১
ইসলামের ইতিহাস ১ম খণ্ড
লেখকঃ মাওলানা আকবর শাহ খান নজিববাদী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৩৯১
বসরার গভর্নরের বিরোধিতা
হযরত আয়িশা (রা)-এর বাহিনী বসরার নিকটবর্তী হলে তিনি প্রথমে আবদুল্লাহ ইব্ন আমেরকে বসরাবাসীদের কাছে পাঠান। তিনি সেখানকার গণ্যমান্য লোকদের কাছে পত্রাদিও লিখেন এবং তার জবাবের অপেক্ষা করেন। বসরার তখনকার গভর্নর উসমান ইব্ন হুনায়ফ তাঁর আগমন সংবাদ জানতে পেরে বসরার গণ্যমান্য লোকদের একটি প্রতিনিধিদল তাঁর কাছে পাঠান। তারা উম্মুল মু’মিনীনের সাথে সাক্ষাৎ করে তাঁর আগমনের কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিদ্রোহীরা এবং বিভিন্ন গোত্রের দুষ্কৃতিকারীরা এই হাঙ্গামার সৃষ্টি করেছে এবং তারা মুসলমানদের ঐক্য বিনষ্ট করে ইসলামের ক্ষতিসাধন করতে চাচ্ছে। আমি মুসলমানদের এই দল নিয়ে এজন্য বের হয়েছি যে, আমি জনসাধারণকে প্রকৃত ঘটনা অবহিত করব এবং তাদেরকে সংশোধন করব। মুসলমানদের সংশোধন ছাড়া আমার এই সফরের অন্য কোন উদ্দেশ্য নেই। বসরার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা এরপর হযরত তালহা ও হযরত যুবায়র (রা)-এর সাথে সাক্ষাৎ করে তাদের আগমনের কারণ জিজ্ঞাসা করেন। তাঁরা বলেন, আমরা হযরত উসমান হত্যার প্রতিশোধ নেয়ার জন্য বের হয়েছি। এরপর বসরাবাসীরা প্রশ্ন করেন, আপনারা উভয়ে কি হযরত আলী ইব্ন আবী তালিব (রা)-এর হাতে বায়‘আত করেন নি? তারা বলেন, আমরা বায়‘আত করেছি, তবে এই শর্তে যে হযরত উসমান হত্যার প্রতিশোধ নিতে হবে। তাছাড়া যখন আমাদের কাছ থেকে বায়‘আত গ্রহণ করা হয় তখন তরবারি আমাদের মাথার উপর ঝুলছিলো। এরপর বসরার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উসমান ইব্ন হুনায়ফের কাছে ফিরে যান এবং হযরত আয়িশা, তালহা ও যুবায়র (রা)-এর সাথে তাদের যে কথাবার্তা হয়েছে সে সম্পর্কে তাকে অবহিত করেন। উসমান ইব্ন হুনায়ফ তা শুনে বিস্মিত হন এবং অলক্ষ্যে বলে উঠেন :
انا لله وانا اليه راجعون
এরপর তিনি বসরার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের জিজ্ঞেস করেন, এখন আপনাদের ইচ্ছা কি? তারা বলেন, চুপচাপ থাকুন। উসমান বলেন, আমি তাদের প্রতিরোধ করব যতক্ষণ না হযরত আলী (রা) এখানে এসে পৌঁছেন। তারপর বসরার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা নিজ নিজ বাড়িতে গিয়ে চুপচাপ থাকেন। এবার উসমান এই মর্মে ঘোষণা দেন যে, সমগ্র বসরাবাসী যেন অবিলম্বে যুদ্ধের প্রস্তুতি গ্রহণ করে এবং মসজিদে এসে সমবেত হলে উসমান ইব্ন হুনায়ফ বসরার কায়স নামীয় জনৈক ব্যক্তিকে বক্তৃতা দেওয়ার জন্য দাঁড় করান। সে বলতে লাগলো, লোকেরা! যদি তালহা, যুবায়র এবং তাদের সঙ্গীরা এখানে তাদের প্রাণের নিরাপত্তার জন্য এসে থাকেন তাহলে এটা সম্পূর্ণ ভুল। কেননা মক্কায় সামান্য একটি পাখিরও প্রাণের নিরাপত্তা রয়েছে।
সেখানে কেউ কাউকে কষ্ট দিতে পারে না। আর যদি তারা উসমান হত্যার বদলা নেবার জন্য এসে থাকেন তাহলে আমরা তো হযরত উসমান (রা)-এর হত্যাকারী নই। অতএব এটাই সমীচীন যে, তাঁরা যেদিক থেকে এসেছে তোমরা তাদেরকে সেদিকেই ফিরিয়ে দাও। এ বক্তৃতা শুনে আসওয়াদ ইব্ন সুরায় আস-সাদী দাঁড়িয়ে বললেন, এরা আমাদের উসমান (রা)-এর হত্যাকারী ভেবে এখানে আসেনি, বরং তার হত্যাকারীদের মুকাবিলা করার জন্য আমাদের সাহায্য চাইতে এসেছে। একথা শুনে লোকেরা উল্লিখিত কায়সের উপর কংকর নিক্ষেপ করতে শুরু করে। ফলে মসজিদের ঐ সভা পণ্ড হয়ে যায়। উসমান ইব্ন হুনায়ফ বুঝতে পারেন যে, বসরায়ও তালহা এবং যুবায়র (রা)-এর প্রতি সহানুভূতিশীল এবং তাদের সাহায্যকারী লোক রয়েছে।
انا لله وانا اليه راجعون
এরপর তিনি বসরার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের জিজ্ঞেস করেন, এখন আপনাদের ইচ্ছা কি? তারা বলেন, চুপচাপ থাকুন। উসমান বলেন, আমি তাদের প্রতিরোধ করব যতক্ষণ না হযরত আলী (রা) এখানে এসে পৌঁছেন। তারপর বসরার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা নিজ নিজ বাড়িতে গিয়ে চুপচাপ থাকেন। এবার উসমান এই মর্মে ঘোষণা দেন যে, সমগ্র বসরাবাসী যেন অবিলম্বে যুদ্ধের প্রস্তুতি গ্রহণ করে এবং মসজিদে এসে সমবেত হলে উসমান ইব্ন হুনায়ফ বসরার কায়স নামীয় জনৈক ব্যক্তিকে বক্তৃতা দেওয়ার জন্য দাঁড় করান। সে বলতে লাগলো, লোকেরা! যদি তালহা, যুবায়র এবং তাদের সঙ্গীরা এখানে তাদের প্রাণের নিরাপত্তার জন্য এসে থাকেন তাহলে এটা সম্পূর্ণ ভুল। কেননা মক্কায় সামান্য একটি পাখিরও প্রাণের নিরাপত্তা রয়েছে।
সেখানে কেউ কাউকে কষ্ট দিতে পারে না। আর যদি তারা উসমান হত্যার বদলা নেবার জন্য এসে থাকেন তাহলে আমরা তো হযরত উসমান (রা)-এর হত্যাকারী নই। অতএব এটাই সমীচীন যে, তাঁরা যেদিক থেকে এসেছে তোমরা তাদেরকে সেদিকেই ফিরিয়ে দাও। এ বক্তৃতা শুনে আসওয়াদ ইব্ন সুরায় আস-সাদী দাঁড়িয়ে বললেন, এরা আমাদের উসমান (রা)-এর হত্যাকারী ভেবে এখানে আসেনি, বরং তার হত্যাকারীদের মুকাবিলা করার জন্য আমাদের সাহায্য চাইতে এসেছে। একথা শুনে লোকেরা উল্লিখিত কায়সের উপর কংকর নিক্ষেপ করতে শুরু করে। ফলে মসজিদের ঐ সভা পণ্ড হয়ে যায়। উসমান ইব্ন হুনায়ফ বুঝতে পারেন যে, বসরায়ও তালহা এবং যুবায়র (রা)-এর প্রতি সহানুভূতিশীল এবং তাদের সাহায্যকারী লোক রয়েছে।