hadith book logo

ইসলামের ইতিহাস ১ম খণ্ড

লেখকঃ মাওলানা আকবর শাহ খান নজিববাদী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৩৭৬

তার বৈশিষ্ট্য

হযরত আলী (রা) ছিলেন সর্বপ্রথম ইসলাম গ্রহণকারীদের অন্যতম। তিনি ছিলেন ঐ সব ব্যক্তিদেরও অন্যতম, যারা কুরআন মজীদ একত্রিত করে হযরত রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ)-এর কাছে জমা দিয়েছিলেন। তিনি ছিলেন বনী হাশিম গোত্রের সর্বপ্রথম খলীফা। জাহিলিয়াত যুগেও তিনি কখনো মূর্তিপূজা করেননি। হযরত রাসূলুল্লাহ (সাঃ) যখন মক্কা শরীফ থেকে মদীনা তাইয়িবাতে হিজরত করেন তখন তার কাছে রক্ষিত আমানতসমূহ স্ব স্ব মালিকের কাছে পৌঁছিয়ে দেওয়ার জন্য তিনি হযরত আলী (রা)-কে মক্কায় রেখে গিয়েছিলেন। হযরত রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর এই নির্দেশ পালন করার পর তিনিও মদীনা তাইয়িবাতে হিজরত করেন। শুধুমাত্র তাবূক যুদ্ধ ছাড়া অন্য সব যুদ্ধেই তিনি হযরত রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর সঙ্গে ছিলেন। তাবূক যুদ্ধে যাবার সময় হযরত রাসূলুল্লাহ (সাঃ) তাকে মদীনা শরীফের কর্মকর্তা তথা প্রতিনিধি নিয়োগ করে গিয়েছিলেন। উহুদ যুদ্ধে হযরত আলী (রা)-এর দেহে মোট ১৬টি ক্ষতের সৃষ্টি হয়েছিল। খায়বার যুদ্ধে হযরত রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ) তার হাতে পতাকা তুলে দিয়েছিলেন এবং পূর্বাহ্নেই ঘোষণা করেছিলেন যে, খায়বার দুর্গ তাঁর (আলী রা)-এর হাতেই বিজিত হবে। তিনি খায়বার দুর্গের গুরুভার লৌহকপাট একাই আপন পিঠে উঠিয়ে নিয়েছিলেন। অথচ পরবর্তী সময়ে অনেক লোকের সম্মিলিত শক্তি ছাড়া সেটাকে তার জায়গা থেকে একটুখানি নড়ানোও সম্ভব হয়নি। তিনি তাঁর আবূ তুরাব নামটি খুবই পছন্দ করতেন। কেউ তাকে এ নামে ডাকলে তিনি খুবই সন্তুষ্ট হতেন। তাঁর এ নামকরণের কারণ : একবার তিনি ঘর থেকে বের হয়ে মসজিদে আসেন এবং সেখানেই ঘুমিয়ে পড়েন। তারপর হযরত রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ) মসজিদে আসেন এবং তাকে ঘুম থেকে জাগান। তিনি তখন তাঁর (আলীর) দেহের মাটি মুছে দিচ্ছিলেন এবং বলছিলেন, আবূ তুরাব উঠো!