hadith book logo

ইসলামের ইতিহাস ১ম খণ্ড

লেখকঃ মাওলানা আকবর শাহ খান নজিববাদী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৮৯

আল্লাহর দিকে মনোনিবেশ

বত্রিশ অথবা পঁয়ত্রিশ বছর বয়ঃক্রমকালে হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)-এর আল্লাহতে অনুরাগ বৃদ্ধি পায় এবং তিনি অত্যধিক নির্জনতাপ্রিয় হয়ে উঠেন। তিনি প্রায়ই একটি জ্যোতি (নূর) দেখতে পেতেন এবং এতে তিনি অত্যন্ত আনন্দিত হতেন। এ জ্যোতির মধ্যে কোন আকার দেখা যেতো না বা কোন আওয়াজও শোনা যেতো না। আরবের মুশরিকী প্রথা-পদ্ধতির প্রতি তিনি সর্বদাই বিমুখ ছিলেন। একদা মক্কায় প্রতিমা পূজারীরা কোন উৎসব উপলক্ষে তাঁর সম্মুখে দেবমূর্তির প্রতি উৎসর্গীকৃত খাবার রেখে দেয়। তিনি সে খাবার যায়দ ইব্‌ন আমরের দিকে ঠেলে দিলেন। কিন্তু তিনিও তা খেলেন না, বরং প্রতিমা পূজারীদেরকে লক্ষ্য করে বললেন, আমরা দেবমূর্তির নামে উৎসর্গিত খাবার খাই না। ইনি হচ্ছেন সেই যায়দ ইব্‌ন আমর ইব্‌ন নুফায়ল, যার কথা উপরে বর্ণিত হয়েছে এবং যিনি হযরত উমর (রা)-এর চাচা ছিলেন। তিনি নির্জনতার মুহূর্তগুলোতে আল্লাহর সৃষ্টিলীলা সম্পর্কে গভীরভাবে চিন্তা করতেন এবং অধিকাংশ সময়ই আল্লাহর গুণগানে রত থাকতেন। মুশরিকী কার্যকলাপ ও প্রথা-পদ্ধতি থেকে পুরোপুরি দূরে থাকতেন। বয়স চল্লিশ বছরের যতই নিকটবর্তী হতে লাগলো তাঁর নির্জনবাস ততই বৃদ্ধি পেতে লাগলো। প্রায় সময়ই তিনি ছাতু ও পানি নিয়ে হেরা পর্বতের গুহায় চলে যেতেন এবং সেখানে গিয়ে বেশ কয়েকদিন পর্যন্ত যিকির-আযকার ও ইবাদতে নিমগ্ন থাকতেন। যখন ছাতু ও পানি শেষ হয়ে যেতো তখন ঘরে এসে পুনরায় ছাতু ও পানি নিয়ে যেতেন এবং পুনরায় আল্লাহর ইবাদতে নিমগ্ন হতেন। হেরা গুহা হলো হেরা পর্বতের একটি গুহা। হেরা পর্বতকে আজকাল ‘জাবালে নূর’ বলে অভিহিত করা হয়ে থাকে। মক্কা থেকে তিন মাইল দূরে মিনায় যেতে এ পাহাড়টি বাঁয়ে পড়ে। এ গুহাটি দৈর্ঘ্যে চার গজ এবং প্রস্থে দুই গজ। এ অবস্থায় তিনি সত্য স্বপ্ন দেখতেন। পরদিন প্রত্যুষে অনুষ্ঠিতব্য ঘটনাবলী তিনি রাত্রে স্বপ্নে প্রত্যক্ষ করতেন। এভাবে দীর্ঘ সাতটি বছর তাঁর আল্লাহর ইবাদতের সাধনায় অতিবাহিত হয়। শেষে দু’টি মাস এভাবে কাটে যে তিনি যেন ইবাদতের প্রতিমূর্তি হয়ে দাঁড়ান। হেরা পর্বতের গভীর নির্জনতায় তিনি এ সময়টা পুরোপুরিই নিমগ্ন থাকেন এবং এ সময় উপর্যুপরি তিনি সত্য স্বপ্ন দেখতে থাকেন।