hadith book logo

ইসলামের ইতিহাস ১ম খণ্ড

লেখকঃ মাওলানা আকবর শাহ খান নজিববাদী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ১৩৬

যুদ্ধবন্দীদের প্রতি সদ্ব্যবহারের তাকীদ

যুদ্ধবন্দীরা মদীনায় পৌঁছলে হযরত নবী করীম (সাঃ) তাদেরকে সাহাবায়ে কিরামের মধ্যে ভাগ করে দিয়ে তাদের সাথে সদ্ব্যবহারের তাকীদ দিলেন। বন্দীদের মধ্যে আবূ আযীয ইব্‌ন উমায়র যুদ্ধে কাফির বাহিনীর পতাকাবাহক ছিলো। এ দিকে সে হযরত মুসআব ইব্‌ন উমায়র (রা)-এর ভাইও ছিলো।

স্বয়ং আবূ আযীযের বর্ণনা : যখন মুসলমানরা আমাকে বন্দী করে বদর থেকে মদীনার দিকে নিয়ে চলেছিলো তখন আমি আনসারদের একটি দলের প্রহরাধীন ছিলাম। ঐ আনসার দলটি যখন খাবার খেতে বসতেন, তখন তারা আমাকে রুটি খেতে দিয়ে নিজেরা খেজুর খেয়েই দিন কাটাতেন। আমি লজ্জায় তাদের কোন একজনের দিকে রুটি ঠেলে দিলে সে ব্যক্তি পুনরায় আমাকে তা ফিরিয়ে দিতো। মদীনা পৌঁছার পর আবূ আযীয আবূ বশীর আনসারীর ভাগে পড়লো। হযরত মুসআব ইব্‌ন উমায়র (রা) আবূ বশীর আনসারীর সাথে দেখা করে বললেন : একে খুব দেখে শুনে রাখবে এবং এর সাথে খুবই কঠোর ব্যবহার করবে। এর মা খুবই ধনাঢ্য মহিলা। আবূ আযীয যখন লক্ষ্য করলো যে, তার আপন ভাই তার প্রতি কঠোরতা প্রদর্শনের জন্য তার রক্ষণাবেক্ষণকারীকে তাকীদ দিচ্ছেন, তখন সে বলে উঠলো : ভাইজান, এই কি ভাইয়ের প্রতি আপনার শুভ কামনা? হযরত মুসআব (রা) জবাব দিলেন : তুই আমার ভাই না। আমার ভাই হচ্ছে তোর রক্ষণাবেক্ষণকারী-ই। আবূ আযীযের মা চার হাজার দিরহামের মুক্তিপণ পাঠিয়ে ছেলেকে মুক্ত করেন। বদর যুদ্ধে মুশরিকদের পরাজয়ের সংবাদ মক্কায় পৌঁছলে যেভাবে কাফিররা বিষন্ন হলো, ঠিক তেমনি যেসব মুসলমান হিজরত করে আসতে পারেননি বরং নিজেদের মুসলমান হওয়ার কথা গোপন করে মক্কায় বসবাস করছিলেন তারা এ সংবাদে অত্যন্ত উল্লসিত হলেন। আবূ লাহাব কোন কারণে এ যুদ্ধে শরীক হতে পারেনি। সে যখন মক্কার বড় বড় সরদারদের নিহত ও কুরায়শদের পরাজিত হওয়ার সংবাদ জানতে পারলো তখন এতই মর্মাহত হলো যে, এর এক সপ্তাহ পরে সে মারাই গেলো।