hadith book logo

ইসলামের ইতিহাস ১ম খণ্ড

লেখকঃ মাওলানা আকবর শাহ খান নজিববাদী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ১৮৪

হযরত খালিদ সায়ফুল্লাহ (রা)

হযরত খালিদ ইব্‌ন ওয়ালীদ (রা)-এর সামরিক দক্ষতার কথা সবাই স্বীকার করেন। কিন্তু সবচেয়ে বড় স্বীকারোক্তি ছিল—স্বয়ং আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূল (সাঃ)-এর পক্ষ থেকে তিনি ‘সায়ফুল্লাহ’ খেতাবে বিভূষিত হন। তার বিস্তারিত ব্যাখ্যা এরূপ : যেদিন মূতা ময়দানে ইসলামী লশকর মদীনা থেকে হাজারো ক্রোশ দূরত্বে যুদ্ধরত ছিল, সেদিন নবী করীম (সাঃ) মদীনা মুনাওয়ারায় বসেই ইলহামে ইলাহীর মাধ্যমে যুদ্ধের সমুদয় ঘটনা অবগত হলেন। তিনি তখনই তামাম মুসলমানকে জড়ো করলেন এবং মিম্বরের উপর উঠে বললেন, তোমাদের মুজাহিদ বাহিনীর খবর হচ্ছে, তারা শত্রুদের মুকাবিলা করেছে। যায়দ শহীদ হয়েছে। আল্লাহ তাকে মাফ করে দিয়েছেন। তারপর জা‘ফর ইসলামী ঝাণ্ডা তার হাতে তুলে নিলো। শত্রুরা তাকে চার দিক থেকে ঘিরে ফেললো। সেও শহীদ হলো। আল্লাহ্ তাকেও মাফ করে দিয়েছেন। তারপর আবদুল্লাহ ইব্‌ন রাওয়াহা ইসলামী ঝাণ্ডা হাতে নিলো। সেও শত্রুদের সাথে লড়াই করে শহীদ হলো। এদের সবাইকে জান্নাতে তুলে নেয়া হয়েছে এবং সোনার সিংহাসনে তারা অবস্থান করছে। এই তিন জনের পর ইসলামী ঝাণ্ডা سيف من سيوف الله (আল্লাহর তলোয়ারসমূহের একটি তলোয়ার) অর্থাৎ খালিদ ইব্‌ন ওয়ালীদ ধারণ করলো এবং যুদ্ধের অবনতিশীল পরিস্থিতি সামলে নিলো।

সেদিন থেকেই হযরত খালিদ ইব্‌ন ওয়ালীদ (রা) সায়ফুল্লাহ্ (আল্লাহ্‌র তলোয়ার) নামে অভিহিত হতে থাকেন। হযরত জা‘ফর (রা)-এর গৃহে তখনই মাতম শুরু হয়ে গেলো। অর্থাৎ তাঁর পরিবার-পরিজন শোকের আতিশয্যে ক্রন্দন করতে লাগলো। হযরত নবী করীম (সাঃ) তাঁর ঘর থেকে খানা পাক করে হযরত জা‘ফর (রা)-এর ঘরে পাঠিয়ে দিলেন। হযরত খালিদ ইব্‌ন ওয়ালীদ (রা) যখন তার বিজয়ী বাহিনী নিয়ে মদীনার অদূরে এসে পৌঁছলেন, তখন হযরত নবী (সাঃ) মদীনা থেকে বের হয়ে কিছুদূর পর্যন্ত স্বাগত জানাতে গেলেন এবং হযরত খালিদ ইব্‌ন ওয়ালীদকে ‘সায়ফুল্লাহ’ খেতাবের খোশখবরী দিলেন। এক সাহাবী স্বপ্নে দেখলেন যে, হযরত জা‘ফর (রা) জান্নাতের মধ্যে তাঁর দুই ডানা দ্বারা উড়ে বেড়াচ্ছেন। সেদিন থেকেই তার নাম জা‘ফর তাইয়াররূপে প্রসিদ্ধ হয়। একটি রিওয়ায়াতে বর্ণিত আছে যে, হযরত নবী করীম (সাঃ) বলেন, জা‘ফরকে আল্লাহ তা‘আলা দু’টি ডানা দান করেছেন। এই দু’টি ডানা দিয়ে সে জান্নাতে উড়ে বেড়াচ্ছে। সেদিন থেকেই তিনি ‘যুল-জানাহায়ন’ ও ‘তাইয়ার’ লকবে ভূষিত হন। মূতা যুদ্ধ অষ্টম হিজরীর জমাদিউল আউয়াল মাসে সংঘটিত হয়।