hadith book logo

ইসলামের ইতিহাস ১ম খণ্ড

লেখকঃ মাওলানা আকবর শাহ খান নজিববাদী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৩৪

আরবে ‘আরিবা

এরা কাহ্তানের বংশধর বলে গণ্য হন। কাহ্‌তানের পূর্ববর্তী নূহ (আ) পর্যন্ত এ বংশের কেউই আরবী ভাষী ছিলেন না। কাহ্‌তানের অধঃস্তন বংশধররাই সর্বপ্রথম আরবী ভাষায় কথা বলতে শুরু করেন। আর এ ভাষা তারা শিখেছিলেন আরবে বায়িদা থেকে। কাহ্তানের বংশধররা দু’ভাগে বিভক্ত :১. ইয়ামিনিয়া ও ২. সাবাইয়া।

কাহ্‌তানের বংশপঞ্জি নিয়ে পণ্ডিতদের মধ্যে অনেক মতভেদ রয়েছে। কেউ বলেছেন ইনি আবির ইব্‌ন শালিখ ইব্‌ন আরাফাখশাদ ইব্‌ন সাম ইব্‌ন নূহ-এর পুত্র এবং ফালিগ ও ইয়াকতানের ভাই ছিলেন। কিন্তু তাওরাতে তার কোন উল্লেখ নেই। অবশ্য ফালিগ ও ইয়াকতানের উল্লেখ তাওরাতে রয়েছে। কারো কারো ধারণা কাহ্‌তান ইয়াকতানেরই আরবী রূপ। অন্য কথায় যাকে ইয়াকতান বলা হযেছে তিনিই কাহ্‌তান। কারো কারো ধারণা, ইয়ামান ইব্‌ন কীদার ইব্‌ন ইসমাঈল (আ)-এর পুত্র ছিলেন কাহ্‌তান। ইব্‌ন হিশাম বলেন, ইয়ারিব ইব্‌ন কাহ্‌তানকে ইয়ামানও বলা হতো এবং তাঁরই নামানুসার ইয়ামান দেশের নামকরণ করা হয়েছে। কাহ্‌তান যদি ইসমাঈল (আ)-এর বংশধর সাব্যস্ত হন, তাহলে গোটা আরবের অধিবাসীরা ইসমাঈল (আ)-এর বংশধর প্রতিপন্ন হন। কেননা, আদনান এবং কাহ্‌তান এ দু’জনই আরব জাতির আদি বংশধর। কিন্তু গবেষণা দ্বারা প্রতীয়মান হয় এবং এটা অধিকতর গ্রহণযোগ্য অভিমত যে, কাহ্‌তান এবং ইয়াকতান অভিন্ন ব্যক্তি। আর কাহ্‌তান ইসমাঈল বংশীয় নয়। আরব দেশে আরিবা বা কাহ্‌তানী বংশের বেশ কয়েকজন বড় বড় বাদশাহ হয়েছেন-গোটা আরব উপদ্বীপ জুড়ে যাদের রাজত্ব ছিল। কাহ্তানের পুত্র ইয়ারিব আরবে বায়িদার শেষ চিহ্নটুকু পর্যন্ত বিলুপ্ত করে দেন এবং তাদের গোটা বংশকে নিশ্চিহ্ন করে দেন। বনী কাহ্‌তানের সংক্ষিপ্ত কুলপঞ্জি ৫১ নং পৃষ্ঠায় সন্নিবেশিত করা হলো।