hadith book logo

ইসলামের ইতিহাস ১ম খণ্ড

লেখকঃ মাওলানা আকবর শাহ খান নজিববাদী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ১৩৪

এ যুদ্ধে মুসলমানদের সরঞ্জাম ছিল নিম্নরূপ

দুটো মাত্র ঘোড়া—যেগুলোতে হযরত যুবায়র (রা) ও হযরত মিকদাদ (রা) সওয়ার ছিলেন। উট ছিলো সত্তরটি—এর প্রত্যেকটিতে তিন তিন জন চার চার জন করে আরোহী ছিলেন। হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) যে উটটিতে সওয়ার ছিলেন, তার পিঠেও আরো দু’তিনজন আরোহী ছিলেন। তারপরও অনেকে সওয়ারী হীন ছিলেন। এ ইসলামী বাহিনীটি যখন বদর প্রান্তরে উপস্থিত হলো, তখন দেখা গেলো যে, কাফিররা ইতিপূর্বেই সেখানকার উঁচু ভূমিতে এসে তাঁবু গেড়ে ফেলেছে। অগত্যা মুসলমানদেরকে নীচু ও বালুময় অংশেই অবস্থান নিতে হলো। কিন্তু বদরের পানির ঝরনাগুলো মুসলমানদের অংশেই পড়লো। হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) তার বাহিনীর লোকদেরকে বলে দিলেন, কাফিরদের কেউ পানি নিতে আসলে তাদেরকে বাধা দিও না। সাহাবায়ে কিরাম হুযূর (সাঃ)-এর জন্যে একটি ছোট ঝুপড়ি তৈরী করে দিলেন। তিনি সেখানে ইবাদত ও দু‘আ করতেন। সংখ্যায় সাহাবায়ে কিরাম তো কুরায়শদের এক-তৃতীয়াংশ ছিলেন, কিন্তু সাজ-সরঞ্জামের দিক থেকে তারা তাদের এক-শতাংশও ছিলেন না। কাফিরদের সবাই ছিলো বর্ম পরিহিত এবং প্রত্যেকে বয়সে ছিলো যুবক। পক্ষান্তরে মুসলমানদের সাধারণ অবস্থা ছিলো তারা ক্ষুধা কাতর, দুর্বল, অসুস্থ ও ক্ষীণকায়। সকলের কাছে মামুলী হাতিয়ারও পুরোপুরি ছিলো না। কারো কাছে হয়তো তলোয়ার আছে, কিন্তু বল্লম বা ধনুক নেই, কারো কাছে হয়তো বল্লম আছে, কিন্তু তলোয়ার নেই। মুসলমানগণ সেনা ছাউনী স্থাপন করলেন। ওদিকে কুরায়শরা উমায়র ইব্‌ন ওয়াহাব জামূহীকে গোয়েন্দাগিরির জন্য পাঠালো। মুসলমান বাহিনীর সংখ্যা জানার জন্য তারা তাকে পাঠিয়েছিলো। উমায়র ফিরে গিয়ে জানালো যে, মুসলমানদের সংখ্যা তিন শ’ দশের বেশী নয় এবং এদের মধ্যে কোন দু’জন অশ্বারোহী আছে। কাফিরদের দর্প যে কী পরিমাণ ছিলো তা এর দ্বারাই অনুমেয় যে, উত্‌বা ইব্‌ন রবীআ মুসলমানদের এ সংখ্যাস্বল্পতার কথা শুনেই বলে উঠলো, এ অল্প কয়টি লোকের সাথে যুদ্ধ করে কাজ নেই, চল আমরা যুদ্ধ না করেই ফিরে যাই। কেননা, আমাদের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে এত বেশী যে, এ হবে এক অসম যুদ্ধ। এতে বাহাদুরীর কিছুই নেই। কিন্তু আবূ জাহেল তাতে সম্মত হলো না। সে বললো : হোকগে,এদের মূলোৎপাটন করাই হবে আমাদের কাজ।