hadith book logo

ইসলামের ইতিহাস ১ম খণ্ড

লেখকঃ মাওলানা আকবর শাহ খান নজিববাদী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৫৬

পোশাক-পরিচ্ছদ ও খাবার-দাবার

আরব দেশে রেশম বা তুলা কিছুই উৎপন্ন হয় না। যদিও বা কোন প্রদেশে উৎপন্ন হয়, তাও পরিমাণে এতই অল্প যে দেশবাসীর প্রয়োজন তা মেটাতে পারে না। ইয়ামানে প্রাচীনকাল থেকেই বস্ত্র বয়ন হয়ে আসছে। সাধারণভাবে আরববাসীদের লেবাস-পোশাক অত্যন্ত সাদাসিধে ও অনাড়ম্বর ছিল। মোটা কাপড়ের জামায় চর্মের তালি লাগিয়ে পরা ছিল সাধারণ ব্যাপার। কেউ কেউ চামড়ার ছোট ছোট টুকরাকে সূচের দ্বারা ঢেকে নিয়ে চাদর বানিয়ে নিত। এ চাদর নির্দ্বিধায় তারা চাদর ও বিছানারূপে ব্যবহার করতো। উট ও ভেড়ার লোম দিয়েও কাপড় হতো। ঢিলেঢালা লম্বা কোর্তা ও লুঙ্গি এবং মাথায় রুমাল ও পাগড়ী ব্যবহারের প্রচলন ছিল। সুবাসিত কাঠ, আম্বর, লোবান ও কর্পূর প্রভৃতি সুগন্ধি ব্যবহার সম্পর্কেও তারা জ্ঞাত ছিল।

আরবদের আহার্যও ছিল অত্যন্ত সাদাসিধে ও আড়ম্বরবিহীন। নিরস বিস্বাদ খাদ্যেই তারা তৃপ্ত থাকতো। গোশত ছিল তাদের সবচাইতে প্রিয়, মূল্যবান ও সুস্বাদু খাদ্য। দুধ, গোশ্‌ত, চীনা প্রভৃতি ছিল দেশের সাধারণ খাদ্য। পনীর, যবের ছাতু, খেজুর, যয়তূন তৈল, হারীর প্রভৃতির ব্যবহারও চালু ছিল। টিড্ডি, ফড়িংও তারা খেতো-যা ঐ দেশে প্রচুর পাওয়া যেতো। আটা চালুনীতে ছেঁকে খাওয়ার রেওয়াজ ছিল। বিনা ছাঁকা আটার রুটিও তারা রান্না করে খেতো। মরুভূমির শুশুকও তারা রান্না করে অত্যন্ত সুস্বাদু খাদ্যরূপে খেতো। পানাহারের রীতিনীতিও ছিল একান্তই সাদাসিধে। পানাহার সংক্রান্ত নবী করীম (সাঃ)-এর হাদীসসমূহে বর্ণিত বিধি-নিষেধসমূহ পাঠে সে সম্পর্কে একটি ধারণায় উপনীত হওয়া যায় যাতে অনেক প্রকার অশিষ্ট আচরণ করা হয়েছে। তাতে অধিক ভোজন, নির্লজ্জতা, নোংরামী এবং বাজে বকা থেকে বারণ করা হয়েছে।