hadith book logo

ইসলামের ইতিহাস ১ম খণ্ড

লেখকঃ মাওলানা আকবর শাহ খান নজিববাদী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ২৫১

সাজাহ্ ও মালিক ইব্‌ন নুওয়ায়রাহ্

বনূ তামীম কয়েকটি গোত্রে অন্তর্ভুক্ত এবং কয়েকটি বস্তিতে বসবাস করতো। এদের এলাকায় হযরত নবী করীম (সাঃ)-এর জীবদ্দশায় এদেরই নিয়োগকৃত কয়েকজন কর্মকর্তা ছিলেন। তারা হলো মালিক ইব্‌ন নুওয়ায়রাহ, ওয়াকী ইব্‌ন মালিক, সাফওয়ান ইব্‌ন সাফওয়ান, কায়স ইব্‌ন আসিম প্রমুখ। হযরত নবী করীম (সাঃ)-এর ওফাতের খবর পেয়ে কায়স ইব্‌ন আসিম মুরতাদ হয়ে গেলো। মালিক ইব্‌ন নুওয়ায়রাহও এই খবর শুনে আনন্দ প্রকাশ করলো। সাফওয়ান ইব্‌ন সাফওয়ান ইসলামের উপর বহাল রইল এবং কায়স ও সাফওয়ানের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হলো। ইত্যবসরে তাগলিব গোত্রের সাজাহ্ বিনতুল হারছ ইব্‌ন সুওয়ায়দ নবুওয়াতের দাবী করলো এবং বনূ তাগলেবের সরদার হুযায়ল ইব্‌ন ইমরান, বনূ তামারের সরদার উক্‌বা ইব্‌ন হিলাল ও বনূ শায়বানের সরদার সুলায়ল ইব্‌ন কায়স তার নবুওয়াতের দাবী মেনে নিলো। সাজাহর চারপাশে প্রায় চার হাজার লশকর সমবেত হলো। সে এই লশকর নিয়ে মদীনা আক্রমণের উদ্দেশ্যে যাত্রা করলো। বনূ তামীমের মধ্যে মতভেদ সৃষ্টি হয়েছিল। মালিক ইব্‌ন নুওয়ায়রাহ সাজাহ’র সাথে সন্ধি করে তাকে পরামর্শ দিলো বনু তামীমের অন্যান্য গোত্রের উপর হামলা করতে। আর এইভাবে বনূ তামীমকে বাধ্য করে নিজেদের সঙ্গে নিয়ে মদীনার দিকে যাত্রা করতে সাজাহ বনূ তামীমের উপর হামলা করলো। বনূ তামীম মুকাবিয়া করে তার লশকরকে পরাস্ত করলো। কিন্তু পরিশেষে সন্ধি হলো।

এক্ষণে সাজাহ মালিক ইব্‌ন নুওয়ায়রাহ ও ওয়াকী ইব্‌ন মালিককে সঙ্গে নিয়ে চললো। কিছু দূর গমন করে এবং কি চিন্তা করে ফেরত চলে গেলো। সাজাহ তার বাহিনী নিয়ে সামনে অগ্রসর হলো। সাজাহ তার অনুসারীদের জন্য পাঁচ ওয়াক্ত নামায অপরিহার্য রাখলো ও শূকরের গোশত খাওয়া, শরাব পান করা ও জিনা করা জায়েয সাব্যস্ত করেছিল। বহু খ্রিস্টানও তাদের ধর্ম ত্যাগ করে সাজাহ’র দলভুক্ত হয়েছিল।

বনূ তামীমের বস্তিগুলো পার হয়ে সাজাহ জানতে পারলো যে, খালিদ ইব্‌ন ওয়ালীদ (রা) ইসলামী লশকর নিয়ে এদিকে আগমন করছেন। এদিকে মুসায়লামা কায্‌যাবের বিরাট বাহিনীর কথা শুনে তার সন্দেহ হলো, না জানি সেও নবুওয়াতের দাবীদার হওয়ার কারণে শত্রুতা ও বিরোধিতায় লেগে যায়। মুসায়লামা কায্‌যাব যখন সাজাহ বাহিনীর কথা শুনলো, তখন সেও দ্বিধাদ্বন্দ্বে পড়ে গেলো। একদিকে ইসলামী লশকরের আশংকা, আর অপর দিকে সাজাহ বিরাট বাহিনী নিয়ে রওয়ানা করেছে। তারা যদি এদিকে মনোনিবেশ করে, তবে বিরাট সংকট দেখা দেবে। এদিকে ইক্‌রামা (রা) ও শুরাহবীলও তাঁদের বাহিনী নিয়ে ইয়ামামার নিকটবর্তী পৌঁছে গিয়েছিলেন এবং মুসায়লামা ও সাজাহকে পরস্পরের দোসর ভেবে সাবধানতা অবলম্বন করেছিলেন। অবশেষে মুসায়লামা সাজাহকে এই মর্মে পত্র লিখলো যে, তোমার অভিপ্রায় কি? সাজাহ উত্তর দিলো যে, আমি মদীনা মুনাওয়ারার উপর হামলা করতে চাই। আমি একজন নবী এবং শুনেছি আপনিও একজন নবী। তাই আমাদের উভয়কে সংঘবদ্ধভাবেই মদীনা আক্রমণ করা উচিত। মুসায়লামা সঙ্গে সঙ্গে পয়গাম পাঠালো যে, যতদিন হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) জীবিত ছিলেন, ততদিন অর্ধেক রাজ্য তাকে ছেড়ে দিয়েছিলেন এবং অর্ধেক রাজ্য আমি আমার নিজের এলাকা মনে করতাম। এখন তাঁর ওফাতের পর গোটা রাজ্যের উপর আমার অধিকার প্রতিষ্ঠিত। কিন্তু যেহেতু তুমিও নবুওয়াত দাবী করছো তাই আমি অর্ধেক পয়গাম্বরী তোমাকে দিয়ে দেবো। উত্তম এই যে, তোমার লশকর ওখানে রেখে একাকী আমার নিকট চলে এসো, যাতে তোমার সাথে পয়গাম্বরী বন্টন ও মদীনা আক্রমণ সম্পর্কিত যাবতীয় আলাপ-আলোচনা ও পরামর্শ অনুষ্ঠিত হতে পারে।