hadith book logo

ইসলামের ইতিহাস ১ম খণ্ড

লেখকঃ মাওলানা আকবর শাহ খান নজিববাদী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ১৮১

আমর ইবনুল ‘আস (রা)-এর ইসলাম গ্রহণ

মদীনা মুনাওয়ারায় ফিরে আসার পর নবী করীম (সাঃ) মাত্র গুটি কতক দিন অতিবাহিত করেছিলেন। মক্কায় হযরত আমর ইবনুল ‘আস মুসলমান হয়ে হিজরত করার ইরাদা করলেন। আমর ইবনুল ‘আস সম্পর্কে পূর্বে বর্ণিত হয়েছে যে, মক্কার কুরায়শরা তাঁকে মুসলমানদের বিরুদ্ধে আবিসিনিয়ার বাদশাহ নাজাশীর নিকট দূত হিসাবে প্রেরণ করেছিল, যাতে মুসলমান মুহাজিররা আবিসিনিয়ায় আশ্রয় নিতে না পারে। নাজাশীর দরবারে তাকে অপমান ও ব্যর্থতা বরণ করতে হয়েছিল। এই অপমান ও ব্যর্থতাই তাঁর অন্তরে ইসলামের সত্যতার মোহর মেরে দিয়েছিল। এই প্রভাব অবিরাম ভেতরে ভেতরে তার ক্রিয়া করতে থাকে। আর পরবর্তী ঘটনাবলী তার সমর্থন ও সত্যায়ন করলো। সুতরাং তখন আমর ইবনুল ‘আস আর ধৈর্য ধারণ করতে পারলেন না। খালিদ ইব্‌ন ওয়ালীদ তার অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন। হুদায়বিয়া অভিযানে গাযবান নামক স্থানে রাতের বেলা ইশার সালাতে নবী (সাঃ)-এর কুরআন তিলাওয়াত শ্রবণ করে খালিদ ইব্‌ন ওয়ালীদের অন্তর নরম হয়ে গিয়েছিল। সেই দিন থেকেই তিনি ইসলামকে ভালবাসতেন। আমর ইবনুল ‘আস খালিদ ইব্‌ন ওয়ালীদের কাছে তার অভিপ্রায় ব্যক্ত করলেন। খালিদ ইব্‌ন ওয়ালীদও তখনই আমর ইবনুল আসের সহযাত্রী হতে প্রস্তুত হলেন। এরপর উভয়ে মিলে তাদের তৃতীয় বন্ধু উসমান ইব্‌ন তালহাকে তাদের সংকল্পের কথা জানালেন। তিনিও নির্দ্বিধায় তাদের সঙ্গ দিতে তৈরি হয়ে গেলেন। কুরায়শের এই তিনজন সরদারই মক্কা থেকে রওয়ানা হয়ে মদীনায় হযরত নবী (সাঃ)-এর নিকট হাযির হয়ে ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন। এঁরা মুসলমান হওয়ার পর ইসলামের শক্তি অনেক বেড়ে গেলো। খালিদ ইব্‌ন ওয়ালীদ (রা) ও আমর ইবনুল ‘আস (রা) মুসলমান হওয়ার সময় যখন জানতে পারলেন যে, ইসলাম গ্রহণের ফলে তাদের পেছনের সব গুনাহ মাফ হয়ে গেছে, তখন খুব খুশী হলেন।