hadith book logo

ইসলামের ইতিহাস ১ম খণ্ড

লেখকঃ মাওলানা আকবর শাহ খান নজিববাদী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ১৭০

বায়‘আতে রিযওয়ান

হযরত উসমান (রা)-এর ফিরে আসতে যখন দেরী হলো, তখন মুসলমানদের মধ্যে এই খবর রটে গেলো যে, উসমান (রা)-কে মক্কাবাসীরা শহীদ করে দিয়েছে। এই খবর শুনতেই নবী কারীম (সাঃ) বললেন, উসমান হত্যার প্রতিশোধ না নিয়ে আমরা এখান থেকে একটুও নড়বো না। তিনি তখনই একটি গাছের নীচে বসে পড়লেন এবং সমস্ত সাহাবা থেকে প্রাণ বিসর্জন দেয়ার বায়‘আত নিলেন। এই বায়‘আতই বায়‘আতে রিযওয়ান নামে খ্যাত। কুরআনুল করীমে এর উল্লেখ করা হয়েছে এভাবে–

۞ لَقَدْ رَضِيَ اللَّهُ عَنِ الْمُؤْمِنِينَ إِذْ يُبَايِعُونَكَ تَحْتَ الشَّجَرَةِ .

মু’মিনরা যখন বৃক্ষতলে আপনার নিকট বায়‘আত গ্রহণ করলো, তখন আল্লাহ্ তাদের প্রতি সন্তুষ্ট হলেন। (৪৮ : ১৮)

কিন্তু কিছুক্ষণ পরই হযরত উসমান গনী (রা) মক্কা থেকে চলে এলেন এবং তিনিও রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ)-এর নিকট অনুরূপ বায়‘আত গ্রহণ করলেন। মক্কার কাফিরদের দূরদর্শী ও বুদ্ধিমান লোকেরা লড়াই করা অপছন্দ করেছিল। কিন্তু তাদের মধ্যে বেশীর ভাগ লোকই ছিল কলহপরায়ণ। এক্ষণে মুসলমানদের রণ-প্রস্তুতি দেখে এই ফাসাদী লোকেরাও কিছুটা সন্ধি ও সমঝোতার দিকে ঝুঁকলো। তাই মক্কাবাসীরা বনূ সাকীফের সরদার উরওয়া ইব্‌ন মাসউদকে হযরত নবী (সাঃ)-এর নিকট প্রেরণ করলো। উরওয়া এসে বললো, মুহাম্মদ (সাঃ)! কুরায়শের গোত্র তোমাদের মুকাবিলার জন্য প্রস্তুত। তোমার সাথে যেসব লোক আছে মুকাবিলার সময় তারা সবাই তোমাকে একাকী রেখে পলায়ন করবে। কুরায়শদের সামনে তারা কস্মিনকালেও তিষ্টাতে পারবে না। হযরত আবূ বকর সিদ্দীক (রা) উরওয়ার এই কথা শুনে অতি কঠোর ভাষায় দাঁতভাংগা জবাব দিলেন। উরওয়া নীরব হয়ে গেলো। হযরত নবী করীম (সাঃ) উরওয়াকে বললেন, আমরা যুদ্ধ করার জন্য আসিনি, উমরাহ করার জন্য এসেছি। কিন্তু মক্কাবাসী যদি লড়াই করতে চায়, তবে আমি আমার নবুওয়াতের কাজের জন্য আমার হাড় থেকে গোশত বিচ্ছিন্ন না হওয়া পর্যন্ত কিংবা আল্লাহ তার ফায়সালা ঘোষণা না করা পর্যন্ত তাদের সাথে লড়াই করবো। মক্কাবাসী যদি চায়, তবে একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য আমার সাথে যুদ্ধ-বিরতি চুক্তি করতে পারে। এই সময়ে তারা আমাকে ইসলাম প্রচার করতে দেবে আর ইচ্ছা হলে স্বয়ং নিজেরাও ইসলাম গ্রহণ করে চিরতরে যুদ্ধ-বিগ্রহ শেষ করে দেবে।