরত আবূ বকর (রা)-এর ইনতিকালের সময় আয়িশা সিদ্দীকা (রা)-কে বলেন, আমার মৃত্যুর পর এই উটনীটি যার দুধ আমি পান করছি, এই পিয়ালাটি যাতে করে আমি পান করতাম এবং এই চাদরটি উমরের নিকট পাঠিয়ে দেবে। কেননা এগুলোকে আমি খলীফা হিসাবে বায়তুল মাল থেকে নিয়েছিলাম। হযরত উমর (রা)-এর নিকট এগুলো পৌঁছার পর তিনি বললেন, আল্লাহ্ তা‘আলা হযরত আবূ বকরের উপর রহম করুন, আমার জন্য তিনি বহু কষ্ট করেছেন। হযরত আবূ বকর সিদ্দীক (রা) বায়তুল মালে কখনো কোন সম্পদ জমা হতে দেননি। যা-কিছু আসতো মুসলমানদের জন্য তা ব্যয় করে ফেলতেন। ফকীর-মিসকীনদের মধ্যে সমভাবে বন্টন করে দিতেন। কখনো ঘোড়া ও হাতিয়ার খরিদ করে আল্লাহর ওয়াস্তে দান করে দিতেন। কখনো কিছু পোশাক যোগাড় করে গরীব-মিসকীনদের দান করতেন। তাঁর ওফাতের পর হযরত উমর (রা) যখন অন্যন্য সাহাবাসহ বায়তুল মালের হিসাব-নিকাশ দিলেন, তখন তা সম্পূর্ণ শূন্য পেলেন। মহল্লার মেয়েরা তাদের বকরী নিয়ে তাঁর নিকট আসতো এবং তার দ্বারা দুধ দোহন করে নিয়ে যেতো। সিদ্দীকে আকবর (রা) অনেক লোকের মধ্যে এমনভাবে মিলেমিশে বসতেন, কেউ চিনতেই পারতো না এদের মধ্যে খলীফা কে!
হযরত ইমাম হাসান ইব্ন আলী (রা) থেকে বর্ণিত আছে, হযরত আবূ বকর (রা)-এর ইনতিকালের সময় আয়িশা সিদ্দীকা (রা)-কে বলেন, আমার মৃত্যুর পর এই উটনীটি যার দুধ আমি পান করছি, এই পিয়ালাটি যাতে করে আমি পান করতাম এবং এই চাদরটি উমরের নিকট পাঠিয়ে দেবে। কেননা এগুলোকে আমি খলীফা হিসাবে বায়তুল মাল থেকে নিয়েছিলাম। হযরত উমর (রা)-এর নিকট এগুলো পৌঁছার পর তিনি বললেন, আল্লাহ্ তা‘আলা হযরত আবূ বকরের উপর রহম করুন, আমার জন্য তিনি বহু কষ্ট করেছেন। হযরত আবূ বকর সিদ্দীক (রা) বায়তুল মালে কখনো কোন সম্পদ জমা হতে দেননি। যা-কিছু আসতো মুসলমানদের জন্য তা ব্যয় করে ফেলতেন। ফকীর-মিসকীনদের মধ্যে সমভাবে বন্টন করে দিতেন। কখনো ঘোড়া ও হাতিয়ার খরিদ করে আল্লাহর ওয়াস্তে দান করে দিতেন। কখনো কিছু পোশাক যোগাড় করে গরীব-মিসকীনদের দান করতেন। তাঁর ওফাতের পর হযরত উমর (রা) যখন অন্যন্য সাহাবাসহ বায়তুল মালের হিসাব-নিকাশ দিলেন, তখন তা সম্পূর্ণ শূন্য পেলেন। মহল্লার মেয়েরা তাদের বকরী নিয়ে তাঁর নিকট আসতো এবং তার দ্বারা দুধ দোহন করে নিয়ে যেতো। সিদ্দীকে আকবর (রা) অনেক লোকের মধ্যে এমনভাবে মিলেমিশে বসতেন, কেউ চিনতেই পারতো না এদের মধ্যে খলীফা কে!