hadith book logo

ইসলামের ইতিহাস ১ম খণ্ড

লেখকঃ মাওলানা আকবর শাহ খান নজিববাদী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ১৬

ইতিহাসের প্রকরণ

বিভিন্ন দিক থেকে বিবেচনা করলে ইতিহাস বিভিন্ন প্রকারের হতে পারে। যেমন পরিমাণ পরিমিতির দিক থেকে ইতিহাস দ্বিবিধ হতে পারেঃ

(১) সাধারণ ইতিহাস ও (২) বিশেষ ইতিহাস। সাধারণ ইতিহাস হচ্ছে সেই ইতিহাস যাতে সমগ্র বিশ্বের সমগ্র মানুষের ইতিহাস বিধৃত হয় আর বিশেষ ইতিহাস হচ্ছে সেসব ইতিহাস যা কোন বিশেষ জাতি, রাষ্ট্র বা রাজবংশের ইতিহাস।

আবার অবস্থার দিক থেকেও ইতিহাস দু’রকমের হতে পারেঃ

(১) বর্ণনা ভিত্তিক (২) বুদ্ধি ও অনুমান ভিত্তিক।

১. বর্ণনা ভিত্তিক ইতিহাস হচ্ছে ঐগুলো যাতে প্রত্যক্ষদর্শীর বর্ণনা লিপিবদ্ধ হয় এবং সংশ্লিষ্ট ঘটনা সংঘটিত হওয়ার নির্ভরযোগ্য ও গ্রহণযোগ্য রিওয়ায়াত বা বর্ণনা ঐতিহাসিকের হস্তগত হয়েছে। অথবা ইতিহাসবেত্তা নিজে প্রত্যক্ষদর্শীরূপে সে ঘটনা প্রত্যক্ষ করেছেন। এ জাতীয় ইতিহাসই সর্বাধিক গ্রহণযোগ্য ও উপাদেয় বলে বিবেচিত হয়ে থাকে। এ জাতীয় ইতিহাসে আন্দাজ অনুমানের ঘোড়া দৌড়াবার বা নিছক আন্দাজ-অনুমানমূলক বাস্তব ইতিহাসের রূপ দেবার প্রয়াস চালানোর প্রয়োজন হয় না বরং এ জাতীয় ইতিহাস অনুধাবনের ব্যাপারে ভুলত্রুটি হয়ে গেলে তার নিরসনও হয়ে যায়।

২. বুদ্ধিভিত্তিক ইতিহাস হচ্ছে সেগুলো যা শুধু প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনাদির শ্রুতিনির্ভর নিদর্শনাদি এবং নিছক আন্দাজ-অনুমানের উপর ভিত্তি করে রচিত হয়ে থাকে এবং ইতিহাসবেত্তার বর্ণনাকারীর সমসাময়িক কোন ব্যক্তির বর্ণনা আদৌ হস্তগত হয় না। যেমন প্রাচীন মিসর, প্রাচীন ইরাক এবং প্রাচীন পারস্যের ইতিহাস সম্প্রতিকালে লিখিত হয়েছে। এসব ইতিহাস থেকেও-প্রভূত উপকার লাভ হয়ে থাকে, কিন্তু তাতে নিশ্চিত জ্ঞান কোনমতেই অর্জিত হতে পারে না।