১
ইসলামের ইতিহাস ১ম খণ্ড
লেখকঃ মাওলানা আকবর শাহ খান নজিববাদী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৮৮
যায়দ ইব্ন হারিছ-এর প্রতি স্নেহ
হযরত খাদীজাতুল কুবরা (রা)-এর ভাতিজা হাকীম ইব্ন হিযাম কোথা থেকে যেন একটা ক্রীতদাস কিনে এনে তার ফুফু হযরত খাদীজা (রা)-কে দান করেন। হযরত খাদীজা (রা) তাকে হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)-এর খিদমতে সমর্পণ করেন। এরই নাম ছিল যায়দ ইব্ন হারিছা। আসলে ইনি একজন স্বাধীন খ্রিস্টান বংশের সন্তান ছিলেন। কোন এক লুটপাটের সময় তিনি ধৃত হয়ে ক্রীতদাসরূপে বিক্রিত হয়ে যান। কিছুদিন পর তাঁর পিতা হারিছা এবং চাচা কাআব যখন জানতে পারলেন যে, তাদের ছেলে যায়দ মক্কার কোন একটি পরিবারে দাসরূপে বসবাস করছেন, তখন তারা উভয়ে মক্কায় এসে হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)-এর খিদমতে উপস্থিত হয় এবং বিনীতভাবে প্রার্থনা জানান যে, তাদের ছেলেটিকে যেন তিনি মুক্ত করে দেন। হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) তৎক্ষণাৎ তাদের আবেদন মঞ্জুর করেন এবং বলেন যে, যায়দ যদি তোমাদের সাথে চলে যেতে চায়, তবে আমার পক্ষ থেকে তার অনুমতি রইলো। সাথে সাথে যায়দকে ডাকানো হলো। হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) তাকে জিজ্ঞেস করলেন, তুমি কি এদেরকে চিনতে পারছো? জবাবে যায়দ বললেন, জ্বী হাঁ। এরা হচ্ছেন আমার পিতা ও চাচা। হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) বললেন, এরা তোমাকে নিতে এসেছেন। আমার পক্ষ থেকে তোমার যাবার অনুমতি আছে। জবাবে যায়দ বললেন : আমি আপনাকে ছেড়ে কোথাও যাবো না। তখন তার পিতা হারিছ ক্রুদ্ধ কণ্ঠে বললেন, তুই কি স্বাধীনতার উপর গোলামীকেই প্রাধান্য দিচ্ছিস? যায়দ মুখের উপর বললেন, জ্বী হাঁ। আমি মুহাম্মদ (সাঃ)-এর মধ্যে এমন কিছু প্রত্যক্ষ করেছি যে, তাঁর মুকাবিলায় আমি পিতাকে কেন, সারা পৃথিবীরও প্রাধান্য দিতে পারি না। হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) যায়দের মুখে এ জবাব শুনে তৎক্ষণাৎ তাঁর হাত ধরে কা‘বা ঘরে উপস্থিত হলেন এবং চীৎকার করে ঘোষণা করলেন, “লোক সকল! তোমরা সাক্ষী থেকো, আজ থেকে আমি যায়দকে মুক্ত করছি এবং তাকে আমার ছেলে রূপে গ্রহণ করছি।” সে হবে আমার উত্তরাধিকারী এবং আমি হবো তার উত্তরাধিকারী। যায়দের পিতা ও পিতৃব্য তা দেখে অত্যন্ত আনন্দিত হলো এবং যায়দকে হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)-এর কাছে খুশীমনেই রেখে গেলেন। সেদিন থেকে যায়দ ইব্ন হারিছ হলেন যায়দ ইব্ন মুহাম্মদ (সাঃ)। কিন্তু হিজরতের পর যখন মহানবীর প্রতি ওয়াহী নাযিল হলো যে পালক পুত্রকে পুত্র বলা যাবে না, তখন থেকে আবার সকলে তাঁকে যায়দ ইব্ন হারিছা নামেই ডাকতে থাকেন। কিন্তু হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) তাঁকে পূর্ববৎ ভালবাসতে থাকেন বরং তাঁর এ অনুরাগ আরো বৃদ্ধি পায়। এ ঘটনা দ্বারাই বোঝা যায় যে, নবুওয়াতের পূর্বেও মুহাম্মদ (সাঃ)-এর চরিত্র কত উন্নত ছিল।