hadith book logo

ইসলামের ইতিহাস ১ম খণ্ড

লেখকঃ মাওলানা আকবর শাহ খান নজিববাদী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ২২২

সরলতা

একবার হযরত নবী করীম (সাঃ) বলেন, তোমরা আমার প্রশংসা করতে গিয়ে বাড়াবাড়ি করবে না, যেমনভাবে নাসারারা হযরত ঈসা ইব্‌ন মারয়াম-কে সীমার অধিক বাড়িয়ে দিয়েছে। আমি তো আল্লাহর একজন বান্দা মাত্র। তাই তোমরা আমাকে আবদুল্লাহ ওয়া রাসূলুহু (আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল) বলবে।

একবার তিনি বাইরে আগমন করলে সাহাবায়ে কিরাম সম্মানার্থে দাঁড়িয়ে গেলেন। তখন তিনি বললেন, অনারবরা যেরূপ একে অপরের সম্মানার্থে দাঁড়ায়, তোমরা সেরূপ দাঁড়াবে না। (শিফা, কাযী আয়ায)। তিনি তাঁর আসহাবদের সাথে সম্পূর্ণ মিলেমিশে থাকতেন এবং মজলিসের যেখানে জায়গা পাওয়া যেতো, সেখানে বসে পড়তেন। তিনি চাকরদের কাজে অংশ নিতেন এবং তাদেরকে নিজের কাছে বসাতেন।

বহুবার এমন ঘটনাও ঘটেছে যে, কোন ব্যক্তি কোন ইয়াহূদীর কাছে ঋণী হয়েছে এবং ইয়াহূদী কড়া তাগাদা দিয়েছে। তখন ঐ ব্যক্তি নবী করীম (সাঃ)-এর নিকট এসেছে। তার কাছে কিছু থাকলে তিনি তা দিয়ে দিয়েছেন। নতুবা ঐ ইয়াহূদীর নিকট তিনি নিজে গমন করেছেন এবং তাকে আরেকটু সময় দেয়ার জন্য বলেছেন। কিন্তু ইয়াহূদী ব্যক্তি তাঁর প্রতিও কোন ভ্রুক্ষেপ করত না। তখন তিনি এদিক-সেদিক চেষ্টা করে যেভাবে সম্ভব হতো ঋণ পরিশোধের বন্দোবস্ত করে দিতেন। তিনি বলেন, ক্ষুধার্ত ও গরীব-মিসকীনের জন্য তৎপর ব্যক্তি আল্লাহর পথে জিহাদকারী, রাতভর ইবাদতকারী ও দিনভর সাওম পালনকারীর সমান মর্যাদা সম্পন্ন।

এক ব্যক্তি হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)-এর নিকট উপস্থিত হয়ে আরয করলো, ইয়া রাসূলাল্লাহ্। জান্নাত লাভের আমল কি? তিনি বললেন : সিদ্‌ক (সততা)। কেননা, মানুষ যখন সৎ হয় তখন নেক কাজ করে। আর যখন নেক কাজ করে, তখন ঈমানের নূর পয়দা হয়। আর যখন ঈমানদার হয়, তখন জান্নাতে প্রবেশ করে।

অন্য এক উপলক্ষে তিনি বলেন, খবরদার! সৎ থাকো। সত্যের মধ্যে যদি তুমি ধ্বংসও দেখতে পাও। কেননা, মুক্তি তাতেই নিহিত। মক্কা থেকে, বদর প্রান্তরে আসার সময় পথিমধ্যে আনাস ইব্‌ন শুরায়ক আবূ জাহেলকে বললো, হে আবুল হাকাম! আমি তোমাকে একটি কথা জিজ্ঞেস করছি। এখানে আমাদের দু’জন ছাড়া তৃতীয় কোন ব্যক্তি আমাদের কথা শ্রবণকারী নেই। তুমি আমাকে সত্যি সত্যি বলো, মুহাম্মদ (সাঃ) মিথ্যাবাদী, না সত্যবাদী? আবূ জাহেল জবাব দিল, আল্লাহর কসম! অবশ্যই মুহাম্মদ (সাঃ) সর্বদা সত্য কথা বলেন এবং সে কখনো ভুল তথ্য পরিবেশন করেনি।

হযরত আবূ সাঈদ খুদরী (রা) বলেন, হযরত নবী (সাঃ) শরীফ পর্দানশীন কুমারী বালিকার চাইতেও বেশী লজ্জাশীল ছিলেন। কোন কথা যদি তার অপছন্দ হতো, তবে তা আমরা সহসা তার চেহারা থেকে বুঝে ফেলতাম। কারো কথা যদি তার ভাল না লাগতো তবে তিনি তা ইশারা-ইঙ্গিতে জানিয়ে দিতেন যাতে সে লজ্জিত না হয়। কিন্তু আল্লাহর কালাম ও সত্য প্রচারের ক্ষেত্রে তিনি কারো তোয়াক্কা করতেন না।