hadith book logo

ইসলামের ইতিহাস ১ম খণ্ড

লেখকঃ মাওলানা আকবর শাহ খান নজিববাদী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৩১৮

হযরত ফারূকে আযমের ফিলিস্তীন সফর

এক থলে ছাতু, একটি উট, একজন ভৃত্য ও একটি কাঠের পেয়ালা সঙ্গে নিয়ে হযরত ফারূকে আযম (রা) ফিলিস্তীনের দিকে রওয়ানা হন। হযরত উসমান গনী (রা)-কে তিনি মদীনা শরীফে তাঁর প্রতিনিধি নিয়োগ করে যান। তার এ সফরের আড়ম্বরহীনতা ও কষ্টসহিষ্ণতার কথা ইতিহাস-খ্যাত। কখনো ভৃত্য উটের রশি ধরে পথ চলত এবং ফারূকে আযম (রা) উটের উপর সওয়ার হতেন। আবার কখনো ভৃত্য উটের উপর সওয়ার হত এবং স্বয়ং হযরত ফারূকে আযম (রা) উটের রশি ধরে হেঁটে চলতেন। এ ছিল সেই পরাক্রমশালী মহান বাদশাহর সফর, যাঁর সেনাবাহিনীর ঘোড়ার ক্ষুরের নীচে অতি সম্প্রতি কায়সার ও কিসরার রাজপ্রাসাদ, রাজসিংহাসন এবং রাজমুকুট দলিত-মথিত হয়েছে। হিজরী ১৬ সনের রজব মাসে হযরত ফারূকে আযম (রা)-এর এ সফর শুরু হয়। এর কিছুদিন পূর্বেই মুসলিম বাহিনী মাদায়েন ও ইনতাকিয়া দখল করেছিল। সফরে রওয়ানা হওয়ার পূর্বেই তিনি এ সম্পর্কে দামিশ্‌ক্ ও বায়তুল মুকাদ্দাসে অবস্থানরত মুসলিম বাহিনীর সেনাপতিদেরকে অবহিত করেন। বায়তুল-মুকাদ্দাসে পৌঁছার পর সর্বপ্রথম হযরত ইয়াযীদ ইব্‌ন আবূ সুফিয়ান (রা), তারপর হযরত আবূ উবায়দা ইব্‌ন জাররাহ্ (রা), তারপর হযরত খালিদ ইব্‌ন ওয়ালীদ (রা) তাঁকে অভ্যর্থনা জানান। সুন্দর ও আকর্ষণীয় পোশাক পরিহিত অবস্থায় এসব নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিকে দেখে তিনি যারপরনাই বিচলিত ও রাগান্বিত হন এবং বলে উঠেন : তোমরা দেখছি মাত্র দু’বছরের মধ্যেই অনারবদের সব ঠাট্‌বাট্ গ্রহণ করে নিয়েছ। কিন্তু যখন নেতৃবৃন্দ বললেন, আমাদের এ জাঁকজমকপূর্ণ ঢিলা জামার নীচে যুদ্ধাস্ত্র লুক্কায়িত রয়েছে, অন্যথায় আমরা আরব চরিত্রের উপরই কায়েম আছি, তখন তিনি আশ্বস্ত হন।