hadith book logo

ইসলামের ইতিহাস ১ম খণ্ড

লেখকঃ মাওলানা আকবর শাহ খান নজিববাদী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ২১১

হযরত আবূ বকর (রা)-কে ইমামতি করার নির্দেশ

হযরত নবী করীম (সাঃ) হযরত আবূ বকর সিদ্দীক (রা)-কে তার স্থলে মসজিদে নামাযের ইমামতি করার জন্য নিযুক্ত করলেন। আয়িশা (রা) বললেন, আমার পিতা এ দায়িত্ব আঞ্জাম দিতে পারবেন না। কেননা, তিনি বেশী নরম-দিল। আপনি হযরত উমর (রা)-কে ইমাম নিযুক্ত করুন। তিনি বললেন : না, আবূ বকরই ইমামতি করবে। হযরত আবূ বকর (রা) মসজিদে নামায পড়াচ্ছিলেন। হযরত নবী করীম (সাঃ) কিছুটা আরোগ্যবোধ করে মসজিদে গমন করলেন। নামায চলাকালে তিনি মসজিদে উপস্থিত হলে হযরত আবূ বকর (রা) ইমামের স্থান তার জন্য খালি করতে এবং নিজে পিছনে হটতে মনস্থ করলেন। হযরত নবী করীম (সাঃ) তাকে কাঁধের কাছে ধরে সেখানেই দণ্ডায়মান রাখলেন এবং নিজে তার ইকতিদা করে নামায আদায় করলেন। সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিমে উক্ত হয়েছে, হযরত নবী করীম (সাঃ) হযরত আয়িশা (রা)-কে বললেন, তুমি তোমার পিতা ও ভাইকে ডেকে আন। আমি তোমার পিতার জন্য খিলাফতনামা লিখে দেবো। তারপর বললেন: থাক, তাঁর প্রয়োজন নেই। কেননা, মুসলিম সমাজ তাকে ছাড়া অন্য কাউকে নেতা নিয়োগ করবে না। আল্লাহ তা‘আলার ইচ্ছাও তাই। অনুরূপ সহীহায়নে এও উক্ত হয়েছে যে, একদিন রোগশয্যায় বসে তিনি কাগজ ও কলম-জিকির">দোয়া চেয়ে পাঠালেন। কিন্তু তখন রোগ প্রকট ছিল বিধায় হযরত উমর ফারূক (রা) তাকে কষ্ট দিতে বারণ করলেন। বললেন, কুরআন মজীদই আমাদের জন্য যথেষ্ট। হযরত নবী করীম (সাঃ)-ও তাই বলেছেন। তবু কোন কোন সাহাবা বললেন : না, নবী করীম (সাঃ)-এর দৃষ্টি আকর্ষণ করা উচিত। তাকে জিজ্ঞেস করা উচিত তিনি কি লিখতে চেয়েছিলেন। নবী করীম (সাঃ) তাদের এই কথাবার্তা অপছন্দ করলেন। তাকে লোকেরা জিজ্ঞেস করলো, আপনি কি লেখাতে চান বলুন! তিনি বললেন, তোমরা আমাকে আমার অবস্থায় থাকতে দাও এবং বাইরে চলে যাও। ঐ সময় নবী করীম (সাঃ) তীব্র রোগ-যন্ত্রণা ও কষ্ট অনুভব করছিলেন। তাই হযরত উমর (রা) এই অবস্থায় তাঁকে কষ্ট দিতে চাননি। একটু পরেই নবী করীম (সাঃ) কিছুটা আরাম বোধ করলে সবাইকে ডেকে পাঠালেন এবং বললেন, কোন প্রতিনিধি দল আগমন করলে তাদেরকে ইনআম ও উপঢৌকন দিয়ে অবশ্যই খুশী করবে। মুশরিকদেরকে আরব উপদ্বীপ থেকে সম্পূর্ণ বের করে দেয়ার চেষ্টা করবে। উসামার বাহিনীকে অবশ্যই অভিযানে পাঠাবে। আনসারদের সাথে সদাচরণ করবে। তাদের ভুল-ভ্রান্তি মাফ করে দেবে। সহচর হিসাবে আবূ বকরের চেয়ে কাউকে উৎকৃষ্ট মনে করবে না। এরপর পুনরায় রোগ বৃদ্ধি পেলো এবং তিনি আবার সংজ্ঞা হারালেন।