hadith book logo

ইসলামের ইতিহাস ১ম খণ্ড

লেখকঃ মাওলানা আকবর শাহ খান নজিববাদী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ১৭৪

সুস্পষ্ট বিজয়

সন্ধিপত্র সম্পন্ন হওয়ার পর নবী করীম (সাঃ) ও মুসলমানগণ হুদায়বিয়ায় কুরবানী করলেন। ইহরাম খুললেন এবং ক্ষৌরকার্য করালেন। এই সন্ধিপত্র বা চুক্তিপত্রের পর বনূ খুযাআ নবী করীম (সাঃ)-এর সাথে চুক্তিবদ্ধ হলো। আর বনূ বকর চুক্তিবদ্ধ হলো মক্কার কুরায়শের সাথে। বনু খুযাআ ও বনু বকরের মধ্যে বহুকাল ধরে শত্রুতা চলে আসছিল। এরা উভয়েই যেহেতু এক এক পক্ষের চুক্তিবদ্ধ মিত্র বনে গেল, সেহেতু নবী করীম (সাঃ) ও কুরায়শের মধ্যে যেমন শান্তি ও নিরাপত্তার সাথে বসবাস করার চুক্তি হলো তেমনি ঐ দুই গোত্রের মধ্যেও সন্ধি হয়ে গেলো। নবী করীম (সাঃ) যখন হুদায়বিয়া থেকে মদীনা প্রত্যাবর্তন করছিলেন, তখন পথিমধ্যে সূরা ফাত্‌হ নাযিল হলো এবং সাহাবায়ে কিরাম যে সন্ধিকে এক রকম পরাজয় মনে করছিলেন আল্লাহ তা‘আলা তাকে ‘সুস্পষ্ট বিজয়’ ঘোষণা করলেন। প্রকৃতপক্ষে এই সন্ধি ইসলামের জন্য সুস্পষ্ট বিজয়ই ছিল। সাহাবায়ে কিরামের এই সন্ধিকে পরাজয় ভাবার কারণ ছিল, বাহ্যত এর কোন কোন শর্তের মধ্যে তাঁদের হার ও দুর্বলতা প্রকাশ পাচ্ছিল। কিন্তু অনতিকাল পরেই জানা গেল যে, ঐ দুর্বল শর্তগুলোই ছিল অপরিসীম কল্যাণকর শর্ত। ইসলামের জন্য সবচেয়ে বড় বিজয় ছিল যুদ্ধবিগ্রহের পথ বন্ধ হয়ে শান্তি, নিরাপত্তা ও স্থিরতা লাভ। ইসলাম যতখানি শান্তি ও নিরাপদ অবস্থায় তার গণ্ডি বিস্তার করতে পারত, লড়াই ও যুদ্ধ-বিগ্রহের অবস্থায় ততখানি বিস্তার হতে পারত না। ইসলামের আসল উদ্দেশ্যই হচ্ছে দুনিয়ায় মানুষ শান্তি ও নিরাপদ জীবন যাপন করবে। ইসলামকে লড়াইও করতে হয় এই শান্তি ও নিরাপত্তা কায়েম করার জন্যই। ইসলামের যুদ্ধ যুদ্ধের জন্য নয়, বরং যুদ্ধ মিটানো ও শান্তি কায়েম করার জন্য। তাই দেখা যায়, হুদায়বিয়ার সন্ধির পর মাত্র দু’বছরের মধ্যেই মুসলমানদের সংখ্যা দ্বিগুণ হয়ে গিয়েছিল।