১
ইসলামের ইতিহাস ১ম খণ্ড
লেখকঃ মাওলানা আকবর শাহ খান নজিববাদী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ২৭৬
মাযীখ যুদ্ধ
মাযীখে হুযায়ল ইব্ন ইমরান ছাড়া রবীআ ইব্ন বুহায়র তাগ্লিবীও বনূ তাগ্লিবসহ মুসলমানদের মুকাবিলার জন্য প্রস্তুত ছিল। হযরত খালিদ ইব্ন ওয়ালীদ (রা) কা‘কা‘ ও আবূ লায়লাকে দুই ভিন্ন দিক থেকে নির্দিষ্ট তারিখে মাযীখ অভিমুখে প্রেরণ করে নিজেও সেই দিকে একা তৃতীয় দিক দিয়ে রওয়ানা করলেন। নির্দিষ্ট তারিখে সেখানে পৌঁছে তিন বাহিনী একযোগে হামলা করে শত্রুসেনাদের নিধন করা শুরু করলেন। হুযায়ল তো মুষ্টিমেয় লোকসহ আপন প্রাণ নিয়ে পলায়ন করলো, কিন্তু অপর সরদার ও অসংখ্য লোক নিহত হলো। নিহতদের মধ্যে আবদুল আযীয ইব্ন আবী রিহাম ও লাবীদ ইব্ন জারীরও ছিলেন, যারা মুসলমান হয়েছিলেন, কিন্তু চাপে পড়ে শত্রুদের সঙ্গে ছিলেন। এই দু’জনের নিহত হওয়ার খবর যখন হযরত আবূ বকর সিদ্দীক (রা) অবগত হলেন, তখন তিনি উভয়ের রক্তপণ পরিশোধ করলেন। আর তাঁদের পরিজনের সাথে সদ্ব্যবহারের কড়া নির্দেশ দিলেন। হযরত উমর ফারুক (রা) মালিক ইব্ন নুওয়ায়রাকে হত্যা করার জন্য পূর্ব থেকেই হযরত খালিদ ইব্ন ওয়ালীদ (রা)-এর প্রতি অসন্তুষ্ট ছিলেন। এবার আবদুল আযীয ও লাবীদ নামক দুই ব্যক্তিও মালিক ইব্ন নুওয়ায়রার তালিকায় শামিল হলেন। হযরত আবূ বকর সিদ্দীক (রা) হযরত খালিদ ইব্ন ওয়ালীদ (রা)-এর কাছে এ ব্যাপারে কোন কৈফিয়ত তলব করলেন না। বরং বললেন, যে ব্যক্তি মুশরিকদের সাথে থাকবে, তার এরূপ পরিণতিই ঘটবে। রবীআ ইব্ন বুহায়র তাগ্লিবীও বেঁচে গিয়েছিল এবং একটি বিরাট দল সংগ্রহ করে পারস্যবাসীদের সাহায্য করার জন্য প্রস্তুত হচ্ছিল। হুযায়ল পলায়ন করে ইয়াসীর নামক স্থানে আত্তাব ইব্ন উসায়দ-এর নিকট চলে গিয়েছিল। এখানে আত্তাব ইব্ন উসায়দও মুসলমানদের বিরুদ্ধে বিপুল সংখ্যক লোক জড়ো করছিল। হযরত খালিদ ইব্ন ওয়ালীদ (রা) রবীআর পশ্চাদ্ধাবনে কা‘কা‘ (রা) ও আবূ লায়লা (রা)-কে প্রেরণ করলেন এবং হুযায়লের পশ্চাদ্ধাবনে স্বয়ং নিজে গমন করলেন। সুতরাং রবীআ ও তার সকল সঙ্গী ইয়াসীরে নিহত হলো এবং আত্তাব ইব্ন উসায়দ ও হুযায়ল উভয়ে তাদের অধিকাংশ সঙ্গী সাথীসহ মুসলমানদের হাতে প্রাণ হারালো। এরপরই জানা গেলো যে, রিফাযায় বিলাল ইব্ন উকবা নিজের আশেপাশে মুসলমানদের বিরুদ্ধে এক বিরাট বাহিনীর সমাবেশ ঘটিয়েছে। হযরত খালিদ (রা) অবিলম্বে ইয়াসীর থেকে রিফার অভিমুখে রওয়ানা করলেন। সেখানে খালিদ (রা)-এর আগমন সংবাদ শুনে শত্রুপক্ষ পলায়ন করলো এবং পালিয়ে রিযাব ও ফিরাযের দিকে চলে গেলো। এই স্থানগুলো দূমাতুল জান্দালের সংলগ্ন এবং পারস্য, সিরিয়া ও আরবের সংযোগ স্থলে অবস্থিত ছিল। এখানে বনূ তাগ্লিব, বনূ তামার ও বনূ আয়াদের পূর্ব থেকেই সমাবেশ ছিল এবং রোমক বাহিনী তাদের সাহায্যার্থে আগমন করে অদূরেই তাঁবু ফেলেছিল। এইভাবে ইরাকের নিম্নভূমি থেকে যে যুদ্ধের সিলসিলা শুরু হয়েছিল, তা ইরানী বাহিনী অতিক্রম করে মধ্যবর্তী গোত্র ও রঈসদের মাধ্যমে রোমক বাহিনী পর্যন্ত পৌঁছে গেলো।