hadith book logo

ইসলামের ইতিহাস ১ম খণ্ড

লেখকঃ মাওলানা আকবর শাহ খান নজিববাদী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৩২১

ইয়াদ গোত্রের প্রত্যাবর্তন

ঐ বছর যখন সমগ্র জাযীরা প্রদেশ মুসলমানগণের অধিকারভুক্ত হয় তখন ইয়াদ নামক সেখানকার একটি খ্রিস্টান স্বেচ্ছায় স্বদেশ ছেড়ে হিরাক্লিয়াসের দেশে চলে যায় এবং সেখানে বসতি স্থাপন করে। হযরত ফারূকে আযম (রা) এ সম্পর্কে অবহিত হওয়ার পর হিরাক্লিয়াসকে লিখেন :

আমার কাছে এ সংবাদ পৌঁছেছে, আরব বংশোদ্ভূত একটি গোত্র আমাদের দেশ ছেড়ে তোমাদের শহরসমূহে চলে গেছে। যদি তুমি ঐ আরবদেরকে তোমার দেশ থেকে বের করে না দাও তাহলে আমাদের দেশে যত খ্রিস্টান বসবাস করছে আমরা তাদের সকলকেই দেশ ছাড়া করে তোমাদের কাছে পাঠিয়ে দেব।

হিরাক্লিয়াস হযরত ফারূকে আযম (রা)-এর এ পত্র পাঠমাত্র ইয়াদ গোত্রের যে চার হাজার লোক তার এলাকায় অবস্থান করছিল, তাদের সকলকে সেখান থেকে বের করে দেন। তারা সিরিয়া ও জাযীরায় ফিরে এসে পুনরায় বসতি স্থাপন করে। হযরত ফারূকে আযম (রা) ইরাকের অনারব এলাকার উপর হযরত হাবীব ইব্‌ন মাসলামাহ (রা)-কে এবং আরব এলাকার উপর হযরত ওয়ালীদ ইব্‌ন উক্‌রা (রা)-কে ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা নিয়োগ করেন। আরব বংশোদ্ভূত ইয়াদ গোত্রের খ্রিস্টানরা দেশে ফিরে এলে তিনি হযরত ওয়ালীদ ইব্‌ন উকবা (রা)-কে লিখেন : এদেরকে ইসলাম গ্রহণের জন্য বাধ্য করো না। যদি তারা জিযিয়া দিতে সম্মত হয় তাহলে তা গ্রহণ কর। যে এলাকায় শুধু মাত্র ইসলাম গ্রহণ ছাড়া অন্য কিছুর আবেদন গ্রহণ করা হবে না, তা হলো পবিত্র মক্কা মদীনার মধ্যবর্তী আরব উপদ্বীপ এবং ইয়ামেন! তবে তাদেরকে এ শর্তটি অবশ্যই মানতে হবে যে, যে সমস্ত ছেলে মেয়ের পিতামাতা মুসলমান হয়ে গেছে তাদেরকে তারা খ্রিস্টধর্মে দীক্ষিত করতে পারবে না। অর্থাৎ যে সন্তানাদির। পিতামাতা মুসলমান হয়েছেন তাদেরকে যেন তারা খ্রিস্টান বানাবার চেষ্টা না করে এবং যে মুসলমান হতে চায় তাকে যেন বাধা প্রদান না করে।

হযরত ওয়ালীদ ইব্‌ন উকবাহ (রা) হযরত ফারূকে আযম (রা)-এর ঐ নির্দেশ অক্ষরে অক্ষরে পালন করেন। কিছু দিন পর ইয়াদ গোত্রের একটি প্রতিনিধিদল পবিত্র মদীনায় এসে আবেদন জানায়, যেন জিযিয়া হিসাবে কোন অর্থ তাদের কাছ থেকে আদায় করা না হয়। হযরত ফারূকে আযম (রা) তাদের ঐ আবেদন মঞ্জুর করেন এবং তাদের কাছ থেকে ‘সাদাকাত’ নামে জিযিয়ার দ্বিগুণ পরিমাণ অর্থ আদায় করার জন্য ওখানকার কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেন। ইয়াদ গোত্রও হযরত ফারূকে আযম (রা)-এর ঐ নির্দেশ সানন্দে মেনে নেয়। কিছুদিন পর ইয়াদ গোত্র হযরত ওয়ালীদ ইব্‌ন উকবা (রা)-এর বিরুদ্ধে অভিযোগ পেশ করলে হযরত ফারূকে আযম (রা) তাকে পদচ্যুত করে হযরত ফুরাত ইব্‌ন হাইয়ান (রা) ও হযরত হিন্দ ইব্‌ন উমর জামালী (রা)-কে সেখানকার কর্মকর্তা নিয়োগ করেন।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে, জাযীরা বিজয়কে কোন কোন ঐতিহাসিক সিরিয়ার বিজয় অভিযানসমূহের অন্তর্ভুক্ত করেছেন। মোটকথা, হযরত আয়ায ইব্‌ন গানাম (রা) হযরত খালিদ ইব্‌ন ওয়ালীদ (রা) (যিনি আয়ায ইব্‌ন গানামের সাহায্যে এসেছিলেন) হযরত আবূ উবায়দা (রা)-এর বাহিনী তথা সিরীয় বাহিনী থেকেই এসেছিলেন। প্রকৃতপক্ষে, জাযীরা বিজয়কে সিরিয়া ইরাক-উভয় দেশেরই বিজয় অভিযানসমূহের অন্তর্ভুক্ত মনে করতে হবে।