hadith book logo

ইসলামের ইতিহাস ১ম খণ্ড

লেখকঃ মাওলানা আকবর শাহ খান নজিববাদী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৪৩৪

বিষ প্রয়োগের কলাকাহিনী

হিজরী ৫০ অথবা ৫১ সনে ইমাম হাসান (রা) ইনতিকাল করেন। সাধারণভাবে বলা হয়ে থাকে যে, তাঁকে তাঁর স্ত্রী জা‘দা বিনতুল আশআছ বিষ প্রয়োগ করেছিলেন। কিন্তু যেখানে স্বয়ং হাসান ও হুসায়ন (রা)-ও নিশ্চিতভাবে জানতে পারেন নি, কে এবং কেন তাকে বিষ পান করিয়েছে সেখান শত শত বছর পর কাউকে এজন্য নিশ্চিতভাবে অভিযুক্ত করার কোন যুক্তি থাকতে পারে না।

মৃত্যুশয্যায় ইমাম হাসান (রা) ইমাম হুসায়ন (রা)-কে বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ)-এর পর হযরত আলী (রা) পর্যন্ত খিলাফত এসে পৌঁছেছে, খাপ থেকে তরবারি বের হয়ে পড়েছে এবং এভাবে ব্যাপারটি চূড়ান্ত রূপ ধারণ করেছে। এখন আমি ভালো করেই জানি যে, নবুওয়াত ও খিলাফত আমাদের বংশে একত্রিত হতে পারবে না। আমার এ আশংকাও রয়েছে যে, কূফার নির্বোধরা তোমাকে এখান থেকে বের করার চেষ্টা করবে। তুমি তাদের ধোঁকায় পড়ো না। আমি হযরত আয়িশা সিদ্দিকা (রা)-কে বলছিলাম যেন তিনি আমাকে রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর পাশে সমাধিস্থ হওয়ার অনুমতি দেন। তখন তো তিনি রাযী হয়েছিলেন। এখন লোকেরা বলছে, তুমি যখন তাকে এ সম্পর্কে বলবে তখন তিনি রাযী হবেন না। কিন্তু আমার পরে তুমি অবশ্যই তাকে এ সম্পর্কে বলবে। যদি তিনি অনুমতি না দেন তবে তুমি এ ব্যাপারে বাড়াবাড়ি করবে না। ইমাম হাসান (রা)-এর ইনতিকালের পর ইমাম হুসায়ন (রা) আয়িশা (রা)-কে এ ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, আমি এতে সম্পূর্ণ রাযী আছি। কিন্তু তিনি রাযী হয়েছেন জানতে পেরে মারওয়ান এ ব্যাপারে প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি করেন। হুসায়ন (রা) ও তার সঙ্গীরা অস্ত্রসজ্জিত হয়ে মারওয়ানকে শায়েস্তা করার জন্য রওয়ানা হন। কিন্তু আবূ হুরায়রা (রা) হুসায়ন (রা)-কে অনেক বুঝিয়ে রক্তপাতের সংকল্প থেকে বিরত রাখেন। শেষ পর্যন্ত ইমাম হাসান (রা)-কে তার মহিয়সী মাতা হযরত ফাতিমা (রা)-এর পাশে দাফন করা হয়। হাসান (রা)-এর নয় পুত্র ও ছয় কন্যাসহ সর্বমোট পনের জন সন্তান ছিল।