১
ইসলামের ইতিহাস ১ম খণ্ড
লেখকঃ মাওলানা আকবর শাহ খান নজিববাদী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ১৭১
রাসূল আকরাম (সাঃ)-এর প্রতি সাহাবাদের প্রাণপূর্ণ ভালবাসা
উরওয়া যখন নবী করীম (সাঃ)-এর সাথে কথা বলছিল, তখন সে তার হাত বিস্তার করে করে তার দাড়ির কাছে নিয়ে যেত। হযরত মুগীরা ইব্ন শু‘বা (রা) তার এই আচরণ বরদাশত করতে পারলেন না। তিনি তার তরবারির হাতল উরওয়ার হাতের উপর মারলেন এবং তাকে আদবের সাথে কথা বলতে বললেন। উরওয়া মক্কার কুরায়শদের কাছে ফিরে গিয়ে বললো, হে কুরায়শ সম্প্রদায়! আমি রোমের কায়সার ও পারস্যের কিসরার দরবার দেখেছি, কিন্তু আমি কোন বাদশাহকে তাঁর সহচরদের মধ্যে এতো প্রিয় ও মর্যাদাবান পাইনি, যেমনটি মুহাম্মদ (সাঃ)-কে তার আসহাবদের মধ্যে প্রিয় ও মর্যাদাবান পেলাম। মুহাম্মদ (সাঃ)-এর আসহাবদের অবস্থা এই যে, তারা মুহাম্মদ (সাঃ)-এর ওযূর পানি মাটিতে পড়তে দেন না। তিনি যখন কথা বলেন, তখন সবাই চুপ করে শোনেন এবং শ্রদ্ধাবশত তার দিকে তাকান না। এরা কোনক্রমেই মুহাম্মদ (সাঃ)-এর সঙ্গ ত্যাগ করতে পারবে না। মুহাম্মদ (সাঃ) যে প্রস্তাব তোমাদের সামনে পেশ করেছে, তা কবুল করে নেওয়া এবং তার সন্ধি প্রস্তাব মেনে নেয়াই তোমাদের পক্ষে শ্রেয়। এরপর মক্কার কুরায়শরা সুহায়ল ইব্ন আমরকে তাদের সর্বময় প্রতিনিধিরূপে প্রেরণ করলো এবং তাকে বলে দিলো যে, সন্ধি কেবল এভাবেই হতে পারে যে, এ বছর মুহাম্মদ (সাঃ) তাঁর সহচরদের নিয়ে ফিরে যাবেন এবং আগামী বছর এসে উমরাহ করবেন। নবী করীম (সাঃ) যখন দূর থেকে সুহায়লকে আসতে দেখলেন তখন বললেন, ব্যাপার এবার ‘সহল’ (সহজ) হয়ে গেলো। কুরায়শরা যখন ঐ ব্যক্তিকে পাঠিয়েছে, তখন তারা সন্ধি করারই নিয়ত করেছে। সুতরাং সুহায়ল সন্ধির শর্তাবলী পেশ করলো। নবী (সাঃ)-ও সে শর্তগুলো মেনে নিলেন এবং তখনই হযরত আলী (রা)-কে সন্ধিপত্র লেখার জন্য ডেকে পাঠালেন। হযরত আলী (রা) সন্ধিপত্রের শীর্ষে بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيمِ লিখলেন। সুহায়ল বললেন, আমরা رحمن -কে চিনি না। তুমি আমাদের রীতি অনুসারে با سمك الله লিখ। নবী (সাঃ) বললো, ঠিক আছে, ঐভাবেই লিখ। এরপর হযরত আলী (রা)-এর নাম محمد رسول الله লিখলেন, তখন সুহায়ল তার উপরও আপত্তি করলো এবং বললো, আমরা যদি তাকে রাসূলই মানতাম, তবে তো ব্যাপারটি এ পর্যন্ত গড়াতোই না। তুমি শুধু محمد بن عبد الله লিখ। নবী (সাঃ) বললেন, আমি আল্লাহর রাসূল, তোমরা তা মান বা না মান। তারপর হযরত আলী (রা)-কে সম্বোধন করে বললেন, সুহায়লের ইচ্ছা অনুযায়ী ঐ শব্দটি কেটে দাও। হযরত আলী (রা) বললেন, আমি আমার কলম দিয়ে رسول الله শব্দ কাটতে পারবো না। তিনি বললেন, দাও, আমি আমার হাত দিয়ে কেটে দিচ্ছি। এই বলে তিনি স্বয়ং তাঁর হস্ত মুবারক দিয়ে ঐ শব্দটি কেটে দিলেন।