hadith book logo

ইসলামের ইতিহাস ১ম খণ্ড

লেখকঃ মাওলানা আকবর শাহ খান নজিববাদী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৯

ইতিহাসের প্রয়োজন এবং এর উপকারিতা

ইতিহাস আমাদেরকে পূর্ববর্তী মহাপুরুষদের কাহিনীসমূহ সম্পর্কে অবহিত করে আমাদের মন-মস্তিষ্কে একটি শুভ উদ্দীপনার সঞ্চার করে। মানুষের প্রকৃতিতে একটা বিশেষ ধরনের পিপাসা এবং স্পৃহা থাকে যা অজানা দেশে ভ্রমণের, বাগবাগিচা ও পুষ্পোদ্যান বিচরণে এবং দুর্গম গিরি-পর্বত ও মরুপ্রান্তরে পরিভ্রমণে উদ্দীপ্ত করে। এই সহজাত প্রবৃত্তিই শিশুদেরকে রাতের বেলা পাখ-পাখালীর গল্প শোনায়, যুবকদেরকে তোতা-ময়নার উপাখ্যান শোনার জন্য উদ্বুদ্ধ করে। কুরআন মজীদে ইরশাদ হয়েছে :

فَاسْأَلُوا أَهْلَ الذِّكْرِ إِنْ كُنْتُمْ لَا تَعْلَمُونَ .

তোমরা যদি না জান তবে জ্ঞানীদিগকে জিজ্ঞাসা কর। (২১ : ৭)

আল্লাহর এই সুস্পষ্ট হুকুম তামীল করার মধ্যেই ঐতিহাসিক গ্রন্থাদি পাঠে মানুষকে উদ্বুদ্ধ করে। মানুষের এই সহজাত প্রবৃত্তির দিকে লক্ষ্য রেখেই প্রবৃত্তিসমূহের স্রষ্টা আসমানী কিতাবসমূহে মধুময় আস্বাদন রেখে দিয়েছেন। বনী ইসরাঈলের জাতিগত শ্রেষ্ঠত্বের কথা সর্বজনবিদিত। এমনকি তারা নিজেদেরকে نحن ابنء الله واحبائه (আমরা আল্লাহ্‌র পুত্র এবং তার প্রিয়জন, নাউযুবিল্লাহ) বলে অভিহিত করতো। কিন্তু এমন একটি জাতিই যখন নিজেদের পূর্বপুরুষদের কথা বিস্মৃত হয়ে গেলো তখন তারাও দিন দিন অধঃপতনের দিকে তলিয়ে যেতে লাগলো। এজন্যেই আল্লাহ্ তা‘আলা তাদেরকে বারবার এই বলে সম্বোধন করেছেন :

يَا بَنِي إِسْرَائِيلَ اذْكُرُوا .

“হে বনী ইসরাঈল! স্মরণ কর” ... পূর্বপুরুষদের কথা তাদেরকে স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন।