hadith book logo

ইসলামের ইতিহাস ১ম খণ্ড

লেখকঃ মাওলানা আকবর শাহ খান নজিববাদী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ২৩৬

বীরত্ব

হযরত আলী (রা) একবার লোকদের প্রশ্ন করলেন, তোমাদের মতে বীরশ্রেষ্ঠ কোন্ ব্যক্তি? সবাই জবাব দিলো-আপনি। তিনি বললেন, আমি সর্বদা আমার সমপর্যায়ের জুড়ির সাথে লড়াই করি। এটা কোন বীরত্ব নয়। তোমরা বীরশ্রেষ্ঠ ব্যক্তির নাম বলো। সবাই বললো, আমরা জানি না। হযরত আলী (রা) বললেন, বীরশ্রেষ্ঠ হলেন হযরত আবূ বকর সিদ্দীক (রা)। বদর দিবসে আমরা রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর জন্য একটি ছাউনি বানিয়েছিলাম। আমরা জিজ্ঞেস করলাম, হযরত নবী করীম (সাঃ)-এর কাছে কে থাকবে? তার উপর মুশরিকদের হামলা কে প্রতিহত করবে? আল্লাহর কসম! আমাদের মধ্যে কেউ সাহস করলো না। কিন্তু আবূ বকর সিদ্দীক উলঙ্গ তরবারি নিয়ে দাঁড়িয়ে গেলেন এবং কাউকে তাঁর কাছে ঘেঁষতে দিলেন না। যে ব্যক্তিই নবী করীম (সাঃ)-এর উপর হামলা করেছে আবূ বকর সিদ্দীক তার উপর ঝাঁপিয়ে পড়েছেন।

একবার মক্কা মুআয্‌যামায় মুশরিকরা রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-কে হেঁচড়াতে লাগলো এবং বলতে লাগলো যে, তুমিই হচ্ছো সেই ব্যক্তি, যে এক খোদার প্রবক্তা। আল্লাহর কসম! কাফিরদের মুকাবিলা করার সাহস কারো হলো না। কিন্তু আবূ বকর সিদ্দীক (রা) এগিয়ে এলেন। তিনি কাফিরদের মারতে মারতে হটিয়ে দিচ্ছিলেন এবং বলছিলেন যে, হায় আফসোস! তোমরা এমন এক ব্যক্তিকে হত্যা করতে চাচ্ছ, যিনি বলছেন যে, আমার আল্লাহ্ এক ও একক। একথা বলে হযরত আলী (রা) কেঁদে ফেললেন এবং বললেন, এখন তোমরা বলো, ফিরাউনের স্ত্রী উত্তম মু’মিন, না আবূ বকর (রা)? কিন্তু লোকেরা যখন কোন উত্তর দিলো না, তখন তিনি বললেন, তোমরা জবাব দিচ্ছ না কেন? আল্লাহর কসম! আবূ বকরের এক মুহূর্ত তার হাযার মুহূর্ত অপেক্ষা উত্তম। তিনি তো ঈমান গোপন করে রেখেছিলেন, কিন্তু আবূ বকর (রা) ঈমান প্রকাশ করে দিয়েছেন।