১
ইসলামের ইতিহাস ১ম খণ্ড
লেখকঃ মাওলানা আকবর শাহ খান নজিববাদী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৩০৯
মাদায়েন বিজয়
মুসলিম বাহিনী সেখানে পৌঁছার আগেই ইয়ায্দেজিরদ মাদায়েন থেকে আপন পরিবার-পরিজন ও ধনরত্ন অন্যত্র সরিয়ে ফেলার যাবতীয় ব্যবস্থা অবলম্বন করেছিলেন। এতদসত্ত্বেও কাসরে আবইয়ায (শ্বেতপ্রাসাদ) এবং রাজধানীতে প্রচুর ধনসম্পদ রয়ে গিয়েছিল। ইসলামী বাহিনীর নদী পাড়ি দেবার খবর পেয়ে ইয়ায্দেজিরদ মাদায়েন ছেড়ে পালিয়ে যান। মুসলমানগণ চতুর্দিক থেকে শহরে প্রবেশ করতে শুরু করে। মুসলমানদের পৌঁছার পূর্বেই শহরের অধিবাসীরা রাজপ্রাসাদ লুট করতে শুরু করেছিল। হযরত সা‘দ (রা) যখন কাসরে আব্ইয়ায়েয় প্রবেশ করেন, তখন আপনা আপনি তার মুখ থেকে নিম্নের আয়াতে কারীমা বেরিয়ে আসে :
كَمْ تَرَكُوا مِنْ جَنَّاتٍ وَعُيُونٍ . وَزُرُوعٍ وَمَقَامٍ كَرِيمٍ . وَنَعْمَةٍ كَانُوا فِيهَا فَاكِهِينَ . كَذَٰلِكَ ۖ وَأَوْرَثْنَاهَا قَوْمًا آخَرِينَ .
ওরা পশ্চাতে রেখে গিয়েছিল কত উদ্যান ও প্রস্রবণ, কত শস্যক্ষেত্র ও সুরম্য প্রাসাদ, কত বিলাস-উপকরণ, যা ওদেরকে আনন্দ দিত। এরূপই ঘটেছিল এবং আমি এ সমুদয়ের উত্তরাধিকারী করছিলাম ভিন্ন সম্প্রদায়কে। (৪৪ : ২৫-২৮)
হযরত সা‘দ (রা) সেখানেই এক সালামের সাথে আট রাকাআত ‘সালাতুল ফাতহ’ (বিজয় উপলক্ষে শুকরিয়া নামায) আদায় করেন। ঐ দিন ছিল শুক্রবার। কাসরে আব্ইয়াযের যে জায়গায় কিসরার (ইরানের শাহানশাহের) সিংহাসন ছিল সেখানে মিম্বর স্থাপন করা হয় এবং প্রাসাদের ভিতরেই জুমুআর সালাত আদায় করা হয়। এটাই ছিল ইরানের রাজধানীতে প্রথম জুমুআর সালাত আদায়। ঐ প্রাসাদে যে সমস্ত ছবি ও মূর্তি ছিল তা অবিকল সেই অবস্থায়ই রেখে দেওয়া হয়। হযরত সা‘দ (রা) সেগুলোকে ভাঙ্গাননি বা অন্যত্র সরিয়েও ফেলেননি। “ইকামা (অবস্থান)-এর নিয়্যত থাকায় নামাযের মধ্যে ‘কসর’ (সংক্ষিপ্তকরণ)-ও করা হয়নি। ইরানীদের পশ্চাদ্ধাবন করার জন্য যুহরা ইব্ন হাইওয়াকে নদীর তীরবর্তী অঞ্চলে পাঠানো হয়। মালে গনীমত একত্র করার কাজে হযরত আমর ইব্ন মুকাররিন (রা)-কে এবং তা বন্টনের কাজে সুলায়মান ইব্ন রাবী‘আ বাহিনীকে নিয়োগ করা হয়। হীরা-জহরতের মূর্তি, কিসরার রাজকীয় পোশাক, মণি-মাণিক্য-খচিত রাজমকুট, বর্ম এবং এ ধরনের আরো অনেক জিনিস মুসলমানগণ ঐ সমস্ত লোকদের হাত থেকে ছিনিয়ে নেয় যারা রাজপ্রাসাদ থেকে সেগুলো নিয়ে ছুটে পালাচ্ছিল। রাজপ্রাসাদের ভাণ্ডারে ও যাদুঘরে খাকানে চীন (চীন সম্রাট) কায়সারে রূম (রূম সম্রাট), দাহির শাহ্ (সিন্ধুর রাজা), বাহরাম গোর, নু‘মান ইব্ন মুনযীর, কিসরা (পারস্য সম্রাট) হরমুয, ফিরূয প্রমুখ রাজা-বাদশাহদের ব্যক্তিগত বর্ম, তরবারি ও খঞ্জর পাওয়া যায়। পুরাতাত্ত্বিক বস্তু হিসাবে শাহীভাণ্ডারে সেগুলো সংরক্ষিত হয়ে আসছিল এবং ইরানীরা তা নিয়ে গর্বোবোধ করত। যাহোক, এসব জিনিস সংরক্ষণের ব্যবস্থা করে হযরত সা‘দ ইব্ন আবূ ওয়াক্কাস (রা) ও হযরত কা‘কা‘ (রা) রূম-সম্রাট হিরাক্লিয়াসের তরবারিটি উঠিয়ে নেন। তারপর হযরত সা‘দ (রা) নিজের পক্ষ থেকে হযরত কা‘কা‘ (রা)-কে বাদশাহ ‘বাহরাম গোর’-এর বর্মটিও দান করেন।
হযরত সা‘দ (রা) ‘খুমুস’ (মালে গনীমতের এক-পঞ্চমাংশ যা রাষ্ট্রের জন্য নির্ধারিত) ছাড়াও দরবারে খিলাফতে প্রেরণ করেন দুষ্প্রাপ্য বস্তুরাজি। কিসরার ‘বাহার’ নামক একটি শয্যা ছিল ঐ সমস্ত বস্তুর অন্যতম। শয্যাটির দৈর্ঘ্য ছিল নব্বই গজ এবং প্রস্থ ছিল দশ গজ। তাতে ফুল, পাতা, কালি, গাছ, নদীসহ অনেক ধরনের প্রতিকৃতি শোভা পাচ্ছিল এবং সবগুলোই ছিল স্বর্ণ, রৌপ্য ও হীরা জহরতের তৈরী। বসন্ত বিদায় অনুষ্ঠানে বাদশাহ এ শয্যার উপর বসে মদ্যপান করতেন। যখন ঐ সমস্ত জিনিস মদীনা শরীফে গিয়ে পৌঁছে তখন তা দেখে জনসাধারণের বিস্ময়ের অবধি ছিল না। হযরত ফারূকে আযম (রা) যাবতীয় দ্রব্য জনসাধারণের মধ্যে বন্টন করে দেন। শাহী শয্যা সম্পর্কে সাধারণ অভিমত এ ছিল যে, তা বন্টন না করে যেন অক্ষত অবস্থায় রেখে দেওয়া হয়। কিন্তু হযরত আলী (রা) দৃঢ়কণ্ঠে বলে উঠেন : না, এটাকেও বন্টন করা উচিত। কাজেই ফারূকে আযম (রা) হযরত আলী (রা)-এর মতানুযায়ী তা কেটে টুকরো টুকরো করে জনসাধারণের মধ্যে বণ্টন করে দেন। হযরত আলী (রা)-এর ভাগে যে টুকরাটি পড়েছিল তা খুব আকর্ষণীয় না হলেও তিনি তা ত্রিশ হাজার দীনারে বিক্রি করেছিলেন।
كَمْ تَرَكُوا مِنْ جَنَّاتٍ وَعُيُونٍ . وَزُرُوعٍ وَمَقَامٍ كَرِيمٍ . وَنَعْمَةٍ كَانُوا فِيهَا فَاكِهِينَ . كَذَٰلِكَ ۖ وَأَوْرَثْنَاهَا قَوْمًا آخَرِينَ .
ওরা পশ্চাতে রেখে গিয়েছিল কত উদ্যান ও প্রস্রবণ, কত শস্যক্ষেত্র ও সুরম্য প্রাসাদ, কত বিলাস-উপকরণ, যা ওদেরকে আনন্দ দিত। এরূপই ঘটেছিল এবং আমি এ সমুদয়ের উত্তরাধিকারী করছিলাম ভিন্ন সম্প্রদায়কে। (৪৪ : ২৫-২৮)
হযরত সা‘দ (রা) সেখানেই এক সালামের সাথে আট রাকাআত ‘সালাতুল ফাতহ’ (বিজয় উপলক্ষে শুকরিয়া নামায) আদায় করেন। ঐ দিন ছিল শুক্রবার। কাসরে আব্ইয়াযের যে জায়গায় কিসরার (ইরানের শাহানশাহের) সিংহাসন ছিল সেখানে মিম্বর স্থাপন করা হয় এবং প্রাসাদের ভিতরেই জুমুআর সালাত আদায় করা হয়। এটাই ছিল ইরানের রাজধানীতে প্রথম জুমুআর সালাত আদায়। ঐ প্রাসাদে যে সমস্ত ছবি ও মূর্তি ছিল তা অবিকল সেই অবস্থায়ই রেখে দেওয়া হয়। হযরত সা‘দ (রা) সেগুলোকে ভাঙ্গাননি বা অন্যত্র সরিয়েও ফেলেননি। “ইকামা (অবস্থান)-এর নিয়্যত থাকায় নামাযের মধ্যে ‘কসর’ (সংক্ষিপ্তকরণ)-ও করা হয়নি। ইরানীদের পশ্চাদ্ধাবন করার জন্য যুহরা ইব্ন হাইওয়াকে নদীর তীরবর্তী অঞ্চলে পাঠানো হয়। মালে গনীমত একত্র করার কাজে হযরত আমর ইব্ন মুকাররিন (রা)-কে এবং তা বন্টনের কাজে সুলায়মান ইব্ন রাবী‘আ বাহিনীকে নিয়োগ করা হয়। হীরা-জহরতের মূর্তি, কিসরার রাজকীয় পোশাক, মণি-মাণিক্য-খচিত রাজমকুট, বর্ম এবং এ ধরনের আরো অনেক জিনিস মুসলমানগণ ঐ সমস্ত লোকদের হাত থেকে ছিনিয়ে নেয় যারা রাজপ্রাসাদ থেকে সেগুলো নিয়ে ছুটে পালাচ্ছিল। রাজপ্রাসাদের ভাণ্ডারে ও যাদুঘরে খাকানে চীন (চীন সম্রাট) কায়সারে রূম (রূম সম্রাট), দাহির শাহ্ (সিন্ধুর রাজা), বাহরাম গোর, নু‘মান ইব্ন মুনযীর, কিসরা (পারস্য সম্রাট) হরমুয, ফিরূয প্রমুখ রাজা-বাদশাহদের ব্যক্তিগত বর্ম, তরবারি ও খঞ্জর পাওয়া যায়। পুরাতাত্ত্বিক বস্তু হিসাবে শাহীভাণ্ডারে সেগুলো সংরক্ষিত হয়ে আসছিল এবং ইরানীরা তা নিয়ে গর্বোবোধ করত। যাহোক, এসব জিনিস সংরক্ষণের ব্যবস্থা করে হযরত সা‘দ ইব্ন আবূ ওয়াক্কাস (রা) ও হযরত কা‘কা‘ (রা) রূম-সম্রাট হিরাক্লিয়াসের তরবারিটি উঠিয়ে নেন। তারপর হযরত সা‘দ (রা) নিজের পক্ষ থেকে হযরত কা‘কা‘ (রা)-কে বাদশাহ ‘বাহরাম গোর’-এর বর্মটিও দান করেন।
হযরত সা‘দ (রা) ‘খুমুস’ (মালে গনীমতের এক-পঞ্চমাংশ যা রাষ্ট্রের জন্য নির্ধারিত) ছাড়াও দরবারে খিলাফতে প্রেরণ করেন দুষ্প্রাপ্য বস্তুরাজি। কিসরার ‘বাহার’ নামক একটি শয্যা ছিল ঐ সমস্ত বস্তুর অন্যতম। শয্যাটির দৈর্ঘ্য ছিল নব্বই গজ এবং প্রস্থ ছিল দশ গজ। তাতে ফুল, পাতা, কালি, গাছ, নদীসহ অনেক ধরনের প্রতিকৃতি শোভা পাচ্ছিল এবং সবগুলোই ছিল স্বর্ণ, রৌপ্য ও হীরা জহরতের তৈরী। বসন্ত বিদায় অনুষ্ঠানে বাদশাহ এ শয্যার উপর বসে মদ্যপান করতেন। যখন ঐ সমস্ত জিনিস মদীনা শরীফে গিয়ে পৌঁছে তখন তা দেখে জনসাধারণের বিস্ময়ের অবধি ছিল না। হযরত ফারূকে আযম (রা) যাবতীয় দ্রব্য জনসাধারণের মধ্যে বন্টন করে দেন। শাহী শয্যা সম্পর্কে সাধারণ অভিমত এ ছিল যে, তা বন্টন না করে যেন অক্ষত অবস্থায় রেখে দেওয়া হয়। কিন্তু হযরত আলী (রা) দৃঢ়কণ্ঠে বলে উঠেন : না, এটাকেও বন্টন করা উচিত। কাজেই ফারূকে আযম (রা) হযরত আলী (রা)-এর মতানুযায়ী তা কেটে টুকরো টুকরো করে জনসাধারণের মধ্যে বণ্টন করে দেন। হযরত আলী (রা)-এর ভাগে যে টুকরাটি পড়েছিল তা খুব আকর্ষণীয় না হলেও তিনি তা ত্রিশ হাজার দীনারে বিক্রি করেছিলেন।