১
ইসলামের ইতিহাস ১ম খণ্ড
লেখকঃ মাওলানা আকবর শাহ খান নজিববাদী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৩৩
আরবে বায়িদা
আরবে বায়িদা হচ্ছে ঐসব প্রাচীন অধিবাসী যাদের গোত্রগুলোর নাম হচ্ছে ‘আদ, ছামূদ আবীল, আমালিকা, তাসাম, জাদীস, উমায়ম, জুরহাম, হাদরামাউত, হাযুর, আবদে যাখাম প্রভৃতি। এরা সকলেই হযরত নূহের পৌত্র লায ইব্ন সামের বংশধর ছিল। গোটা আরব উপদ্বীপে তাদের রাজত্ব ছিল। এদের কোন কোন নৃপতি মিসর পর্যন্ত জয় করেছিলেন। এদের বিশদ বিবরণ ইতিহাসে পাওয়া যায় না। তবে নজ্দ, আহকাফ, হাদরামাউত ও ইয়ামানে এমন প্রাচীন তাদের ইমারতসমূহ, প্রত্নতত্ত্ব, পাথর স্তম্ভ, অলংকারাদি ও কাটা প্রস্তরাদি পাওয়া যায় যদ্বারা প্রতীয়মান হয় যে, তাদের যুগে তারা অত্যন্ত শৌর্যবীর্যের অধিকারী ছিল। এদের মধ্যে ‘আদ গোত্রটি ছিল অত্যন্ত প্রসিদ্ধ। এরা আহকাফ সমতলে বসবাস করতো। সামের প্রপৌত্র ‘আদ ইব্ন আউস ইব্ন ইরাম ছিলেন এদের প্রথম নৃপতি—যার নামে গোটা গোত্রটি খ্যতিলাভ করে। তার ছিল তিন পুত্র :১. শাদ্দাদ, ২. শাদীদ ও ৩. ইরাম। এরা একের পর এক রাজ্যর অধিকারী হন। আল্লামা যামাখশারী এই শাদ্দাস ইব্ন ‘আদ সম্পর্কে লিখেন যে, সেই আদন মরুভূমিতে ইরাম নগরীর পত্তন করেছিল। কিন্তু তার কোন নিদর্শনই এখন আর অবশিষ্ট নেই। কুরআন শরীফেও ইরামের উল্লেখ আছে, কিন্তু তা’ আরাম নগরী বা ইরাম বাগিচা নয়, তা হচ্ছে ইরাম গোত্র।
আল্লাহ্ তা‘আলা ইরশাদ করেন—
أَلَمْ تَرَ كَيْفَ فَعَلَ رَبُّكَ بِعَادٍ . إِرَمَ ذَاتِ الْعِمَادِ . الَّتِي لَمْ يُخْلَقْ مِثْلُهَا فِي الْبِلَادِ .
তুমি কী দেখনি তোমার রব ‘আদ-ইরামের লোকদের সাথে কি আচরণ করেছেন-যাদের শারীরিক গঠন অবয়ব ও শক্তি-সামর্থ্য এমনি অদ্বিতীয় ছিলো যে, পৃথিবীর অন্য কোন জনপদে এমনটি সৃষ্টি করা হয়নি। (৮৯:৬-৮)
ঐতিহাসিক মাসউদী লিখেন : ‘আদের পূর্বে তার পিতা ‘আসও বাদশাহ ছিল। এ বংশেরই জনৈক নৃপতি জীরূন ইব্ন সাআদ ইব্ন ‘আদ ইব্ন আওস দামেশক বিজয় করে মর্মর পাথর এবং অন্যান্য বহু মূল্যবান পাথর দিয়ে একটি প্রাসাদ নির্মাণ করেছিল যার নামকরণ সে করেছিল ইরাম। ইব্ন আসাকিরও তার তারীখে দামিশ্ক বা দামেশকের ইতিহাস গ্রন্থে জীরূনের উল্লেখ করেছেন। হযরত হূদ আলায়হিস সালাম যখন আল্লাহর পক্ষ থেকে ঐ আদ জাতির প্রতি নবীরূপে আবির্ভূত হন তখন তারা তার অবাধ্যতা করে আল্লাহর আযাবে ধ্বংস হয়। এর বিস্তারিত বর্ণনা কুরআন শরীফে রয়েছে। আদের পর আবীল আমালিকা, ছামুদ, আবদে যাখাম প্রভৃতি কবীলা রাজত্ব করে। অবশেষে ইয়ারিব ইব্ন কাহ্তান এদেরকে উৎখাত করে নতুন এক যুগের সূচনা করেন। ছামূদ গোত্র বা ছামূদ জাতির প্রতি নবী হয়ে আসেন হযরত সালিহ আলায়হিস সালাম। ছামূদ জাতির বাস ছিল হাজর এলাকায়। তাসাম এবং জাদীস কবীলাদ্বয়ের বাস ছিল ইয়ামামায়, আমালিকারা বাস করতো তিহামায়। জুরহাম গোত্র থাকতো ইয়ামানে। ইতিহাসে বলা হয়েছে যে, আরবের সকল গোত্রই হযরত নূহ (আ)-এর পুত্র সামের বংশধর। তাই এ গোত্রগুলোর পারস্পরিক সম্পর্ক সুস্পষ্টভাবে অনুধাবনের জন্যে ৫৪ নং পৃষ্ঠায় এদের বংশপঞ্জির রেখা সন্নিবেশিত হলো :
আল্লাহ্ তা‘আলা ইরশাদ করেন—
أَلَمْ تَرَ كَيْفَ فَعَلَ رَبُّكَ بِعَادٍ . إِرَمَ ذَاتِ الْعِمَادِ . الَّتِي لَمْ يُخْلَقْ مِثْلُهَا فِي الْبِلَادِ .
তুমি কী দেখনি তোমার রব ‘আদ-ইরামের লোকদের সাথে কি আচরণ করেছেন-যাদের শারীরিক গঠন অবয়ব ও শক্তি-সামর্থ্য এমনি অদ্বিতীয় ছিলো যে, পৃথিবীর অন্য কোন জনপদে এমনটি সৃষ্টি করা হয়নি। (৮৯:৬-৮)
ঐতিহাসিক মাসউদী লিখেন : ‘আদের পূর্বে তার পিতা ‘আসও বাদশাহ ছিল। এ বংশেরই জনৈক নৃপতি জীরূন ইব্ন সাআদ ইব্ন ‘আদ ইব্ন আওস দামেশক বিজয় করে মর্মর পাথর এবং অন্যান্য বহু মূল্যবান পাথর দিয়ে একটি প্রাসাদ নির্মাণ করেছিল যার নামকরণ সে করেছিল ইরাম। ইব্ন আসাকিরও তার তারীখে দামিশ্ক বা দামেশকের ইতিহাস গ্রন্থে জীরূনের উল্লেখ করেছেন। হযরত হূদ আলায়হিস সালাম যখন আল্লাহর পক্ষ থেকে ঐ আদ জাতির প্রতি নবীরূপে আবির্ভূত হন তখন তারা তার অবাধ্যতা করে আল্লাহর আযাবে ধ্বংস হয়। এর বিস্তারিত বর্ণনা কুরআন শরীফে রয়েছে। আদের পর আবীল আমালিকা, ছামুদ, আবদে যাখাম প্রভৃতি কবীলা রাজত্ব করে। অবশেষে ইয়ারিব ইব্ন কাহ্তান এদেরকে উৎখাত করে নতুন এক যুগের সূচনা করেন। ছামূদ গোত্র বা ছামূদ জাতির প্রতি নবী হয়ে আসেন হযরত সালিহ আলায়হিস সালাম। ছামূদ জাতির বাস ছিল হাজর এলাকায়। তাসাম এবং জাদীস কবীলাদ্বয়ের বাস ছিল ইয়ামামায়, আমালিকারা বাস করতো তিহামায়। জুরহাম গোত্র থাকতো ইয়ামানে। ইতিহাসে বলা হয়েছে যে, আরবের সকল গোত্রই হযরত নূহ (আ)-এর পুত্র সামের বংশধর। তাই এ গোত্রগুলোর পারস্পরিক সম্পর্ক সুস্পষ্টভাবে অনুধাবনের জন্যে ৫৪ নং পৃষ্ঠায় এদের বংশপঞ্জির রেখা সন্নিবেশিত হলো :