hadith book logo

ইসলামের ইতিহাস ১ম খণ্ড

লেখকঃ মাওলানা আকবর শাহ খান নজিববাদী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৩৯২

সম্মুখসমরের আয়োজন

হযরত আয়িশা (রা) তার বাহিনী নিয়ে ‘মারুর’ নামক স্থানে উপনীত হলে উসমান ইব্‌ন হুনায়ফ তার বাহিনী নিয়ে বসরা থেকে বের হন এবং সম্মুখযুদ্ধের জন্য তাদেরকে সারিবদ্ধ করেন। হযরত আয়িশা (রা)-এর ডান পাশের বাহিনীর অধিনায়কত্বে ছিলেন হযরত তালহা (রা) এবং বাম পাশের বাহিনীর অধিনায়কত্বে ছিলেন হযরত যুবায়র (রা)। যখন উভয় বাহিনী একে অন্যের মুখোমুখি হয়ে দাঁড়াল তখন প্রথমে ডান পাশের বাহিনী থেকে হযরত তালহা বের হন এবং আল্লাহর প্রশংসা ও রাসূলের উপর দরূদ পাঠ করার পর হযরত উসমান (রা)-এর গুণাবলী বর্ণনা করেন এবং তার হত্যার প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য সকলকে উৎসাহিত করেন। তারপর বাম পাশের বাহিনী থেকে হযরত যুবায়র বের হন এবং প্রকাশ্যে হযরত তালহা (রা)-এর বক্তৃতা সমর্থন করেন। এরপর হযরত উম্মুল মু’মিনীন সকলকে সম্বোধন করে বিভিন্ন উপদেশ দেন। উম্মুল মু’মিনীনের বক্তৃতা শুনে উসমান ইব্‌ন হুনায়ফের সৈন্যরা তৎক্ষণাৎ দু’দলে বিভক্ত হয়ে পড়ে। তাদের একদল তো উসমানের নেতৃত্বে যুদ্ধ করতে প্রস্তুত ছিল এবং অপর দল তালহা ও যুবায়র (রা)-এর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা অসমীচীন মনে করে। হযরত উম্মুল মু‘মিনীন এবং হযরত তালহা ও যুবায়র (রা) যখন দেখলেন, স্বয়ং উসমান বাহিনীর মধ্যে দলাদলি সৃষ্টি হয়েছে তখন তারা যুদ্ধক্ষেত্র থেকে ফিরে এসে নিজ নিজ তাঁবুতে অবস্থান করতে থাকেন। কিন্তু উসমান ইব্‌ন হুনায়ফ নিজ সৈন্যদের নিয়ে মুকাবিলার জন্য যুদ্ধক্ষেত্রে অবস্থান করেন। উপরন্তু তিনি জারিয়া ইব্‌ন কুদামিয়াকে উম্মুল মু’মিনীনের কাছে পাঠান! জারিয়া এসে বললো, হে উম্মুল মু’মিনীন! আপনার এই অভিশপ্ত উটে আরোহণ করে আগমনের চেয়ে উসমান গনী (রা)-এর হত্যাকাণ্ড বরং ভাল ছিল। আপনার জন্য আল্লাহ পর্দার যে নীতি নির্ধারণ করে দিয়েছেন আপনি তা ভঙ্গ করছেন। আপনি নিজের ইচ্ছায় এখানে এসে থাকলে অবিলম্বে মদীনায় ফিরে যান। আর কেউ জোর করে আপনাকে এখানে নিয়ে এসে থাকলে আল্লাহ্ তা‘আলার কাছে সাহায্য প্রার্থনা করুন এবং লোকদেরকে নিজ নিজ ঘরে ফিরে যাওয়ার আদেশ দিন। তার এই বক্তৃতা শেষ হয়নি এমনি সময় হাকীম ইব্‌ন জাবালা উম্মুল মু’মিনীনের বাহিনীর উপর হামলা করে বসে। উম্মুল মু’মিনীনের বাহিনী সে হামলা প্রতিরোধ করে। কিন্তু রাত ঘনিয়ে আসার কারণে সেদিনকার মত যুদ্ধ স্থগিত থাকে। পরদিন ভোর বেলা উভয় পক্ষের মধ্যে পুনরায় যুদ্ধ শুরু হয় এবং হাকীম ইব্‌ন জাবালা নিহত হয়। সংক্ষেপে বলতে গেলে, উসমান ইব্‌ন হুনায়ফ শেষ পর্যন্ত পরাজিত হন এবং বসরার উপর তালহা ও যুবায়র (রা)-এর আধিপত্য প্রতিষ্ঠিত হয়। উসমান ইব্‌ন হুনায়ফকে গ্রেফতার করে তালহা ও যুবায়র (রা)-এর কাছে নিয়ে আসা হলে তারা তা উম্মুল মু’মিনীনকে অবহিত করেন। উম্মুল মু’মিনীন উসমানকে ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশ দেন। উসমান সেখান থেকে ছাড়া পেয়ে হযরত আলী (রা)-এর সাথে সাক্ষাতের জন্য সোজা মদীনা রওয়ানা হন। বসরা হযরত তালহা, যুবায়র ও উম্মুল মু’মিনীন (রা)-এর দখলে চলে আসলেও সেখানে পক্ষ-বিপক্ষ শত্রু-মিত্র উভয় ধরনের লোকই বিদ্যমান ছিল।