hadith book logo

ইসলামের ইতিহাস ১ম খণ্ড

লেখকঃ মাওলানা আকবর শাহ খান নজিববাদী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৪২৫

আলী (রা)-এর কবর অজ্ঞাত

হযরত আলী (রা)-এর ইনতিকালের পর ইব্‌ন মুলজিমকে হাসান (রা)-এর সামনে উপস্থিত করা হলে তিনি তরবারির এক আঘাতেই তাকে হত্যা করেন। আলী (রা) পৌনে পাঁচ বছর খিলাফতের আসনে অধিষ্ঠিত থেকে ৬৩ বছর বয়সে ইনতিকাল করেন। হাসান, হুসায়ন ও আবদুল্লাহ ইব্‌ন জা‘ফর (রা) তার গোসল দেন এবং তিন কাপড়ের কাফন পরান। কাফনের মধ্যে কোন কামীজ ছিল না। হাসান (রা) তার জানাযায় নামায পড়ান। কোন কোন বর্ণনামতে কূফার মসজিদে, কোন কোন বর্ণনামতে তাঁর নিজের ঘরে, আবার কোন কোন কোন বর্ণনামতে কূফা থেকে দশ মাইল দূরে তাকে দাফন করা হয়। কোন কোন বর্ণনামতে, না জানি খারিজীরা তার দেহ অসম্মান করে এই ভয়ে হযরত হাসান (রা) তাকে মূল কবর থেকে উঠিয়ে অতি গোপনে অপর একটি কবরে দাফন করেন। অপর এক বর্ণনা মতে, রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ)-এর পাশে দাফন করার উদ্দেশ্যে তার জানাযা মদীনায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছিলো। কিন্তু পথিমধ্যে জানাযাবাহী উটটি দৌড়ে পালায়। এরপর তার কোন সন্ধান পাওয়া যায়নি। অপর একটি বর্ণনামতে, ঐ উটটিকে তাঈ নামক স্থানে পাওয়া যায়। লোকেরা সঙ্গে সঙ্গে তা ধরে ফেলে এবং তার পিঠের উপর থেকে জানাযা নামিয়ে সেখানেই দাফন করে। মোটকথা, এত বড় একজন মহান ব্যক্তির মাযার কোথায় তা আজ পর্যন্ত কেউ জানতে পারেনি। এর মূল কারণ এই যে, খারিজীদের ভয়ে তাকে এমন এক জায়গায় দাফন করা হয়, যার কথা সাধারণ মানুষ জানত না। সম্ভবত এর মধ্যে এক বড় হিকমত (রহস্য) এই যে, পরবর্তীকালে মানুষেরা আলী (রা)-কে ‘খোদার মর্যাদায়’ অধিষ্ঠিত করতেও দ্বিধা করেনি। যদি তাঁর মাযারের সঠিক সন্ধান জানা থাকত তাহলে লোকেরা সেটাকে শিরকের একটি কেন্দ্রস্থলে পরিণত করে ছাড়ত। আমরা অহরহ দেখতে পাচ্ছি, কত মহান ব্যক্তির কবরকেই না লোকেরা ‘কিবলা’ ও প্রতিমা বানিয়ে রেখেছে। এটা নিশ্চিত যে, আলী (রা)-এর কবর চিহ্নিত থাকলে আজ অনেক মুসলমানের অবস্থা মক্কার মুশরিকদের মতই হত।