hadith book logo

ইসলামের ইতিহাস ১ম খণ্ড

লেখকঃ মাওলানা আকবর শাহ খান নজিববাদী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ২১২

ওফাতের কিছু পূর্বে

হযরত আলী (রা), হযরত আব্বাস (রা), ফযল ইব্‌ন আব্বাস (রা), হযরত আবূ বকর (রা), হযরত উমর (রা) প্রমুখ এই রোগাক্রান্তের দিনগুলোতে প্রায়ই নবী করীম (সাঃ)-এর কাছে উপস্থিত থাকতেন। পাঁচ/ছয়টি দীনার তার কাছে মওজুদ ছিল। হযরত আয়িশার তহবিলে তা রাখা ছিল। তিনি সেগুলো সাদাকা করে দেয়ার নির্দেশ দিলেন, যেন দুনিয়ায় তিনি কোন বস্তু রেখে না যান। হযরত আলী (রা)-কে তিনি সালাত ও সংশ্লিষ্টদের সম্পর্কে গাফিল না থাকতে উপদেশ দিলেন। হযরত আবূ বকর সিদ্দীক (রা) নবী করীম (সাঃ) অসুস্থ থাকাকালে তেরো ওয়াক্ত সালাত পড়িয়েছেন। একাদশ হিজরীর ১২ই রবীউল আউয়াল সোমবার ফজর সালাতের সময় নবী করীম (সাঃ) মাথায় পট্টি বেঁধে বাইরে বের হলেন। তখন হযরত আবূ বকর (রা) লোকদেরকে ফজরের সালাত পড়াচ্ছিলেন। তিনি এবারও পিছনে সরে আসার ইরাদা করলেন। নবী করীম (সাঃ) আবার তাঁকে নিজ হাতে বাধা দিলেন এবং ডানপাশে বসে সালাত আদায় করলেন। সালাতের পর তিনি লোকদেরকে কিছু ওয়ায-নসীহত করলেন। তিনি যখন তার ওয়ায শেষ করলেন, তখন হযরত আবূ বকর (রা) বললেন, আল্লাহ্‌র ফযলে আজ আপনাকে প্রফুল্লচিত্ত মনে হচ্ছে। এরপর তিনি তাঁর গৃহে গমন করলেন এবং হযরত আয়িশার কোলে মাথা রেখে শুয়ে পড়লেন। হযরত আবূ বকর (রা) নিশ্চিন্ত হয়ে এবং নবী করীম (সাঃ)-কে আজ খুব সুস্থ অবস্থায় দেখে স্বীয় পরিবার-পরিজনের নিকট আপন গৃহে গমন করলেন। এই সময় আবদুর রহমান ইব্‌ন আবূ বকর (রা) একটি তাজা মিসওয়াক হাতে নিয়ে উপস্থিত হলেন। নবী করীম (সাঃ) তার দিকে গভীরভাবে তাকালেন। হযরত আয়িশা (রা) বুঝে ফেললেন যে, তিনি মিসওয়াক চাচ্ছেন। তাই তিনি তাঁর ভাইয়ের হাত থেকে মিসওয়াকটি নিয়ে নিজের দাঁত দিয়ে চিবিয়ে নরম করে রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ)-কে দিলেন। তিনি সেটি দিয়ে মিসওয়াক করলেন। তারপর সেটি রেখে দিয়ে তার মাথা হযরত আয়িশার বুকের উপর রেখে পা বিছিয়ে দিলেন।