hadith book logo

ইসলামের ইতিহাস ১ম খণ্ড

লেখকঃ মাওলানা আকবর শাহ খান নজিববাদী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ১০৯

মক্কায় প্রত্যাবর্তন

নাখলা থেকে রওনা হয়ে হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) হেরা পর্বতে আসেন এবং সেখানে অবস্থান করে কুরায়শ সরদারদের কারো কারো কাছে এ মর্মে পয়গাম পাঠালেন যে, তারা যেনো তাকে তাদের জামানতে বা আশ্রয়ে গ্রহণ করেন। কিন্তু কেউই তাতে সম্মত হলো না। মূত‘ঈম ইব্‌ন আদীর কাছে যখন তার পয়গাম পৌঁছলো তখন তিনি উঠে দাঁড়ালেন এবং তিনি মুশরিক ও কাফির হওয়া সত্ত্বেও তার আরবী আভিজাত্য এবং গোত্রীয় টান তার মধ্যে এমনিভাবে মাথাচাড়া দিয়ে উঠলো যে, তিনি তৎক্ষণাৎ সোজা হেরা পর্বতে গিয়ে উপস্থিত হলেন এবং হযরত নবী (সাঃ)-কে সঙ্গে নিয়ে মক্কায় এসে উপস্থিত হলেন। মুত‘ঈমের পুত্র তখন উক্ত তরবারি হাতে খানায়ে কা‘বার সম্মুখে দাঁড়িয়ে গেলেন। হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) কা‘বা শরীফ তাওয়াফ করলেন। তারপর মুত‘ঈম এবং তাঁর পুত্রগণ উন্মুক্ত তরবারির প্রহরায় তাকে নিরাপদে বাড়ি পৌঁছিয়ে দিলেন। কুরায়শরা মুত‘ঈমকে জিজ্ঞেস করলো : মুহাম্মদের সাথে তোমার কী সম্পর্ক? মুত‘ঈম জবাব দিলেন : সম্পর্ক কিছুই নেই, তবে আমি তাঁর একজন সমর্থক। যতক্ষণ পর্যন্ত তিনি আমার আশ্রয়ে আছেন ততক্ষণ পর্যন্ত কেউ তাঁর দিকে চোখ তুলে তাকাতে পারবে না। মুত‘ঈমের এ দৃঢ় সমর্থন ও নির্ভীক আচরণে কুরায়শরা অনেকটা স্তব্ধ হয়ে গেলো।

একটি রিওয়ায়াতে আছে, হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) যখন তায়িফে কাফির-মুশরিকদের কংকর আঘাতে জর্জরিত তখন জনৈক ফেরেশতা তাঁর খিদমতে উপস্থিত হয়ে আরয করেন যে, যদি আপনি নির্দেশ দেন তবে আমি পাহাড় উত্তোলন করে তায়িফবাসীদের উপর নিক্ষেপ করবো। তাতে তারা পিষে মরবে। কিন্তু হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) জবাবে বলেন : না, তা কখনো হতে পারে না। আমি আশা করি, এরা যদি ইসলাম গ্রহণ না করে, তবে এদের সন্তানরা অবশ্যই ইসলামের খিদমতে আত্মনিয়োগ করবে। তাদের পরবর্তী গোটা প্রজন্ম ইসলাম গ্রহণ করবে। আমি তাদের ধ্বংস কামনা করি না।