hadith book logo

ইসলামের ইতিহাস ১ম খণ্ড

লেখকঃ মাওলানা আকবর শাহ খান নজিববাদী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ১৪৭

নবুওয়াত দীপের পতঙ্গকুল

এদিকে কয়েকজন নিবেদিতপ্রাণ মুজাহিদ হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)-এর চতুর্দিকে একটি ব্যূহ রচনা করে তাঁর চতুষ্পার্শ্বে দাঁড়িয়ে গেলেন। হযরত আবূ দুজানা (রা) হযরত নবী করীম (সাঃ)-এর দিকে মুখ করে তার নিজ পিঠকে ঢাল বানিয়ে ফেললেন। যদি মুখ কাফিরদের দিকে আর পিঠ রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর দিকে থাকতো তবে হয়তো তীর আসতে দেখলে স্বাভাবিকভাবে আত্মরক্ষার সহজ প্রবণতায় একটু সরে দাঁড়িয়ে আপন দেহকে বাঁচাবার প্রশ্নটা আসতো, কিন্তু এ অবস্থায় সে প্রশ্ন আর ছিলো না। পাছে তীর হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)-এর পবিত্র দেহ স্পর্শ করে বসে এজন্যেই তাঁর এ সতর্কতা! তাঁর পিঠ তীরের পর তীরে ঝাঁঝরা হয়ে গেলো। তবু তিনি একচুলও নড়লেন না। হযরত সা‘দ ইব্‌ন ওয়াক্কাস (রা), হযরত আবূ তালহা (রা) ও হযরত আবদুর রহমান ইব্‌ন আওফ (রা) হযরত রসূল আকরাম (সাঃ)-এর চারপাশে লৌহপ্রাচীরের মত দাঁড়িয়ে যান এবং তীর ও তলোয়ার দিয়ে শত্রুদেরকে প্রতিহত করতে থাকেন। হযরত তালহা (রা) দুশমনদের তলোয়ারের আঘাত আপন হাত দিয়ে প্রতিহত করেন, এমন কি তার দু’টি হাত যখম হতে হতে অচল হয়ে যায়। হযরত যিয়াদ ইব্‌ন সাকান আনসারী (রা) তাঁর পাঁচজন সঙ্গীসহ হযরত (সাঃ)-এর হিফাযত করতে গিয়ে শাহাদত বরণ করেন। হযরত উমারা ইব্‌ন যায়দ (রা)-ও হুযূর আকরাম (সাঃ)-এর হিফাযত করতে গিয়ে পতঙ্গের মত প্রাণ দান করে শহীদ হয়ে যান। উম্মে আমারা, যার নাম ছিল নসীবা বিন্‌ত কা‘ব (রা), যুদ্ধের অবস্থান স্বচক্ষে প্রত্যক্ষ করার উদ্দেশ্যে মুসলিম বাহিনীর পিছু পিছু ছুটে আসেন। দুপুরের পর যখন যুদ্ধের গতি অকস্মাৎ পরিবর্তিত হয়ে গেল যখন দূরাত্মা ইব্‌ন কামিয়্যা রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর উপর তলোয়ারের আঘাত হানলো তখন তিনি উপর্যুপরি ইব্‌ন কামিয়্যার উপর তলোয়ার হানতে থাকেন। কিন্তু সে দু’ দু’টি বর্মে সজ্জিত ছিলো বলে তার সেসব আঘাত তার গায়ে লাগেনি। সে উম্মে আমারাকে একটি আঘাত হানলে স্কন্ধের নীচে তার হাতটি যখমী হয়ে যায়।