hadith book logo

ইসলামের ইতিহাস ১ম খণ্ড

লেখকঃ মাওলানা আকবর শাহ খান নজিববাদী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ২৫৫

জাতীয়তার পথভ্রষ্টতা

মুসায়লামার চারপাশে রবীআ গোত্রের চল্লিশ হাজার যোদ্ধা সমবেত হয়েছিল। তাদের মধ্যে কেউ কেউ এমনও ছিল যারা মুসায়লামাকে মিথ্যুক নবী মনে করতো। কিন্তু স্বজাতীয়তার দরুন তার সাফল্য কামনা করতো। তাদের বক্তব্য ছিল—মুসায়লামা মিথ্যুক এবং মুহাম্মদ (সাঃ) সত্যবাদী বটে। কিন্তু আমাদের কাছে রবীআ গোত্রের মিথ্যুক নবী মুদার গোত্রের সত্য নবী অপেক্ষা অধিক প্রিয়। হযরত খালিদ ইব্‌ন ওয়ালীদ (রা)-কে বিদায় করার পর হযরত আবূ বকর সিদ্দীক (রা) তাঁর সাহায্যার্থে আরো সৈন্য প্রেরণ করেন, যারা পথিমধ্যে হযরত খালিদ ইব্‌ন ওয়ালীদ (রা)-এর সেনাদলে গিয়ে শামিল হতে থাকলো। হযরত খালিদ ইব্‌ন ওয়ালীদের সৈন্যসংখ্যা ছিল সর্বমোট তেরো হাজার। ইয়ামামা শহর যখন একদিনের দূরে ছিল, তখন হযরত খালিদ ইব্‌ন ওয়ালীদ (রা) একটি ক্ষুদ্র দলকে অগ্রবর্তী দল হিসাবে প্রেরণ করেন।

ঐদিনই মুসায়লামা মুজাআ ইব্‌ন মুরারাকে বনু তামীমের উপর হামলা করার জন্য ষাট জনের একটি দলসহ প্রেরণ করলো। ইসলামী অগ্রবর্তী দলের সাথে মুজাআর মুকাবিলা হলো। ফলে, সমস্ত মুরতাদ নিহত হলো এবং তাদের সরদার মুজাআকে গ্রেফতার করে হযরত খালিদ ইব্‌ন ওয়ালীদ (রা)-এর নিকট হাযির করা হলো। খালিদ ইব্‌ন ওয়ালীদ (রা) সামনে অগ্রসর হয়ে ইয়ামামা শহরের নিকটবর্তী হলেন। মুসায়লামা ইয়ামামা শহর থেকে বের হয়ে শহর তোরণ সন্নিহিত একটি উদ্যানে—যার নাম রেখেছিল যে হাদীকাতুর রহমান-তাঁবু স্থাপন করলো। এই উদ্যানের বাউন্ডারী ছিল খুব মযবুত ও দুর্গ সদৃশ। মুসায়লামা বাহিনীর সৈনাপত্য ছিল রিজাল ইব্‌ন আনফুহ ও মাহকাম ইব্‌ন তুফায়লের হাতে ন্যস্ত।