hadith book logo

ইসলামের ইতিহাস ১ম খণ্ড

লেখকঃ মাওলানা আকবর শাহ খান নজিববাদী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৪৯

নক্ষত্র পূজা

জাহিলিয়াতের যুগে আরব দেশে নক্ষত্র পূজার ব্যাপক প্রচলন ছিলো। কিন্তু ঐতিহাসিকদের মতে এ ব্যাপারে কোন প্রমাণ নেই যে, আরব, মিসর, গ্রীস ও ইরান এ চারটি দেশের নক্ষত্রপূজারীদের মধ্যে কোন্ দেশের নক্ষত্রপূজারীরা উস্তাদ ছিল আর বাকী কোন্ তিনটি দেশের নক্ষত্রপূজারীরা তাদের শাগরিদ ছিল। মোটকথা, একথা বলা মুশকিল যে, নক্ষত্রপূজার প্রথাটি আরব দেশে বাহির থেকেই এসেছিল, নাকি তারাই এর মূল উদগাতা। হামীর গোত্র সূর্যের, কিনানা গোত্র চাঁদের, তামীম গোত্র ওহরানের, লুখাম ও জুযাম গোত্র বৃহস্পতি গ্রহের, তাঈ গোত্র সুহায়ল নামক নক্ষত্রের, কায়স গোত্র লুব্ধক নক্ষত্রের এবং আসাদ গোত্র বুধ গ্রহের পূজা করতো। অধিকাংশ গোত্রের দেবমূর্তির গ্রহ-নক্ষত্রের নামে নামকরণ করা হতো। প্রস্তর নির্মিত মূর্তিগুলো এবং বিখ্যাত গ্রহ-নক্ষত্রগুলোর পূজা বিভিন্ন গোত্র যৌথভাবেই করতো। গ্রহ-নক্ষত্রের উদয়াস্তের উপরই তাদের উল্লেখযোগ্য গোছের কাজগুলো করা নির্ভর করতো। মরুভূমির খোলা আকাশের নীচে বসতকারীদের জন্যে গ্রহ-নক্ষত্রের প্রতি এরূপ ঘনিষ্ঠতাবোধ করা, এগুলোর কোন কোনটার পূজায় লিপ্ত হওয়াটা বিচিত্র কিছু ছিলো না। কুরআন শরীফের সূরা নূহ পাঠে প্রতীয়মান হয় যে, হযরত নূহ (আ)-এর যুগে ইরাক-আরবে ইয়াগৃছ, ইয়াউক, উদ্দ, নসর, সুওয়া প্রভৃতির পূজা হতো। গ্রহ-নক্ষত্রের নামানুসারেই এসব দেবমূর্তির নামকরণ করা হয়েছিলো। এতে প্রতীয়মান হয় যে, নক্ষত্রপূজা প্রাচীনকাল থেকেই আরবে প্রচলিত ছিল। নক্ষত্রপূজারীদের মধ্যে চাঁদের পূজারী সংখ্যাই ছিলো সর্বাধিক এবং চাঁদই ছিল সর্বাধিক জনপ্রিয় উপাস্য।