hadith book logo

ইসলামের ইতিহাস ১ম খণ্ড

লেখকঃ মাওলানা আকবর শাহ খান নজিববাদী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ২৮

ইতিহাস ও ভূগোলের পারস্পরিক সম্পর্ক

ইতিহাসের সাথে নিঃসন্দেহে ভূগোলের একটা ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। তাই সাম্প্রতিক কালে ইউরোপীয়ান ঐতিহাসিকদের অনুসরণে যেসব ইতিহাসগ্রন্থ লিখিত হয়েছে সেগুলোতে ইতিহাসের সাথে ভূগোলও জুড়ে দেয়া হয়েছে। হুযূর (সাঃ)-এর সীরাত রচয়িতাগণও আরবদেশের ভূগোলের ব্যাখ্যা প্রদান প্রতিপাদ্য বিষয়ের বুঝবার সুবিধার্থে সন্নিবেশিত করাকে জরুরী জ্ঞান করে থাকেন। কিন্তু আমি যেহেতু ইসলামের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস লিখতে মনস্থ করেছি তাই ভাবলাম আমি যদি এর সাথে ভূগোলও জুড়ে দেই তাহলে গোটা বিশ্বের ভূগোলই তাতে সন্নিবেশিত করতে হবে। কেননা, মুসলমান এবং তাদের রাজত্ব প্রায় গোটা বিশ্বের সাথে সম্পর্কিত। সংক্ষেপে তা গ্রন্থবদ্ধ করা সুকঠিন ব্যাপার। তাই আমাকে এ সুধারণারই আশ্রয় নিতে হয়েছে যে, এ গ্রন্থের পাঠক নিশ্চয়ই ভূগোল সম্পর্কে সম্যক ওয়াকিফহাল এবং পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের মানচিত্র নিশ্চয়ই তাদের হাতের কাছে মওজুদ আছে তারা তা জোগাড় করে নিতে পারবেন। তবুও ইচ্ছা আছে স্থানে স্থানে কোন কোন দেশ ও প্রদেশের মানচিত্র সন্নিবেশিত করে দেব। জাহিলিয়াতের যুগ, আরবের বিভিন্ন জাতি, যেমন কুরায়শ, জাহিলিয়া যুগের প্রথা-পদ্ধতি প্রভৃতি ব্যাপারও এ গ্রন্থে ততো বিস্তারিত আলোচিত হবে না।

হুযূর (সাঃ)-এর জীবনী প্রণয়নে আমি সর্বাধিক নির্ভর করেছি হাদীসের প্রখ্যাত ছয়খানি গ্রন্থ সিহাহ সিত্তাহর উপর। হাদীসের কিতাবসমূহকে এ ব্যাপারে ইতিহাস গ্রন্থসমূহের উপর প্রাধান্য দেয়া হয়েছে। ইতিহাস গ্রন্থসমূহের মধ্যে তারীখে তাবারী, তারীখুল কামিল, ইব্‌ন আসীর, তারীখে মাসউদী, তারীখে ইব্‌ন খালদূন, তারীখুল খুলাফা, সুয়ূতী প্রভৃতি গ্রন্থের মধ্যে সাধারণভাবে যা বিবৃত হয়েছে তা-ই লিপিবদ্ধ করেছি এবং এভাবে ইতিহাসের সর্বোত্তম সারবস্তু লিখে দিয়েছি। আব্বাসী খিলাফতের দুর্বলতা ও পতনের সূচনাতে যেসব দেশে ইসলামী রাষ্ট্র কায়েম হয়েছে, সেসবের পৃথক পৃথকভাবে সমসাময়িক যুগের ঐতিহাসিকদের গ্রন্থাদি থেকে লিখে দিয়েছি। কোন কোন স্থানে খ্রিস্টান ঐতিহাসিকদের বরাত দিয়েছি এবং তাদের হুবহু পাঠও উদ্ধৃত করে দিয়েছি। কিন্তু তা কেবল প্রতিপাদ্য বিষয়ের সত্যতা প্রতিপন্ন করার জন্যে সাক্ষ্য স্বরূপই উদ্ধৃত করেছি। সাধারণভাবে আমার বিশ্বাস, খ্রিস্টান ঐতিহাসিকদের লিখিত ইতিহাস গ্রন্থাদি মুসলমান ঐতিহাসিকদের গ্রন্থাদির তুলনায় নেহাতই মামুলী ও ভাসাভাসা ধরনের। আমাদেরকে প্রকৃত সত্য উদ্ধারের এবং মনের সান্ত্বনা খোঁজার জন্য তাদের দিকে তাকানো আদৌ উচিত হবে না। কেননা, খ্রিস্টান ঐতিহাসিক মাত্রই রিওয়ায়াত বা বর্ণনার বিশুদ্ধতার ব্যাপারে অত্যন্ত বেপরোয়া এবং সীমাহীন অসতর্ক প্রতিপন্ন হয়েছেন। অপরদিকে তারা সমস্ত মেধা ও যোগ্যতাকে সিদ্ধান্ত প্রদানে ব্যয়িত করে ইতিহাসকে উপন্যাস ও কল্পকাহিনীতে পর্যবসিত করতেই ব্যস্ত থাকেন। মুসলমান ঐতিহাসিকগণ আল্লাহর ফযলে এ প্রবণতা থেকে অনেকাংশেই মুক্ত। আর এজন্যেই তারা বিশ্বস্ত সাক্ষ্যের মত আমাদেরকে অনেকটা সহায়তা প্রদান করতে পারেন।

এ ইতিহাস গ্রন্থখানি দ্বারা মুসলিম পাঠকগণ কিভাবে উপকৃত হবেন এবং এতে কোন্ কোন অংশ একটু মনোনিবেশ সহকারে অধ্যয়ন করতে হবে এবন্বিধ অনেক জরুরী ব্যাপারে পাঠক ধারণা অর্জন করতে পারবেন, যা পুস্তকটির উপসংহারে লিপিবদ্ধ করার ইচ্ছা রইলো। আল্লাহই তাওফীক দাতা।