hadith book logo

ইসলামের ইতিহাস ১ম খণ্ড

লেখকঃ মাওলানা আকবর শাহ খান নজিববাদী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৩৬৮

হযরত আবূ আইয়ুব আনসারী (রা)-এর ইমামতি

হযরত উসমান গনী (রা) যখন মসজিদে আসতে সক্ষম হলেন না, তখন নামাযের ইমামতির জন্য তিনি হযরত আবূ আইয়ুব (রা)-কে নিযুক্ত করেন। কিন্তু কিছুদিন পর বিক্ষোভকারীদের নেতা সাফিকী ইব্‌ন হারব মক্কী নিজেই ইমামতি করতে শুরু করে। মিসরে মুহাম্মদ ইব্‌ন আবূ বকর (রা) যেমন হযরত উসমান গনী (রা)-এর বিরুদ্ধে প্রোপাগাণ্ডা চালাচ্ছিলেন তেমনি প্রোপাগাণ্ডা চালাচ্ছিলেন উসমান ইব্‌ন হুযায়ফাও। মিসর থেকে আবদুর রহমান ইব্‌ন আদীসের নেতৃত্বে যে কাফেলাটি মদীনা শরীফ অভিমুখে রওয়ানা হয়েছিল, মুহাম্মদ ইব্‌ন আবূ বকর (রা) সে কাফেলার সাথে মদীনা শরীফে এসে পৌঁছেন, কিন্তু মুহাম্মদ ইব্‌ন হুযায়ফা মিসরেই রয়ে গিয়েছিলেন। হযরত উসমান গনী (রা)-এর অবরুদ্ধ হওয়ার সংবাদ যখন মিসরে পৌঁছল, তখন খোদ আবদুল্লাহ ইব্‌ন সা‘দ (রা) একদল লোক নিয়ে মদীনা শরীফ অভিমুখে রওয়ানা হন। যখন তিনি রামাল্লায় পৌঁছেন তখন খবর আসে যে, মুহাম্মদ ইব্‌ন হুযায়ফা মিসর দখল করে নিয়েছেন। তাই আবদুল্লাহ ইব্‌ন সা‘দ (রা) সেখান থেকেই মিসরের দিকে ফিরে যান। যখন তিনি ফিলিস্তীনে পৌঁছেন, তখন খবর পান যে, হযরত উসমান গনী (রা) শাহাদত বরণ করেছেন। এদিকে হযরত উসমান গনী (রা)-এর বাড়ি ৪০ দিন পর্যন্ত অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। ঐ সময় হযরত আলী (রা) কয়েকবারই হযরত উসমান গনী (রা)-এর সাথে দেখা করেন। বিক্ষোভকারীদের বুঝিয়ে সুজিয়ে নিজ নিজ এলাকায় ফেরত পাঠাবার জন্যও তিনি আপ্রাণ চেষ্টা করেন। কিন্তু হযরত উসমান গনী (রা)-এর মীর মুনশী (মুখ্য সচিব) মারওয়ান ইব্‌ন হাকাম, সে আত্মীয়তায় উসমান গনী (রা)-এর চাচাত ভাইও ছিল, হযরত আলী ও বনূ হাশিমের অন্যান্য নেতাকে আপন অশিষ্ট আচরণ দ্বারা বার বার অসন্তুষ্ট ও ত্যক্ত-বিরক্ত করে তুলতে থাকে। বেশ কয়েকবার হযরত উসমান গনী (রা) আপন সদিচ্ছা ও সদাচরণ দ্বারা বিগড়ে যাওয়া পরিস্থিতিকে শুধরে নেন এবং কুরায়শ ও আনসার নেতৃবৃন্দের সহানুভূতি লাভ সক্ষম হন। কিন্তু পর মুহূর্তেই মারওয়ান ইব্‌ন হাকাম আপন লাগামহীন কথাবার্তা দ্বারা পরিস্থিতিকে নিয়ন্ত্রণের বাইরে ঠেলে দিতে থাকে।