hadith book logo

ইসলামের ইতিহাস ১ম খণ্ড

লেখকঃ মাওলানা আকবর শাহ খান নজিববাদী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ১৮২

হিজরতের অষ্টম বছর

আরবদেশে তখন ইসলামের প্রকাশ্য কোন বড় বিপদ আর ছিলো না। ইসলাম গ্রহণ করা ও শিরক পরিহার করার মধ্যে জানমালের ক্ষতি অবশ্যম্ভাবী ছিল না। অভ্যন্তরীণ শক্তিগুলো একের পর এক সবাই নিজ নিজ ক্ষমতা ইসলামের বিরুদ্ধে ব্যয় করে হতাশ হয়ে পড়েছিল। ইসলাম আরবদেশের মধ্যে সবচেয়ে বড় শক্তিতে পরিণত হয়েছিল। ইসলামের শক্তি ও ক্ষমতা যতই স্বীকৃত হতে চললো, আরবদেশে ফিতনা-ফাসাদ ততই হ্রাস পেতে লাগলো। এতদ্‌সত্ত্বেও মক্কার কুরায়শরা-যারা সারা আরবদেশে বিশেষ সম্মান ও স্বাতন্ত্রের অধিকারী ছিল—তখনো পর্যন্ত কুফর ও শির্‌কের উপর প্রতিষ্ঠিত ও মুসলমানদের বিরোধিতায় সরগরম ছিল। মদীনার মুনাফিক, খায়বারের ইয়াহূদী ও মক্কার কুরায়শ—এই তিনটি শত্রু আরবদেশের আন্তঃ গোত্রগুলোকে মুসলমানদের বিরুদ্ধে উত্তেজিত করে করে প্রতিবারই যখন ব্যর্থ হলো, তখন তারা পারস্য ও রোমের সম্রাট ও অধিকর্তাদের মুসলমানদের বিরুদ্ধে বিক্ষুব্ধ করার প্রয়াস ও ষড়যন্ত্র শুরু করলো। হযরত নবী করীম (সাঃ)-ও এ বিবাদ সম্পর্কে অনবহিত ছিলেন না। তিনি আরবদেশের আশেপাশের সমস্ত রাজা-বাদশাহর নামে দাওয়াতী পত্র প্রেরণ করলেন। এই দাওয়াতী চিঠিপত্র অধিকাংশ রাজ-দরবারে খুবই সুপ্রভাব সৃষ্টি করলো এবং শত্রুদের ষড়যন্ত্রজাল ছিন্নভিন্ন করে দিল। কিন্তু কোন কোন রাজা-বাদশাহ শত্রুদের ষড়যন্ত্র ও তৎপরতায় প্রভাবিত হয়ে ইসলামী দাওয়াতে সাড়া না দিয়ে আরো বেশী বিরোধিতা ও শত্রুতা করা আরম্ভ করে দিল। ফলে এইসব বহিরাক্রমণ থেকে আত্মরক্ষার জন্য উপায় অবলম্বন করা মুসলমানদের জন্য অনিবার্য হয়ে পড়লো। কোন বৈদেশিক বাদশাহ যদি মদীনার উপর আক্রমণ করতে সক্ষম হতো, তাহলে সমগ্র আরবদেশ কর্তৃক নবোদ্যমে শত্রুতায় অবতীর্ণ হওয়া এবং মুসলমানদের নিশ্চিহ্ন হয়ে যাওয়া ছিল অবধারিত।