hadith book logo

ইসলামের ইতিহাস ১ম খণ্ড

লেখকঃ মাওলানা আকবর শাহ খান নজিববাদী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৬৩

জুয়াখেলা

জাহিলিয়াতের যুগে আরবের অধিবাসীরা জুয়াখেলায় অত্যন্ত আগ্রহী ও অভ্যস্ত ছিল। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই আযলামের সাহায্যে জুয়াখেলা হতো। আযলাম ছিল জুয়াখেলার তীর বিশেষ। তাতে পালক সংযোজিত থাকতো না। সে তীরের সংখ্যা হতো দশটি। প্রত্যেকটি তীরের স্বতন্ত্র নাম থাকতো। নামগুলি ছিল এরূপ : (১) গুয, (২) তাওয়াম, (৩) রকীব, (৪) নাফিস, (৫) হাল্‌স, (৬) মুবাল, (৭) মুআল্লা, (৮) ফসীহ (৯) ফাইহী (১০) ওগাদ। প্রত্যেকটি তীরের জন্য নির্দিষ্ট সংখ্যক ভাগ নির্ধারিত থাকতো। যেমন গুযের এক ভাগ, তাওয়ামের দু’ভাগ। এভাবে সপ্তম তীর পর্যন্ত এক এক ভাগ করে বৃদ্ধি পেয়ে সপ্তম তীরের ভাগ সংখ্যা থাকতো সাতটি। অবশিষ্ট তিনটি তীরের কোন ভাগ ছিল না। দশজন ধনী ব্যক্তি হৃষ্টপুষ্ট দেখে দশটি ছাগল কিনে এনে এগুলোকে যবাই করে আটাশ ভাগে বিভক্ত করতো। সমস্ত তীর একটি তূণে রেখে এক ব্যক্তির হাতে অর্পণ করা হতো এবং সে প্রত্যেককে একটি করে তীর দিতো। তারপর যার তীরে যত ভাগের চিহ্ন থাকতো সে তত ভাগ করে গোশত পেতো এবং শেষোক্ত তিনটি তীর যাদের হাতে পড়তো, তারা কিছুই পেতো না। তারা বঞ্চিত রইতো। খানা কা‘বার মধ্যে হুবল দেবতার সম্মুখে এ জুয়া খেলা হতো। জুয়ার আরেকটি পদ্ধতি ছিল এই যে, কিছু বালি এনে কোন বস্তু তার মধ্যে গোপন করা হতো। তারপর উক্ত বালির স্তূপকে দুভাগে ভাগ করে প্রশ্ন করা হতো, এবার বল দেখি বস্তুটি কোন্ স্তূপের মধ্যে রয়েছে। জিজ্ঞাসিত ব্যক্তি তা সঠিকভাবে বলে দিতে পারলে সে জুয়ায় জিতে যেতো, নতুবা সে হেরে যেতো।