hadith book logo

ইসলামের ইতিহাস ১ম খণ্ড

লেখকঃ মাওলানা আকবর শাহ খান নজিববাদী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ২৪৫

উসামা (রা)-এর সাফল্য

হযরত উসামা (রা) হযরত নবী করীম (সাঃ)-এর নির্দেশ অনুসারে জর্দান ও বলকান উপত্যকায় পৌঁছে রোমান বাহিনীর সাথে যুদ্ধ আরম্ভ করেন। রোমকদের পরাজিত করে এবং বেশুমার মালে গনীমত ও যুদ্ধবন্দী নিয়ে চল্লিশ দিন পর মদীনায় ফিরে আসেন। এই বাহিনীর যুদ্ধযাত্রা বাহ্যত অতি ভয়াবহ মনে হচ্ছিল। কিন্তু তার ফলাফল ইসলাম ও মুসলমানদের জন্য খুব ফলপ্রসূ প্রমাণিত হয়। দেশের এই শোরগোল ও নিরাপত্তাহীনতার সময়ও মুসলিম বাহিনীর এরূপ রোমকদের উপর হামলা করা যেন সকল মুরতাদ ও বিদ্রোহীদের একথা জানিয়ে দিচ্ছিল যে, আমরা তোমাদের এই বিদ্রোহ ও প্রস্তুতিকে এতটুকু পরোয়া করি না। এই সাহস ও শক্তির কার্যকর ঘোষণা বিদ্রোহীদের আশাহত ও নিরুৎসাহিত করে চিন্তা ও দ্বিধাদ্বন্দ্বে ফেলে দেয়। তারা মুসলমানদের মূলোচ্ছেদকল্পে সবাই অতর্কিতে ঝাঁপিয়ে পড়ার পরিবর্তে নিজ নিজ স্থানে বসে এরূপ চিন্তা করতে লাগলো যে, মুসলমানদের আদৌ পরাভূত করা যাবে কিনা? আর এ কারণেই তুলায়হা আসাদী ও মুসায়লামা কাযযাব প্রমুখ নবুওয়াতের দাবীদাররা নিজ নিজ এলাকার বাইরে কদম রাখতে পারেনি এবং যাকাত অস্বীকারকারী বিদ্রোহী গোত্রগুলো ইসলামের বিরোধিতার ক্ষেত্রে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারেনি। হযরত উসামা (রা)-এর রোমান বাহিনীর উপর বিজয় লাভ করা এবং নিরাপদে মালে গনীমতসহ ফিরে আসা আর এই সংবাদ দেশে প্রসিদ্ধি লাভ করা আরো ফলপ্রসূ প্রমাণিত হয়। যেহেতু এই যুদ্ধে প্রচুর মালে গনীমত হস্তগত হয়েছিল তাই ভাবী বিদ্রোহীদের দমন করা এবং দেশে শান্তি ও নিরাপত্তা বহাল করার ক্ষেত্রে এই মালে গনীমত দ্বারা মুসলমানদের বিরাট সাহায্য মেলে এবং সামরিক বাহিনী প্রেরণের ক্ষেত্রে সাজসরঞ্জাম যোগাড় করতে তেমন বেগ পেতে হয়নি।