hadith book logo

ইসলামের ইতিহাস ১ম খণ্ড

লেখকঃ মাওলানা আকবর শাহ খান নজিববাদী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৪৩

আরবের নৈতিক অবস্থা

পূর্বেই বলা হয়েছে, আরবদেশ প্রাচীনকাল থেকেই সামী খান্দান তথা সেমিটিক জাতির প্রতিপত্তি ছিল। প্রাথমিক যুগে আরবদের তথা আরবে বায়িদার বিবরণ খুব কমই জানা যায়। তাতে এ ব্যাপারে নিশ্চিতভাবে কিছুই জানা যায় না যে, সমসাময়িকদের বিশ্বের অন্যান্য জাতির তুলনায় আরবে বায়িদার নৈতিক অবস্থা কী ছিলো। তবুও অনুমিত হয় যে, সেকালে গোটা বিশ্বের লোকসংখ্যা যখন মনুষ্য বসতির সংখ্যা ছিলো একান্তই অল্প তখন সকল জাতির অবস্থা প্রায় অভিন্নই ছিলো। বনী ইসমাঈল-এর উন্নতির পূর্বে আরবে বায়িদার পর কাহ্‌তানী আরবদের যুগে আরবদেশে অনেক রাজ্য ও রাজবংশের অস্তিত্ব ছিল বলে জানা যায়। কিন্তু কোন যুগেই গোটা আরব একই শাসনকর্তার অধীনে ছিল না। এক এক প্রদেশে এক একটি রাজবংশের বা রাজার রাজত্ব ছিল। এঁদের মধ্যে কেউ কেউ বেশ যশস্বীও হয়েছেন। এতদসত্তেও দেশের অভ্যন্তরে স্বাধীনচেতা বেদুঈন পরিবারসমূহের উটের পিঠে তাঁবু ও গৃহসামগ্রী নিয়ে দূর-দূরান্তে পাড়ি জমাবার দৃশ্যও সাধারণভাবে পরিদৃষ্ট হতো পানি ও শস্য-সামগ্রীর অপর্যাপ্ততা আরবদেরকে আবহমানকাল থেকেই মরুচারী, কষ্ট-সহিষ্ণু যাযাবর জীবনে অভ্যস্ত করে রেখেছে। জীবনযাত্রার প্রয়োজনীয় দ্রব্যসম্ভারের অপর্যাপ্ততা তাদের সভ্যতা-সংস্কৃতিকে অগ্রসর হতে দেয়নি। ফলে তাদের সমাজ জীবনে তেমন কোন পরিবর্তন বা সংস্কারের ছোঁয়া লাগেনি। বৈচিত্র্যহীন জীবনধারা ও নৈসর্গিক দৃশ্য তাদের জীবনকে একান্তই একঘেয়ে ও দুর্বিষহ করে রেখেছিল। দিগন্ত বিস্তৃত মরুভূমি, উৎপন্নজাত দ্রব্যাদির স্বল্পতা, মূল্যবান দ্রব্যসামগ্রীর অভাব, জনসংখ্যা ও জনপদের স্বল্পতার দরুন বহির্বিশ্বের কোন দিগ্বিজয়ী শাসক বা বিজেতা জাতি কোন দিন আরব জয়ে প্রলুব্ধ হয়নি। পর্যটক বা বণিকদেরকে আকর্ষণ করার মত কোন সামগ্রীও এ উপদ্বীপে বর্তমান ছিল না। ফলে বহির্বিশ্বের জাতিসমূহের উন্নতি-প্রগতি সম্পর্কে আরবরা সাধারণভাবে অনবহিত ছিল। এজন্যে তারা অন্য কোন জাতির সভ্যতা-সংস্কৃতি ও সমাজব্যবস্থা দ্বারা প্রভাবান্বিতও হয়নি।

কবি হালী যথার্থই তাদের সম্পর্কে লিখেছেন :

نه وه غیر قوموں په چڑھ کر گیا تھا

نه اس پر کوئی غیر فرماں روا تھا

অপর জাতির তারা করেনি শাসন

অপরও পায়নি তার শাসক-আসন।