hadith book logo

ইসলামের ইতিহাস ১ম খণ্ড

লেখকঃ মাওলানা আকবর শাহ খান নজিববাদী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৩১৬

কায়সারিয়া (কায়সারাহ) ও আজনাদায়ন বিজয়

যে সময়ে ইসলামী বাহিনী ইনতাকিয়াহ ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকা জয় করছিল ঠিক সেই সময়ে দামিশকের কর্মকর্তা হযরত ইয়াযীদ ইব্‌ন আবূ সুফিয়ান (রা) হযরত ফারূকে আযম (রা)-এর নির্দেশ অনুযায়ী আপন ভাই হযরত মুআবিয়া ইব্‌ন আবূ সুফিয়ান (রা)-কে কায়সারিয়ার দিকে প্রেরণ করেন। সেখানে মুসলমান ও খ্রিস্টানদের মধ্যে প্রচণ্ড যুদ্ধ সংঘটিত হয়। তাতে আশি-হাজার খ্রিস্টান মুসলমানগণের হাতে নিহত হয় এবং কায়সারিয়া মুসলমানদের অধিকারে চলে আসে।

‘মারজেরূম’ অভিযান এবং বীসান বিজয়ের পর হিরাক্লিয়াস আরতাবুন নামীয় বাতরীককে, যিনি একজন বীরবর ও বিখ্যাত সেনাপতি ছিলেন, আজনাদায়ন নামক স্থানে সৈন্য সংগ্রহের নির্দেশ দেন। আরতাবূন সৈন্য সংগ্রহ করে একটি বিরাট বাহিনী আজনাদায়নে নিজের কাছে রাখেন এবং একটি বাহিনী রামাল্লায় ও অপর একটি বাহিনী বায়তুল মুকাদ্দাসে মোতায়েন করেন। এ বাহিনীগুলো সব ধরনের সমরাস্ত্রে সজ্জিত হয়ে আক্রমণকারী মুসলমানদের অপেক্ষা করতে থাকে। হযরত আমর ইব্‌ন ‘আস (রা) যিনি ঐ অঞ্চলের মুসলিম বাহিনীর নেতৃত্বে ছিলেন, হযরত আবূ উবায়দা (রা)-এর নির্দেশ অনুযায়ী আলকামা ইব্‌ন হাকীম ফারাসী ও মাসরূর ইব্‌ন আল-আকীকে বায়তুল মুকাদ্দাসের দিকে এবং হযরত আবূ আইয়ুব মালিকীকে রামাল্লায় প্রেরণ করেন। তিনি নিজে আরতাবূনের মুকাবিলায় আজনাদায়নের দিকে রওয়ানা হন। আজনাদায়নে ইয়ারমূক যুদ্ধের ন্যায় এক ভীষণ যুদ্ধ সংঘটিত হয়। শেষ পর্যন্ত আরতাবূন হযরত আমর (রা)-এর কাছে পরাজিত হয়ে বায়তুল মুকাদ্দাসের দিকে পলায়ন করেন। হযরত আলকামা ইব্‌ন হাকীম ফারাস, যিনি বায়তুল মুকাদ্দাসে প্রবেশের সুযোগ দেন। আরতাবূন বায়তুল মুকাদ্দাসে ঢুকে পড়েন এবং হযরত আমর (রা) আজনাদায়ন দখল করে নেন।