১
ইসলামের ইতিহাস ১ম খণ্ড
লেখকঃ মাওলানা আকবর শাহ খান নজিববাদী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ২২৫
পরম প্রশংসিত চরিত্র
হযরত নবী করীম (সাঃ) যখন বসতেন, তখন মানুষের মধ্যে এরূপ মিলেমিশে বসতেন যে, কোন নবাগত ব্যক্তি তাকে চিনতে পারতেন না এবং জিজ্ঞাসা করার প্রয়োজন হতো যে, নবী কোন্ ব্যক্তি। যে বস্তু খাইলে মুখ দুর্গন্ধযুক্ত হয়, তিনি তা পছন্দ করতেন না। তালিদার কাপড়ও পরিধান করতেন এবং ভাল কাপড় পাওয়া গেলেও তা ফেলে দিতেন না। তাঁর পোশাক সাদা কিন্তু পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকত। প্রতিদিন কয়েক বার করে মিসওয়াক করতেন। তার নিকট উপবেশনকারীরা সাক্ষ্য দিয়েছেন যে, তাঁর শরীর, পোশাক বা মুখ থেকে কখনো গন্ধ আসেনি। যেখানে মার্জনায় সংশোধন হতো, সেখানে তিনি মার্জনা করতেন। কিন্তু যেখানে শাস্তির প্রয়োজন হতো, সেখানে শাস্তিও প্রদান করতেন। কেননা, যে দুষ্টরা তাদের দুষ্টামি থেকে বিরত থাকে না, তাদেরকে শাস্তি না দেয়া মন্দের সাহায্য করার নামান্তর।
মুসলমানদের দান-খয়রাতকে তিনি মুসলমানদের মধ্যেই সীমিত রাখেন নি, খ্রিস্টান, ইয়াহূদী, মুশরিক সবার সাথে বদান্যতা দেখাতেন। তার উপর যতবড় বিপদই আসুক না কেন তিনি তা সহজেই সহ্য করে নিতেন। কিন্তু অন্যের বিপদ দেখলে তিনি বিচলিত হয়ে পড়তেন। তিনি উপায়-উপকরণ গ্রহণ করতেন এবং ফলাফল আল্লাহর হাতে ছেড়ে দিতেন। ফলাফল প্রত্যাশা বিরোধী হতে পারে এমন আশংকায় তিনি ভীত হতেন না। তাঁর মধ্যে বিনয় ছিল, কিন্তু নীচতা ছিল না। ভীতি ছিল, কিন্তু রুক্ষতা ছিল না। বদান্যতা ছিল কিন্তু ব্যয়-বাহুল্য ছিল না। যে ব্যক্তি তার সামনে হঠাৎ আগমন করতো, সে সন্ত্রস্ত হয়ে পড়ত। আর যে কাছে এসে বসতো, সে ভক্ত বনে যেতো। সংক্রামক ব্যাধি থেকে নিরাপদ রাখতেন। সুস্থ ব্যক্তিদেরকে সাবধান থাকার নির্দেশ দিতেন। মূর্খ ডাক্তারকে ডাক্তারী করতে নিষেধ করতেন। হারাম বস্তুকে ওষুধরূপে ব্যবহার করা অপছন্দ করতেন। কোন ব্যাপারে যখন দু’টি পন্থা সামনে আসতো, তখন সহজ পন্থাটি অবলম্বন করতেন। যুদ্ধবন্দীদেরকে মেহমানদের মতো তত্ত্বাবধান করতেন। তীরন্দাযী, চাঁদমারি, ঘোড়াদৌড় প্রভৃতি পুরুষোচিত শারীরিক ব্যায়ামেও তিনি অংশ গ্রহণ করতেন।
হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)-এর সংক্ষিপ্ত জীবনচরিত উপরে আলোচিত হলো। এতদ্সঙ্গে তাঁর খাতামুন-নাবিয়্যীন, রাহমাতুল্লিল আউয়ালীন ওয়ালা আখিরীন হওয়ার দলীল-প্রমাণও সন্নিবেশিত করার প্রয়োজন ছিল। তাছাড়া, কুরআন করীমের সর্বশেষ কিতাব হওয়া, নূর ও হিদায়াত এবং পূর্ণাঙ্গ হিদায়াতনামা হওয়াও প্রমাণিত করা আবশ্যক ছিল। এই জরুরী বিষয় দু’টি হযরত নবী করীম (সাঃ)-এর জীবনী লেখক প্রত্যেক ঐতিহাসিকই অবশ্য লিখতে চেয়ে থাকবেন। কিন্তু যেহেতু ইতিহাস, কালাম শাস্ত্র, দর্শন একেকটি স্বতন্ত্র বিষয়, তাই ঐতিহাসিকগণ এই বিষয়গুলোকে অন্যদের জন্য রেখে দিয়েছেন আর এটাই ছিল সঙ্গত ও যুক্তিযুক্ত। হুজ্জাতুল ইসলাম নামক গ্রন্থে আমি কুরআন ও নবুওয়াত সম্পর্কে বিশদ আলোচনা করেছি। আগ্রহী পাঠক সেটি দেখে নিতে পারেন।
মুসলমানদের দান-খয়রাতকে তিনি মুসলমানদের মধ্যেই সীমিত রাখেন নি, খ্রিস্টান, ইয়াহূদী, মুশরিক সবার সাথে বদান্যতা দেখাতেন। তার উপর যতবড় বিপদই আসুক না কেন তিনি তা সহজেই সহ্য করে নিতেন। কিন্তু অন্যের বিপদ দেখলে তিনি বিচলিত হয়ে পড়তেন। তিনি উপায়-উপকরণ গ্রহণ করতেন এবং ফলাফল আল্লাহর হাতে ছেড়ে দিতেন। ফলাফল প্রত্যাশা বিরোধী হতে পারে এমন আশংকায় তিনি ভীত হতেন না। তাঁর মধ্যে বিনয় ছিল, কিন্তু নীচতা ছিল না। ভীতি ছিল, কিন্তু রুক্ষতা ছিল না। বদান্যতা ছিল কিন্তু ব্যয়-বাহুল্য ছিল না। যে ব্যক্তি তার সামনে হঠাৎ আগমন করতো, সে সন্ত্রস্ত হয়ে পড়ত। আর যে কাছে এসে বসতো, সে ভক্ত বনে যেতো। সংক্রামক ব্যাধি থেকে নিরাপদ রাখতেন। সুস্থ ব্যক্তিদেরকে সাবধান থাকার নির্দেশ দিতেন। মূর্খ ডাক্তারকে ডাক্তারী করতে নিষেধ করতেন। হারাম বস্তুকে ওষুধরূপে ব্যবহার করা অপছন্দ করতেন। কোন ব্যাপারে যখন দু’টি পন্থা সামনে আসতো, তখন সহজ পন্থাটি অবলম্বন করতেন। যুদ্ধবন্দীদেরকে মেহমানদের মতো তত্ত্বাবধান করতেন। তীরন্দাযী, চাঁদমারি, ঘোড়াদৌড় প্রভৃতি পুরুষোচিত শারীরিক ব্যায়ামেও তিনি অংশ গ্রহণ করতেন।
হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)-এর সংক্ষিপ্ত জীবনচরিত উপরে আলোচিত হলো। এতদ্সঙ্গে তাঁর খাতামুন-নাবিয়্যীন, রাহমাতুল্লিল আউয়ালীন ওয়ালা আখিরীন হওয়ার দলীল-প্রমাণও সন্নিবেশিত করার প্রয়োজন ছিল। তাছাড়া, কুরআন করীমের সর্বশেষ কিতাব হওয়া, নূর ও হিদায়াত এবং পূর্ণাঙ্গ হিদায়াতনামা হওয়াও প্রমাণিত করা আবশ্যক ছিল। এই জরুরী বিষয় দু’টি হযরত নবী করীম (সাঃ)-এর জীবনী লেখক প্রত্যেক ঐতিহাসিকই অবশ্য লিখতে চেয়ে থাকবেন। কিন্তু যেহেতু ইতিহাস, কালাম শাস্ত্র, দর্শন একেকটি স্বতন্ত্র বিষয়, তাই ঐতিহাসিকগণ এই বিষয়গুলোকে অন্যদের জন্য রেখে দিয়েছেন আর এটাই ছিল সঙ্গত ও যুক্তিযুক্ত। হুজ্জাতুল ইসলাম নামক গ্রন্থে আমি কুরআন ও নবুওয়াত সম্পর্কে বিশদ আলোচনা করেছি। আগ্রহী পাঠক সেটি দেখে নিতে পারেন।