hadith book logo

ইসলামের ইতিহাস ১ম খণ্ড

লেখকঃ মাওলানা আকবর শাহ খান নজিববাদী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ২৯০

নাজরানবাসী খ্রিস্টানদের নির্বাসন

হযরত ফারূকে আযম (রা) হযরত ইয়া‘লা ইব্‌ন উমাইয়া (রা)-কে নির্দেশ দেন, তুমি ইয়ামনে গিয়ে নাজরানবাসী খ্রিস্টানদের বলো, তোমরা এ দেশ ছেড়ে দাও। আমরা তোমাদেরকে আরব-সীমান্তের বাইরে সিরিয়ায় তোমাদের এ জমির চাইতে অধিক পরিমাণ উর্বর জমি দেব। আর আমরা তোমাদেরকে কোনরূপ আর্থিক বা দৈহিক কষ্টের মধ্যে ফেলতে চাই না। এখন থেকে আরব দেশে শুধু মুসলমানগণই থাকবে। কাজেই অমুসলিম থাকা অবস্থায় এখানে তোমাদের অবস্থান সম্ভব নয়।

কোন কোন স্থূল বুদ্ধির লোক নাজরানের খ্রিস্টানদের এ নির্বাসনকে অন্যায় বলে ঘোষণা করে নানা ধরনের আপত্তি উত্থাপন করে থাকে। কিন্তু তারা একথা ভুলে যায় যে, মদীনার ইয়াহূদীরা মুসলমানগণের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে রোমানদেরকে মুসলমানদের উপর আক্রমণ পরিচালনা করতে বিশেষভাবে উদ্বুদ্ধ করেছিল। আর এখন নাজরানের খ্রিস্টানরাও মুসলমানগণের মধ্যে অবস্থান করে রোমান সাম্রাজ্যকে যার সাথে নিত্যদিন মুসলমানগণের সংঘর্ষ চলছিল গুপ্তচর বৃত্তিসহ ইসলাম বিরোধী বিভিন্ন ধরনের ষড়যন্ত্র সফল করার কাজে সহায়তা করছিলেন। হযরত রাসূলুল্লাহ (সাঃ) আরবের খ্রিস্টানদের প্রতিবেশী থেকে এজন্য রক্ষা করতে চাইছিলেন যাতে তাদের ঐ সমস্ত গর্হিত স্বভাব-চরিত্র মুসলমানগণের মধ্যে সংক্রামিত হতে না পারে। তাই তিনি নাজরানের খ্রিস্টানদের সাথে যে অঙ্গীকার পত্র সম্পাদন করেছিলেন তাতে একটি শর্ত ছিল যে, ঈসায়ীরা সুদ খাওয়ার অভ্যাস পরিত্যাগ করবে। আর এ কারণেই তিনি ওসীয়াত করেছিলেন, যেন আরব দেশে ইয়াহূদী ও খ্রিস্টানরা বসবাস করার সুযোগ না পায়। নাজরানে খ্রিস্টানরা রোমান-সম্রাট হিরাক্লিয়াসের সাথে সহানুভূতিশীল আচরণ করে এবং সুদ খাওয়ার অভ্যাস পরিত্যাগ না করে নিজে থেকেই সেই অবস্থায় পৌঁছে যায় যে, তাদেরকে নির্বাসন দেওয়া জরুরী হয়ে পড়ে। আজকালও আমরা পত্র-পত্রিকায়ই ইয়াহূদীদের দেশ থেকে দেশান্তরে নির্বাচিত হওয়ার খবর পড়ে থাকি। তাতে ইউরোপের সুসভ্য দেশসমূহ থেকে বাধ্যতামূলকভাবে তাদের নির্বাসিত হওয়ার এবং সেখানে আক্ষেপের বিবরণ থাকে। এতে প্রমাণ হয় যে, নাজরানের খ্রিস্টানদের নির্বাসন তাদের বিপদ নয় বরং সুযোগই ছিল।