১
ইসলামের ইতিহাস ১ম খণ্ড
লেখকঃ মাওলানা আকবর শাহ খান নজিববাদী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ১১৭
ইয়াছরিবের সৌভাগ্যবান ছয়জন
নবুওয়াতের একাদশ বর্ষের শেষ মাসের কথা। মদীনার আওস ও খাযরাজ গোত্রদ্বয়ের মধ্যকার সেই বিখ্যাত লড়াই যার প্রস্তুতি গ্রহণের নিমিত্ত বনী আশহাল গোত্রের প্রতিনিধিদল মক্কায় এসেছিলো—যা ইতিহাসে বুআছ যুদ্ধ নামে খ্যাত এবং যাতে গোত্রদ্বয়ের বড় বড় সর্দাররা নিহত হয়েছিল—তখন তা শেষ হয়েছে। কা‘বা ঘরে হজ্জের জন্যে আরবের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে লোক আসা তখন শুরু হয়ে গেছে। হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) ঐ সব কাফেলার কাছে গিয়ে গিয়ে ইসলামের দাওয়াত দিতেন। আবূ জাহেল, আবূ লাহাবরা-তার পিছু পিছু গিয়ে বহিরাগতদেরকে তাঁর কথায় কর্ণপাত করতে মানা করতো। দুষ্টদের এ দুষ্টামী থেকে বাঁচবার জন্যে হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) অধিকাংশ সময় রাতের অন্ধকারে দুই তিন মাইল পায়ে হেঁটে বহিরাগতদের তাঁবুতে গিয়ে পৌঁছতেন। তিনি তাদের কাছে বসতেন। মূর্তিপূজার অসারতা বর্ণনা করে তাদেরকে বোঝাতেন এবং তাওহীদ বা আল্লাহর একত্বের পানে তাদেরকে আহবান জানাতেন। এভাবে এক রাতে মক্কায় কয়েক মাইল দূরবর্তী আকাবা স্থানে তিনি কয়েকজন তীর্থযাত্রীকে আলাপ করতে শুনতে পেলেন। তিনি তাদের নিকটবর্তী হলেন। লক্ষ্য করলেন তারা ছয়জন। তিনি তাদের কাছে গিয়ে বসলেন। জিজ্ঞেস করে জানতে পেলেন যে, এরা ইয়াছরিব থেকে হজ্জ করতে এসেছেন। এরা খাযরাজ বংশের লোক। তিনি তাদেরকে ইসলামের দাওয়াত দিলেন। কুরআন শরীফের আয়াত তিলাওয়াত করে শোনালেন। তারা পরস্পরে মুখ চাওয়া-চাওয়ি শুরু করলেন এবং তৎক্ষণাৎ ঈমান আনয়ন করলেন। ইয়াছরিববাসীরা তখন প্রধানত দু’ভাগে বিভক্ত ছিল। এক ভাগ ছিল ইয়াহূদী, অন্যভাগে মূর্তিপূজারী মুশরিকরা। এ মুশরিকদের মধ্যে আওস ও খাযরাজ কবীলা দু’টি ছিলো অত্যন্ত শক্তিশালী ও মশহুর কবীলা।
এরা ইয়াহূদীদের মুখে শুনে আসছিলেন যে, একজন মহান নবীর আবির্ভাব হতে যাচ্ছে। তিনি সকলের উপর বিজয়ী হবেন। কথাগুলো যেহেতু আগে থেকেই তারা শুনে আসছিলেন তাই তাকে নবীরূপে বরণ করতে তারা আর দেরী করলেন না। সকলের আগে ভাগেই তারা ইসলাম গ্রহণ করলেন। এ ছ’জনের নাম হলো :
১. আবূ উমামা আসআদ ইব্ন যুরারা-(ইনি ছিলেন বনী নাজ্জারের লোক এবং ইনি রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর আত্মীয়ও ছিলেন। এদের মধ্যে ইনিই সর্বপ্রথম ইসলাম গ্রহণ করেন।)
২. আওফ ইব্ন হারিছ
৩. রাফি ইব্ন মালিক
৪. কুতবা ইব্ন আমির
৫. জাবির ইব্ন আবদুল্লাহ্
৬. উকবা ইব্ন ‘আমির ইব্ন নাবী
হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) উক্ত দু’জনের মধ্যে রাফি ইব্ন মালিককে ঐ পর্যন্ত নাযিলকৃত আয়াতসমূহের একটি লিখিত কপি প্রদান করলেন। ঐ ছোট্ট কাফেলাটি মুসলমান হয়ে ওখান থেকেই মদীনায় ফিরে গেলো। যাবার সময় তারা ওয়াদা করে যায় যে, নিজেদের গোত্রে গিয়ে তারা ইসলাম প্রচার করবেন। সত্যি সত্যি মদীনায় ফিরেই তারা ইসলাম প্রচারের কাজ শুরু করে দিলেন। মদীনার অলি-গলি ইসলামের আলোচনায় মুখর হয়ে উঠলো।
এরা ইয়াহূদীদের মুখে শুনে আসছিলেন যে, একজন মহান নবীর আবির্ভাব হতে যাচ্ছে। তিনি সকলের উপর বিজয়ী হবেন। কথাগুলো যেহেতু আগে থেকেই তারা শুনে আসছিলেন তাই তাকে নবীরূপে বরণ করতে তারা আর দেরী করলেন না। সকলের আগে ভাগেই তারা ইসলাম গ্রহণ করলেন। এ ছ’জনের নাম হলো :
১. আবূ উমামা আসআদ ইব্ন যুরারা-(ইনি ছিলেন বনী নাজ্জারের লোক এবং ইনি রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর আত্মীয়ও ছিলেন। এদের মধ্যে ইনিই সর্বপ্রথম ইসলাম গ্রহণ করেন।)
২. আওফ ইব্ন হারিছ
৩. রাফি ইব্ন মালিক
৪. কুতবা ইব্ন আমির
৫. জাবির ইব্ন আবদুল্লাহ্
৬. উকবা ইব্ন ‘আমির ইব্ন নাবী
হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) উক্ত দু’জনের মধ্যে রাফি ইব্ন মালিককে ঐ পর্যন্ত নাযিলকৃত আয়াতসমূহের একটি লিখিত কপি প্রদান করলেন। ঐ ছোট্ট কাফেলাটি মুসলমান হয়ে ওখান থেকেই মদীনায় ফিরে গেলো। যাবার সময় তারা ওয়াদা করে যায় যে, নিজেদের গোত্রে গিয়ে তারা ইসলাম প্রচার করবেন। সত্যি সত্যি মদীনায় ফিরেই তারা ইসলাম প্রচারের কাজ শুরু করে দিলেন। মদীনার অলি-গলি ইসলামের আলোচনায় মুখর হয়ে উঠলো।